hadith book logo

সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখকঃ মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

যুদ্ধ ও সমরনীতিঃ

যুদ্ধ ও সমরনীতি এক নয়। সমরনীতি সাধারণত রাষ্ট্রনায়ক কিংবা রাজনীতিবিদগণ প্রণয়ন করে থাকেন। এক সময় হয়ত যুদ্ধ করার ইচ্ছা থাকে না, কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, যুদ্ধ না করলে দেশ ও জাতি রক্ষা হয় না। আবার কখনো শত্রু দেশ প্রান্তে উপনীত, কিন্তু যুদ্ধের পরিবর্তে তখন সন্ধি করাই শ্রেয় বিবেচিত হয়। কখনও বা যুদ্ধের প্রবল ইচ্ছা, কিন্তু তখন যুদ্ধ করা ক্ষতিকর কিংবা বোকামি হয়। আবার শত্রু হয়ত বহু দুরে, কিন্তু কখনো অগ্রবর্তী হয়ে তাদের পথ রোধ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলকথা দেশ ও জাতির অবস্থা সামনে রেখে কখনো যুদ্ধ করা এবং কখনো না করা, কখনো কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং কখনো চুক্তি না করা। কখনো সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা, কখনো কম করা, কখনো দেশ রক্ষা খাতে কত ব্যয় করা। সৈন্যদের জন্য কখন কি অস্ত্র ও রসদ সংগ্রহ করা এবং যুদ্ধ বাধলে সেসব রসদ কিভাবে ব্যবহার করা। কোথায় ঘাঁটি তৈরি করা, কখন কি সংবাদ প্রচার করা এবং কি সংবাদ গোপন রাখা উচিত ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় সমরনীতির অন্তর্ভুক্ত। আর যুদ্ধ বলতে বুঝায় ঐসকল নীতির অনুসরণে শত্রুর মুকাবিলা করা।

যুদ্ধের সাফল্যের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় কোন সুদক্ষ সমরবিদের, যার দূরদর্শিতা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশের উপর সবকিছু নির্ভর করে। দ্বিতীয়ত প্রয়োজন হয় কোন যুদ্ধনিপুণ সেনাপতির, যার আদেশে সৈন্যবাহিনী পরিচালিত হবে। তৃতীয়ত প্রয়োজন হয় বীর সাহসী, ধৈর্যশীল ও অনুগত যোদ্ধা-বাহিনীর, যারা যুদ্ধক্ষেত্রেও ধৈর্য ও আনুগত্যেও চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করবেন। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ সমরনীতিবিদ এবং শ্রেষ্ঠ সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধের নীতি নির্ধারণ ও যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। তেমনিভাবে মুজাহিদ বাহিনীকেও তিনি এমন ভাবে গড়ে তুলেছিলেন যে, এদের সমকক্ষ পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ নেই।