১
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা
লেখকঃ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
তৃতীয় বিষয়: সৎকর্ম ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাঝে পার্থক্য
কুরআন বিবরণ দিয়েছে যে, সৎকর্ম তাকেই বলে, যার মধ্যে ৩টি বিষয় পূর্ণ থাকবে। কোন একটি বাদ পড়লে ঐ সৎকর্ম কিয়ামত দিবসে কোন উপকারে আসবে না। বিষয় ৩টি হচ্ছে:
প্রথম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন সৎকর্মটি তার মোতাবেক হতে হবে। [. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, مَنْ أحْدَثَ فِيْ أمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু সৃষ্টি করবে যা তার অন্তর্ভূক্ত নয়, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত”। (বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সুলহ, অনুচ্ছেদঃ যদি অন্যায়ভাবে মীমাংসা করে, তবে সেই মীমাংসা প্রত্যাখ্যাত। হাদীছ নং- ২৪৯৯।) অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُناَ فَهُوَ رَدٌّ "যে ব্যক্তি এমন আমল করবে যার পক্ষে আমার শরীয়তের কোন নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।" (মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আকজীয়া, অনুচ্ছেদঃ অন্যায় হুকুম এবং নব আবিস্কৃত বিষয়সমূহ প্রত্যাখ্যাত হওয়া প্রসঙ্গে, হাদীছ নং- ৩২৪৩।)] কেননা আল্লাহ বলেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
"রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তোমরা তা গ্রহণ করো। আর যা নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকো।" (হাশর: ৭) তিনি আরো বলেন,
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
"যে রাসূলের আনুগত্য করলো সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো।" (নিসা: ৮০) তিনি আরো বলেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي
"তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো।" (আল ইমরান: ৩১) আল্লাহ আরো বলেন,
أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ
"এসব লোক কি আল্লাহর এমন কোন শরীককে বিশ্বাস করে, যে এদের জন্য দ্বীনের মত এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারিত করে দিয়েছে আল্লাহ যার অনুমোদন দেননি?" (শূরা: ২১)
তিনি আরো বলেন,
آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ
"আল্লাহ কি তোমাদের এ সকল কর্মকাণ্ডের অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করছো?" (ইউনুস: ৫৯)
দ্বিতীয়: কর্মটি খালেস ও একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
"তাদেরকে তো এছাড়া আর কোন হুকুম দেয়া হয়নি যে, তারা নিজেদের দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদাত করবে।" (বাইয়্যেনাহ: ৫)
তিনি আরো বলেন,
قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَهُ دِينِي فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُمْ مِنْ دُونِهِ
(হে নবী!) এদের বলো, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই দাসত্ব করি। আমাকে এ আদেশও দেয়া হয়েছে যেন আমি সবার আগে মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী হই। বলো, আমি যদি আমার পালনকর্তার অবাধ্য হই, তাহলে আমি একটি ভয়ানক দিনের আশংকা করছি। বলে দাও, আমি আনুগত্যসহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই দাসত্ব করবো। (এই আদেশের পর) তোমরা তাঁকে ছাড়া আর যাদের ইচ্ছা দাসত্ব করতে থাকো।" (যুমার: ১১-১৫)
তৃতীয়: কর্মটি সহীহ আকীদার উপর ভিত্তি করে হতে হবে। কেননা কর্ম হচ্ছে ছাদের মত আর আকীদা হচ্ছে ফাউণ্ডেশন বা ভিত্তির মত।
আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ
"আর যে ব্যক্তি সৎকাজ করবে- সে নারী হোক বা পুরুষ- এবং সেই সাথে সে মুমিনও হবে।" (নিসা: ১২৪) এখানে সৎ আমল করার জন্য 'মুমিন হবে' শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই জন্য ঈমান না রেখে সৎকর্ম করলে তার পরিণতি কি হবে সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا
"আর আমি তাদের সমস্ত কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব; অত:পর তা (ঈমান বিহীন হওয়ার কারণে বা ঈমানে শিরক মিশ্রিত থাকার কারণে) উৎক্ষিপ্ত ধূলোর মতো উড়িয়ে দেবো।" (ফুরকান: ২৩) আল্লাহ আরো বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"কিন্তু এ ধরণের লোকদের জন্য আখেরাতে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। (সেখানে তারা জানতে পারবে) যা কিছু তারা দুনিয়ায় বানিয়েছে সব বরবাদ হয়ে গেছে এবং এখন তাদের সমস্ত কৃতকর্ম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।" (হূদ: ১৬)
