hadith book logo

ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল-খাতির রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

ইসলামের দাওয়াতে মানববিজ্ঞান

পাশ্চাত্যের দেশসমুহ থেকে আহরিত মানব বিজ্ঞানের (মনোবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, সংগঠন বিজ্ঞান ও যোগাযোগ বিদ্যা ইত্যাদি) দিক থেকে মুসলিম বিশ্বের মানুষ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত :

প্রথমত : যারা বিশ্বাস করে কোন অবস্থাতেই পাশ্চাত্য বিদ্যা গ্রহণ করা যাবে না। কারন সেটা একটি ত্রুটিপূর্ণ ভিত্তিমুল থেকে উৎসারিত ; সুতরাং এর অবশ্যম্ভাবী ফলাফলও ত্রুটিপূর্ণ হবে। এটা হল সাধারন মানুষদের অধিকাংশের মতামত।

দ্বিতীয়ত : যারা সকল বিদ্যা আহরন করার প্রবক্তা ; চাই সেটা ভাল হোক কিংবা মন্দ, ইতিবাচক হোক কিংবা নৈতিবাচক।

তৃতীয়ত: যারা বলে সর্বপ্রথম এই বিদ্যাকে পরিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। অতঃপর আমরা তা হতে যা ইতিবাচক তাই গ্রহণ করবো, আর যা নৈতিবাচক তা পরিহার করে চলবো। অর্থ্যাৎ আমরা শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলো গ্রহণ করবো যা অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার অনুকুল। পক্ষান্তরে এমন দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন ও গবেষণা অবশ্যই পরিহার করে চলতে হবে যা কোন সুস্থ মুলনীতির উপর গড়ে উঠেনি।

উল্লেখিত তৃতীয় শ্রেণীই হচ্ছে আমাদের প্রতিপাদ্য ও লক্ষ্য। অতএব আমরা এখন ঐ সকল জ্ঞান-বিদ্যা জেনে নেব যা সম্পূর্ণ পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রতিষ্ঠিত কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উত্তীর্ণ নয়। একজন মুসলিম যুবকের কাছ থেকে কাম্য হচ্ছে- যা কিছু গ্রহণ করছে, সে তা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে নেবে। এবং আহরিত জ্ঞান ও অর্জিত বিদ্যা সে এই দীন-ইসলামের সেবায় নিয়োজিত করবে। তা উক্ত পদ্ধতিতে হোক অথবা তার নির্দেশিত লক্ষ্যেই হোক, তাতে কী আসে যায়।

মনোবিজ্ঞান হচ্ছে, আমাদের যুব সমাজ পাশ্চাত্যের দেশসমুহ থেকে যে বিদ্যা আহরণ করে তার অন্যতম। কিন্তু একটি বিদ্যা হিসেবে মনোবিজ্ঞান মনোরীতির উপর কেন্দ্রিভূত। সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান নির্ভর করে, রোগী ও চিকিৎসকের সরাসরি বৈঠক ও সাক্ষাতের উপর ।

এ পর্যায় আমাদের অবশ্যই জেনে রাখতে হবে যে, মনোবিজ্ঞান ও আত্মবিদ্যার মধ্যে পার্থক্য আছে :

মনোবিজ্ঞান হল : যা সকল উত্তম বৈশিষ্ট্য শিক্ষা দেয়। কারন, দৈহিক ও আত্মিক রোগসমুহ একটা অন্যটার অন্তর্ভূক্ত, একে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। সে কারনে কখনো বা দৈহিক রোগের কারণে মন রোগাক্রান্ত হয়ে যায়। আবার মনের কারণে দেহ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং একজন পাঠকের কর্তব্য হচ্ছে- সকল দৈহিক রোগের কারন, উপসর্গ ও পরিণতি জেনে নেয়া।

দ্বিতীয়টা হচ্ছে আত্মবিজ্ঞান : এটা শিষ্টাচার সম্বলিত বৈশিষ্টাবলী। মানব আচরন, তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্যবহারের পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং-এ সবগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়। তবে উক্ত বিজ্ঞানসমুহের মধ্যে অসংখ্য অতিরঞ্জি বিষয় থাকে, যা থেকে উক্ত জ্ঞানকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করা ও সঠিক পথে দিকনির্দেশনা দেয়া প্রয়োজন। হে আল্লাহ ! এ মহান প্রয়াস অধুনা বিশ্বের অনেকেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকজন আলেম রয়েছেন, যারা এ চিন্তাটা করেন। কিন্তু এতদসত্যেও তাদের পথের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও গবেষণা পদ্ধতির পর্যাপ্ত উৎকর্ষ সাধন একান্ত প্রয়োজন। এবং বিশুদ্ধ ইসলামী গবেষণার জন্য তাদের মনোবিজ্ঞান আয়ত্ব করা কর্তব্য।