১
সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লেখকঃ মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
বিনা যুদ্ধে দ্বি-মুখো আক্রমণ প্রতিহত:
পরবর্তীতে যখন মুশরিকদের দ্বারা অবরোধ চলছিল, তখন তারা বিকল্প অন্য একটি পরিকল্পনা করছিল। তারা দেখল দীর্ঘ মাস ব্যাপী যুদ্ধ করার পরও বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তদপ্রেক্ষিতে খায়বরের নেতার অবস্থা অনুধাবন করার জন্য অতি সংগোপনে মদীনা সফর করেন। ইহুদী গোত্র বনু কুরায়জা তখনো মদীনায় বসবাস করছিল এবং মুসলিমরাও ছিল তাদের প্রতি আস্থাশীল । খায়বরের বনু নযির গোত্রের ইহুদী নেতা মদীনার ইয়াহুদী গোত্র বনু কুরায়জার নেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করল। সে বনূ কুরায়জার নেতাকে এ মর্মে রাজী করতে সমর্থ হল মিত্রবাহিনী যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত থাকবে, বনু কুরায়জা তখন পশ্চাৎ দিক থেকে মুসলিমদের আক্রমণ করবে। দু’দিক থেকে চাপে পড়ে মুসলিম বাহিনী নাস্তানাবুদ হবে এবং তাদের পরাজয় ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের গোপন ষড়যন্ত্রকে জানতে পারেন। তিনি তার সামরিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে মিত্র বাহিনীর এ ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা চালান। এ কাজের জন্য তিনি এমন একজন লোককে নির্বাচন করলেন যাকে সকলেই পৌত্তলিক হিসেবে জানত। অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন নওমুসলিম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর রাজনৈতিক মিশনের দায়িত্ব দিয়ে প্রথমে বনু কুরায়জায় পাঠান। তিনি বনু কুরায়জাকে বললেন, মিত্র বাহিনী যে কখনো তাদের পরিত্যাগ করবে না, এ ব্যাপারে তাদের নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। কারণ যুদ্ধ শেষে এককভাবে তাদেরকে মদিনায় থাকতে হবে এবং মুসলিমদের প্রতিরোধ করার মত সমর্থ তাদের নেই। তিনি তাদের আরও পরামর্শ দিলেন যে, তাদের উচিত হবে মুশরিকদের নিকট হতে কয়েকজন ব্যক্তিকে জামিন হিসেবে রাখা। এর ফলে শেষ মুহুর্তেও যে মুশরিকরা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তিনি গেলেন মিত্র শিবিরে কোরাইশ ক্যাম্পে, সেখানে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন পৌত্তলিক হিসেবে। তিনি তাদেরকে বনু কুরায়জা ও মুসলিমদের মধ্যকার যোগাযোগের কথা জানালেন, গোপন তথ্য ফাঁস করার ভঙ্গিতে তিনি বললেন ইয়াহুদীরা কয়েকজন কোরাইশ নেতাকে নিজেদের কাছে নিতে চায় এবং তারা তাদেরকে সোপর্দ করবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে। পরবর্তীতে কোরাইশ নেতারা বনূ কুরায়জার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে এবং বনু কোরায়জা দুটো দাবী উত্থাপন করে। প্রথমত: কোরাইশদের কয়েকজন লোককে তাদের নিকটে জামিন হিসেবে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, শনিবার যুদ্ধ করা যাবে না। ফলশ্রুতিতে কোরাইশ এবং বনু কুরায়জার মধ্যকার মৈত্রী সম্পর্কের এখানেই সমাপ্তি ঘটে এবং শাওয়াল মাসের শেষে দিনটিতে মদীনার উত্তর দক্ষিণ দিক হতে একযোগে যে আক্রমণ হওয়ার কথা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সমরবিদ্যায় গভীর মেধা থাকার কারণে উক্ত আক্রমণকে বিনা যুদ্ধে প্রতিহত করা হল।