প্রথম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন সৎকর্মটি তার মোতাবেক হতে হবে। [. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, مَنْ أحْدَثَ فِيْ أمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু সৃষ্টি করবে যা তার অন্তর্ভূক্ত নয়, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত”। (বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সুলহ, অনুচ্ছেদঃ যদি অন্যায়ভাবে মীমাংসা করে, তবে সেই মীমাংসা প্রত্যাখ্যাত। হাদীছ নং- ২৪৯৯।) অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُناَ فَهُوَ رَدٌّ "যে ব্যক্তি এমন আমল করবে যার পক্ষে আমার শরীয়তের কোন নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।" (মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আকজীয়া, অনুচ্ছেদঃ অন্যায় হুকুম এবং নব আবিস্কৃত বিষয়সমূহ প্রত্যাখ্যাত হওয়া প্রসঙ্গে, হাদীছ নং- ৩২৪৩।)] কেননা আল্লাহ বলেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
"রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তোমরা তা গ্রহণ করো। আর যা নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকো।" (হাশর: ৭) তিনি আরো বলেন,
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
"যে রাসূলের আনুগত্য করলো সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো।" (নিসা: ৮০) তিনি আরো বলেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي
"তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো।" (আল ইমরান: ৩১) আল্লাহ আরো বলেন,
أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ
"এসব লোক কি আল্লাহর এমন কোন শরীককে বিশ্বাস করে, যে এদের জন্য দ্বীনের মত এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারিত করে দিয়েছে আল্লাহ যার অনুমোদন দেননি?" (শূরা: ২১)
তিনি আরো বলেন,
آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ
"আল্লাহ কি তোমাদের এ সকল কর্মকাণ্ডের অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করছো?" (ইউনুস: ৫৯)
দ্বিতীয়: কর্মটি খালেস ও একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
"তাদেরকে তো এছাড়া আর কোন হুকুম দেয়া হয়নি যে, তারা নিজেদের দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদাত করবে।" (বাইয়্যেনাহ: ৫)
তিনি আরো বলেন,
قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَهُ دِينِي فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُمْ مِنْ دُونِهِ
(হে নবী!) এদের বলো, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই দাসত্ব করি। আমাকে এ আদেশও দেয়া হয়েছে যেন আমি সবার আগে মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী হই। বলো, আমি যদি আমার পালনকর্তার অবাধ্য হই, তাহলে আমি একটি ভয়ানক দিনের আশংকা করছি। বলে দাও, আমি আনুগত্যসহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই দাসত্ব করবো। (এই আদেশের পর) তোমরা তাঁকে ছাড়া আর যাদের ইচ্ছা দাসত্ব করতে থাকো।" (যুমার: ১১-১৫)
তৃতীয়: কর্মটি সহীহ আকীদার উপর ভিত্তি করে হতে হবে। কেননা কর্ম হচ্ছে ছাদের মত আর আকীদা হচ্ছে ফাউণ্ডেশন বা ভিত্তির মত।
আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ
"আর যে ব্যক্তি সৎকাজ করবে- সে নারী হোক বা পুরুষ- এবং সেই সাথে সে মুমিনও হবে।" (নিসা: ১২৪) এখানে সৎ আমল করার জন্য 'মুমিন হবে' শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই জন্য ঈমান না রেখে সৎকর্ম করলে তার পরিণতি কি হবে সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا
"আর আমি তাদের সমস্ত কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব; অত:পর তা (ঈমান বিহীন হওয়ার কারণে বা ঈমানে শিরক মিশ্রিত থাকার কারণে) উৎক্ষিপ্ত ধূলোর মতো উড়িয়ে দেবো।" (ফুরকান: ২৩) আল্লাহ আরো বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"কিন্তু এ ধরণের লোকদের জন্য আখেরাতে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। (সেখানে তারা জানতে পারবে) যা কিছু তারা দুনিয়ায় বানিয়েছে সব বরবাদ হয়ে গেছে এবং এখন তাদের সমস্ত কৃতকর্ম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।" (হূদ: ১৬)