১
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা
লেখকঃ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
ষষ্ঠ বিষয়: অর্থনীতি
কুরআন সফল অর্থনীতির মূলনীতির বিবরণ দিয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে অর্থনীতির সকল শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করা সম্ভব। অর্থনীতির বিষয়গুলো দুটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত:
প্রথম: সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা অলম্বন।
দ্বিতীয়: সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক পন্থায় সঠিক খাত অলম্বন।
দেখুন কিভাবে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মানুষের দ্বীন ও ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্য হয় এমন উপযুক্ত নিয়মে সম্পদ উপার্জনের রাস্তা উন্মুক্ত করেছেন এবং তা আলোকিত করেছেন। তিনি বলেন,
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"তারপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তথা রিযিক অনুসন্ধান করো। আর অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।" (জুমআ: ১০)
তিনি আরো বলেন,
وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
"কিছু লোক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে (হালাল ও বৈধ উপায়ে রুজি অর্জনের উদ্দেশে) ভ্রমণরত থাকে।" (মুযাম্মেল: ২০)
আল্লাহ আরো বলেন,
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ
"(আর হজ্জের কার্যাদী চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে) তোমরা যদি তোমাদের রবের অনুগ্রহ (ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে রিযিক) অনুসন্ধান করতে থাকো তাহলে তাতে কোন দোষ নেই।" (বাকারা: ১৯৮) (কেননা একজন আল্লাহ বিশ্বাসী ব্যক্তি যখন আল্লাহর আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিজেদের অর্থ উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালায় তখন আসলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করে।)
সূরা নিসায় আল্লাহ বলেন,
إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ
"লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে।" (নিসা: ২৯)
আল্লাহ আরো বলেন,
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ
"আর আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন।" (বাকারা: ২৭৫)
তিনি আরো বলেন,
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا
"কাজেই তোমরা গণীমত (যুদ্ধলব্ধ) হিসেবে যা কিছু সম্পদ লাভ করেছো তা খাও, কেননা তা হালাল ও পাক-পবিত্র।" (আনফাল: ৬৯)
আবার দেখুন! সম্পদ ব্যয়ের কি সুন্দর নির্দেশনা দিয়ে অর্থনীতিকে মজবুত করা হয়েছে! আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ
(অর্থ খরচের জন্য) নিজের হাত গলায় বেঁধে রেখো না (কৃপণ হয়ো না) এবং তাকে একেবারে খোলাও ছেড়ে দিয়ো না (অপব্যায় করো না)। (বানী ইসরাঈল: ২৯)
আল্লাহ প্রকৃত মুমিনদের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,
وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا
"তারা যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না বরং উভয় প্রান্তিকের মাঝামাঝি তাদের ব্যয় ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।" (ফুরক্বান: ৬৭)
তিনি আরো বলেন,
وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ
"আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কী তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে।" (বাকারা: ২১৯)
আবার দেখুন! অবৈধ ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আল্লাহ এরশাদ করছেন,
فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ
"বস্তুতঃ এখন তারা (আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফেরানোর জন্য) অর্থ ব্যয় করবে। অত:পর এই অর্থ ব্যয় তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পরিণামে তারা পরাজিত হবে।" (আনফাল: ৩৬)
প্রথম: সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা অলম্বন।
দ্বিতীয়: সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক পন্থায় সঠিক খাত অলম্বন।
দেখুন কিভাবে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মানুষের দ্বীন ও ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্য হয় এমন উপযুক্ত নিয়মে সম্পদ উপার্জনের রাস্তা উন্মুক্ত করেছেন এবং তা আলোকিত করেছেন। তিনি বলেন,
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"তারপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তথা রিযিক অনুসন্ধান করো। আর অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।" (জুমআ: ১০)
তিনি আরো বলেন,
وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
"কিছু লোক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে (হালাল ও বৈধ উপায়ে রুজি অর্জনের উদ্দেশে) ভ্রমণরত থাকে।" (মুযাম্মেল: ২০)
আল্লাহ আরো বলেন,
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ
"(আর হজ্জের কার্যাদী চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে) তোমরা যদি তোমাদের রবের অনুগ্রহ (ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে রিযিক) অনুসন্ধান করতে থাকো তাহলে তাতে কোন দোষ নেই।" (বাকারা: ১৯৮) (কেননা একজন আল্লাহ বিশ্বাসী ব্যক্তি যখন আল্লাহর আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিজেদের অর্থ উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালায় তখন আসলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করে।)
সূরা নিসায় আল্লাহ বলেন,
إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ
"লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে।" (নিসা: ২৯)
আল্লাহ আরো বলেন,
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ
"আর আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন।" (বাকারা: ২৭৫)
তিনি আরো বলেন,
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا
"কাজেই তোমরা গণীমত (যুদ্ধলব্ধ) হিসেবে যা কিছু সম্পদ লাভ করেছো তা খাও, কেননা তা হালাল ও পাক-পবিত্র।" (আনফাল: ৬৯)
আবার দেখুন! সম্পদ ব্যয়ের কি সুন্দর নির্দেশনা দিয়ে অর্থনীতিকে মজবুত করা হয়েছে! আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ
(অর্থ খরচের জন্য) নিজের হাত গলায় বেঁধে রেখো না (কৃপণ হয়ো না) এবং তাকে একেবারে খোলাও ছেড়ে দিয়ো না (অপব্যায় করো না)। (বানী ইসরাঈল: ২৯)
আল্লাহ প্রকৃত মুমিনদের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,
وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا
"তারা যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না বরং উভয় প্রান্তিকের মাঝামাঝি তাদের ব্যয় ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।" (ফুরক্বান: ৬৭)
তিনি আরো বলেন,
وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ
"আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কী তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে।" (বাকারা: ২১৯)
আবার দেখুন! অবৈধ ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আল্লাহ এরশাদ করছেন,
فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ
"বস্তুতঃ এখন তারা (আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফেরানোর জন্য) অর্থ ব্যয় করবে। অত:পর এই অর্থ ব্যয় তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পরিণামে তারা পরাজিত হবে।" (আনফাল: ৩৬)