hadith book logo

ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল-খাতির রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ

এখানে কিছু প্রনিধানযোগ্য বিষয় রয়েছে যা সর্বাগ্রে উল্লেখ করার প্রয়াস পাবো : সরাসরি উপদেশ প্রদান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভ্যাস ছিল না। বরং তিনি অন্য বিষয় দ্বারা সেটাকে প্রস্তত করে নিতেন। কখনো বা কোন জানা বিষয় প্রশ্ন করার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন অথবা একটা বিষয় দ্বারা অন্য বস্ত্তর দিকে ইঙ্গিত করতেন। যেমন তিনি একবার একজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বললেন :

قد سألت عن عظيم، وإنه ليسير على من يسره الله عليه

‘তুমি একটি মহান বিষয় প্রশ্ন করেছো, তবে আল্লাহ তাআলা যার উপর সহজ করেছেন তার জন্য এটা অবশ্যই সহজ।’ অর্থাৎ তোমার এই প্রশ্নটা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবীদার। তুমি আরাম করে বস এবং মনোযোগ দিয়ে শোন!

تعبد الله ولا تشرك به شيئا، تقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت .

‘আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজান মাসে রোজা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হজ করবে।’

আবার তিনি অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদান পদ্ধতির দিকে মনোনিবেশ করলেন, যাতে করে বক্তব্যটা অন্তরের মধ্যে অর্থবহ ও কার্যকর প্রভাব ফেলে। যেমন তিনি বললেন:

ألا أدلك على أبواب الخير عامة؟ . . الصوم جنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل في جوف الليل، ثم تلا قوله تعالى : تتجافى جنوبهم عن المضاجع .

‘আমি কি তোমাদেরকে ব্যাপকতর কল্যাণের পথসমুহ বাতলে দেবো না ? বললেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ, সদকা পাপরাশী মোচন করে দেয় যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার বানী তেলাওয়াত করলেন, ‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে।’

কখনো তিনি বলেছেন এভাবে :

ألا أخبرك برأس الأمر وعموده وذروة سنامه

‘তোমাকে কি ধর্মীয় বিষয়গুলোর মূল, তার স্তম্বসমুহ ও শীর্ষ চুড়া সম্পর্কে সংবাদ দেব না?’’

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উৎসাহ প্রদান করার জন্য ভিন্ন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ দাড়ায় এ রকম যে, তুমি ইতিপূর্বে তুমি যা শুনেছো ব্যাপক কল্যাণের পথ সম্পর্কে তারপরেও সকল কাজের শীর্ষবিন্দু হিসাবে বিবেচিত ও তোমার শ্রুত বিষয়ের চেয়ে উন্নত আরো কিছু আছে। এ কথার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষার্থীর মাথায় এমন একটা বিদ্যানুরাগ ঢুকিয়ে দিলেন, যা তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শ্রবন করার যোগ্য করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। উত্তরে শোতারা বলল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন ; হে আল্লাহর রাসুল! তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন:

رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة وذروة سنامه الجهاد

‘‘সকল কল্যাণের মুল বা মাথা হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং জিহাদ হল তার শীর্ষচূড়া।’’

এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

ألا أخبرك بملاك ذلك كله

‘‘আমি কি তোমাকে এই সবগুলোর ধ্বংসকারী সম্পর্কে অবহিত করবো না?’’

অর্থাৎ ধর্মের মুল, স্তম্ভ ও শীর্ষ চূড়া সম্পর্কে তুমি যা কিছ শুনলে এ সবকিছুর পরও একটি বিষয় রয়ে গেছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা এগুলো শেষ করে দেয়। সে সম্পর্কে আমি কি তোমাদের সংবাদ দেবো না?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জিহবাটি চেপে ধরে বললেন:

أمسك عليك هذا

‘‘এটা খুব সংযত করে রেখ।’’

শ্রোতা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যত কথা বলি সে সকল কথার জন্য কি আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে?’ তিনি বললেন,

ثقلتك أمك يا معاذ ! وهل يكب الناس على وجوههم في النار إلا حصائد ألسنتهم؟

‘‘হে মুআয ! তোমার মা তেমার জন্য বিলাপ করুক! লোকদেরকে কি তাদের রসনার অর্জন ব্যতীত অন্য কিছু তাদের অধমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?’’ (তিরমিযী বর্ণিত হাদিস)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা-বার্তা, শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ, তার মন ও মস্তিস্ককে জাগ্রত করণ এবং যে উপদেশ, জ্ঞান ও সংবাদ পরিবেশন করার ক্ষেত্রে, তার প্রতি অনুপ্রেরনা দানে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। যেমন দেখুন রাসুলুল্লাহ’র সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী:

ألا اعلمكم شيئا تدركون به من سبقكم؟ ( صحيح الجامع )

‘‘তোমাদেরকে কি আমি এমন বস্ত্ত শিক্ষা দেবো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের নাগাল পেতে পারো?’’ এরকম কথা শোনার পর স্বভাবতই আমরা পরস্পর জিজ্ঞাসা করতে থাকি ; সেই মহান কাজটি কি যা করতে পারলে আমরা বিশাল মর্যাদা, বিনিময় ও পুরস্কারের দিক থেকে আমাদের পূর্ববর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছতে পারবো? অনুরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আর একটি বাণী :

ألا أدلكم على كنـز من كنوز الجنة ( صحيح الجامع )

‘‘আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের খাজানাসমূহের থেকে একটি খাযানার কথা বলবো না?’’ আমাদেরকে এক সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে, আলোচনায় উৎসাহ ও প্রেরণাদান পদ্ধতি, পদ্ধতির বিভিন্ন ধরণ এবং শ্রোতার মন ও অবস্থা অনুযায়ী ধীরতা অবলম্বনের দিকে। প্রথম শিক্ষক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। আমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসসমূহ অুসন্ধান করি। তাহলে দেখতে পাবো কিভাবে তিনি কালজয়ী হয়েছেন এবং সম্প্রতিক কালে আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কঠিন সাধনা করে অর্জিত বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ মনীষিদের উপর কি করে প্রধান্য বিস্তার করে গেছেন।