hadith book logo

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা

লেখকঃ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

তৃতীয় প্রকার তাওহীদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে একত্ববাদ:

এ প্রকার তাওহীদ দুটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত: যেমনটি আল্লাহ নিজেই বর্ণনা করেছেন।

প্রথম ভিত্তি: সৃষ্টি জগতের গুণাবলীর সাথে তুলনা করা থেকে আল্লাহকে পবিত্র করা।

দ্বিতীয় ভিত্তি: যে সকল গুণাবলী আল্লাহ নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন বা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্ধারণ করেছেন, তা প্রকৃত অর্থেই; রূপক অর্থে নয়- একথার প্রতি ঈমান আনা। আল্লাহর কামালিয়্যাত তথা পূর্ণতা ও মহত্মের সাথে যেভাবে গুণাবলীগুলো উপযুক্ত হয় সেভাবেই তিনি গুণাম্বিত। একথা নিশ্চিত যে আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ বেশী জ্ঞান রাখে না। এবং আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে (তাঁর পরে) তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত কেউ বেশী জ্ঞান রাখে না।

মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেন,

أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ

"তোমরা কি বেশী জ্ঞান রাখো, না আল্লাহ?" (বাকারা: ১৪০)

তিনি তাঁর রাসূল সম্পর্কে বলেন,

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

"তিনি নিজের খেয়ালখুশী মতো কথা বলেন না। তিনি যা বলেন তা তাঁর কাছে নাযিলকৃত অহী ছাড়া অন্য কিছুই নয়।" (নাজম: ৩-৪)

আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে কোন কিছুর তুলনাকে নাকচ করে দিয়ে এরশাদ করেন:

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ

"তাঁর সমতুল্য কোন কিছু নেই।" একই সাথে তাঁর প্রকৃত গুণাবলীকে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন,

وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

"তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।" (শূরা: ১১)

এই আয়াতটি আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকার করাকে প্রতিহত করছে। আয়াত থেকে একথা সুস্পষ্ট হচ্ছে যে, আল্লাহর সিফাত বা গুণ সমূহকে প্রকৃত অর্থে সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। কোন প্রকার দৃষ্টান্ত বা উপমা নির্ধারণ করা যাবে না। আর কোন কিছুর সাথে তুলনাও করা যাবে না এবং অস্বীকারও করা যাবে না। একই সাথে এই আয়াতে সৃষ্টিকুল যে আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভে অপারগ তাও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন,

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا

"তিনি লোকদের সামনের পেছনের সব অবস্থা জানেন এবং তারা তাঁর সম্পর্কে পুরো জ্ঞান রাখে না।" (ত্বাহা: ১১০)