hadith book logo

রাসূলের শানে সমসাময়িক ধৃষ্টতা আকার-প্রকৃতি ও নেপথ্য কাহিনী

লেখকঃ নাসের বিন সুলাইমান আল-উমর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

দ্বিতীয় প্রকার নমুনা : কর্মের মাধ্যমে ধৃষ্টতা

কর্মের মাধ্যমে রাসূল সা.-এর সাথে ধৃষ্টতা প্রদর্শনের রীতি অনেক পুরোনো। যার ধারাবাহিকতা অদ্যাবধি বিদ্যমান। নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ সমূহ থেকে জানা যায়, বহিঃরাষ্ট্রের কতিপয় পাপিষ্ঠ রাসূল সা.-এর রওজা থেকে তার দেহ মোবারক তুলে নেয়ার জন্য বার বার মদীনায় গুপ্ত অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের পরিকল্পনা, এ অভিযানে সফলতার মাধ্যমে মুসলমানদের একটি তীর্থস্থানের মালিক হওয়ার স্বপ্নপুরণ করা। ইমাম জাহাবী রহ. তারিখুল ইসলাম নামক গ্রন্থে বলেছেন : সালাউদ্দিন এমন একটি ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করার জন্য প্রাণপণ শপথ নিলেন। কোনভাবেই এ অবস্থান থেকে তিনি ফিরে এলেন না। তিনি মিশরের গভর্নর সাইফুদ্দৌলা বিন মুনকিজকে লিখে পাঠালেন, তুমি লুলু আল-হাজেবকে প্রস্ত্তত কর। সে তার সাথে পরামর্শ করল। লুলু আল-হাজেব বলল, ঠিক আছে, তাদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন, তিন-শর উপরে। তবে তারা সকলেই বীর যোদ্ধা।

সে তাদের সংখ্যা অনুপাতে রশি নিল। ষড়যন্ত্র কারীদের সাথে আরবের কতক মুরতাদও সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিল। যেখানে মাদীনা আর তাদের মাঝে মাত্র দিনের দূরত্ব সেখানেই লুলু তাদের পেয়ে গেল। আত্মসমর্পণের জন্য সম্পদের অফার দিলেন, এতেই কাজ হল। স্বর্ণের লোভে আরবের মুরতাদরা তার প্রস্তাবে সাড়া দিল। বিদেশীরা একটি পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিল। লুলু নয়জন লোকসহ পায়ে হেঁটে তাদের পর্যন্ত পৌঁছে গেল। ফলশ্রুতিতে অভিশপ্তদের বাহুবল ভেঙে যায় আর লুলুর মনোবল বৃদ্ধি পায়। অতঃপর সকলে লুলুর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। লুলু তাদেরকে পাকড়াও করে রশিতে বেধে কায়রোতে নিয়ে আসেন। অবশেষে ইসলামি আইনবিদ ফকিহ, নেককার ও সুফিগণ তাদের মৃত্যু দন্ড কার্যকর করেন।

এ ছাড়াও ঐতিহাসিকগণ আরো কয়েকবার রাসূলের দেহ মোবারক তুলে নেয়ার চক্রান্তের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন। রাফেজী সম্প্রদায় ভুক্ত বাতেনী ফিরকাও কয়েকবার এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

সমকালীন যুগে ডেনমার্কের কার্টুন অঙ্কনও তার একটি অংশ। তবে এটা প্রথম কোনো ঘটনা নয়। এর আগে আরব দেশের এক লেখক একটি কার্টুন ছেপে ছিল। যাতে সে রাসূল সা.-কে একটি মোরগের আকৃতি দিয়ে তার চার পাশে নয় টি মুরগির ছবি এঁকেছে ছিল। তার উপর সে লিখে ছিল : ‘‘মুহাম্মদ নয় জন স্ত্রীর কেন্দ্র বিন্দু।’’

তবে এটা ঠিক যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ডেনমার্কের সীমা লঙ্ঘন কারী কট্টর পন্থীরা যে দৃষ্টান্ত পেশ করেছে ইতিপূর্বে এমনটি কেউ পেশ করেনি। তারা নির্লজ্জভাবে রাসূলের উপর বিভিন্ন অপবাদ ও মিথ্যা-রোপ করেছে। শুধু এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা সে চিত্র ইন্টারনেটে পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছে। মুসলমানদের প্রতিবাদের মুখে তারা আরো নির্লজ্জতর পন্থা গ্রহণ করেছে। তারা এর ভিডিও সিডি তৈরি করেছে। আরো জঘন্য হচ্ছে তাদের প্রচারকৃত ইন্টারনেটের দৃশ্যগুলো।