১
পিতামাতার অবাধ্যতা কারণ, কিছু বাহ্যিক চিত্র ও প্রতিকারের উপায়
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আল-হামাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
স্ত্রী ও পিতামাতার মাঝে সমন্বয় করা
এ অনুচ্ছেদটি এমনসব আদব বা শিষ্টাচারকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা পিতামাতার সাথে রক্ষা করে চলা আবশ্যক এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারে সহায়ক কর্মকাণ্ডসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর এর কিছু বিষয়ের আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
পৃথক ও এককভাবে এই অনুচ্ছেদটির অবতারণা হয়েছে তার ব্যাপক গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কারণে; স্বামী কখনও কখনও তার স্ত্রী ও পিতামাতার মাঝে সমন্বয়সাধন করার ব্যাপারে কথা বলে, যখন তার পিতামাতা ও স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক ঘৃণা ও অবজ্ঞার কারণে বিরক্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারণ, তার স্ত্রী স্বীয় স্বামীকে নিজের জন্য খাস করে নেওয়ার নিমিত্তে অন্ধ ভালবাসার কারণে অনেক সময় আল্লাহকে কম ভয় করে থাকে, যা পূর্বে আলোচনা হয়েছে।
আর কখনও কখনও তার পিতামাতা উভয়ে অথবা তাদের কোনো একজন তীক্ষ্ন মেজাজের হয়ে থাকে, ফলে তাদেরকে কোনো মানুষ পছন্দ করে না; আবার কখনও তারা সন্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে, অথচ সে এমন কোনো অপরাধ করেনি, যা তার জীবনে এই তালাকের মত পরিস্থিতিকে অপরিহার্য করে তোলে।
আবার কখনও কখনও তারা তার অন্তরে ক্রেধের সঞ্চার করে এবং তাকে অবহিত করে যে, তার স্ত্রী নিজ ইচ্ছামত কাজ করে, ফলে সে এটাকে বিশ্বাস করে, অথচ সে তাকে তার অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে অথবা তার সাথে অনেক বিষয়ে হক আদায়ে ঘাটতি বা কমতি করেছে।
সুতরাং এই ধরনের পরিস্থিতিতে তার সমাধান কী হবে? মানুষ কি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে? সে কি তার পিতামাতার অবাধ্য হবে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবে? সে কি তাদের মতামতের অমর্যাদা করবে এবং তার স্ত্রীকে খুশি করার জন্য নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে তাদেরকে তাড়িয়ে দিবে? নাকি তার স্ত্রীর অধিকারের প্রশ্নে তার পিতামাতা তাকে যা কিছুই বলবে, সব ক্ষেত্রেই সে তাদের সাথে একমত হয়ে যাবে এবং তার স্ত্রী নির্দোষ ও পিতামাতা ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রীকে দোষারোপ করে তারা যত বক্তব্য পেশ করবে, তার সবকিছুকেই সে বিশ্বাস করবে?
না, বিষয়টি আসলে এ রকম নয়; বরং তার দায়িত্ব হল তাদের মাঝে মীমাংসা করা এবং তাদের মধ্যকার ভাঙ্গন রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা প্রচেষ্টা চালানো।
নিশ্চয় ব্যক্তিত্বের শক্তি মানুষের মধ্যে অধিকার এবং এমন সব দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যকার তুলনা করার মত সামর্থ্য ও ক্ষমতার সূচনা করে, যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনো কোনো মানুষের সামনে কখনও কখনও পরস্পর বিরোধী হয়ে উঠে; ফলে তার কাছে ব্যাপারটি সন্দেহপূর্ণ হয়ে উঠে এবং তাকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়।
আর তা থেকেই একে অপরের প্রতি কোনো প্রকার অন্যায় ও জুলুমের সম্পৃক্ততা ছাড়াই প্রত্যেক অধিকারওয়ালা ব্যক্তির অধিকার আদায়ের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রশ্নে বুদ্ধিমান মানুষের বিচক্ষণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
বস্তুত ইসলামী শরী‘য়তের অন্যতম মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব হল— তা এমন কতগুলো বিধিবিধান নিয়ে এসেছে, যা বিভিন্ন প্রকার কার্যকারণ ও প্রতিকারের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে; আর আল্লাহ তা‘আলা তাওফীক দিলে বুদ্ধিমান বিচক্ষণ ব্যক্তি প্রত্যেক অধিকারওয়ালা ব্যক্তিকে তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন।
এ ভারসাম্যতার মাঝে ত্রুটি বা ফাটল সৃষ্টির কারণে অনেক সামাজিক ট্রাজেডি বা দুঃখজনক ঘটনা এবং পারিবারিক সমস্যার জন্ম হয়।
এসব সংঘটিত সমস্যার সমাধানে অন্যতম সহায়ক শক্তি হল এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে যথাযথ ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে সকল পক্ষকে সচেষ্ট হওয়া।
নিম্নে কিছু নির্দেশনা আসছে এবং পূর্বেও কিছু দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করা হয়েছে, যা এই ব্যাপারে সহায়তা করবে:
এসব নির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবাহিত পুত্র, তার স্ত্রী এবং তার পিতামাতাকে— বিশেষ করে তার মাতাকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো,
পৃথক ও এককভাবে এই অনুচ্ছেদটির অবতারণা হয়েছে তার ব্যাপক গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কারণে; স্বামী কখনও কখনও তার স্ত্রী ও পিতামাতার মাঝে সমন্বয়সাধন করার ব্যাপারে কথা বলে, যখন তার পিতামাতা ও স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক ঘৃণা ও অবজ্ঞার কারণে বিরক্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারণ, তার স্ত্রী স্বীয় স্বামীকে নিজের জন্য খাস করে নেওয়ার নিমিত্তে অন্ধ ভালবাসার কারণে অনেক সময় আল্লাহকে কম ভয় করে থাকে, যা পূর্বে আলোচনা হয়েছে।
আর কখনও কখনও তার পিতামাতা উভয়ে অথবা তাদের কোনো একজন তীক্ষ্ন মেজাজের হয়ে থাকে, ফলে তাদেরকে কোনো মানুষ পছন্দ করে না; আবার কখনও তারা সন্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে, অথচ সে এমন কোনো অপরাধ করেনি, যা তার জীবনে এই তালাকের মত পরিস্থিতিকে অপরিহার্য করে তোলে।
আবার কখনও কখনও তারা তার অন্তরে ক্রেধের সঞ্চার করে এবং তাকে অবহিত করে যে, তার স্ত্রী নিজ ইচ্ছামত কাজ করে, ফলে সে এটাকে বিশ্বাস করে, অথচ সে তাকে তার অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে অথবা তার সাথে অনেক বিষয়ে হক আদায়ে ঘাটতি বা কমতি করেছে।
সুতরাং এই ধরনের পরিস্থিতিতে তার সমাধান কী হবে? মানুষ কি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে? সে কি তার পিতামাতার অবাধ্য হবে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবে? সে কি তাদের মতামতের অমর্যাদা করবে এবং তার স্ত্রীকে খুশি করার জন্য নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে তাদেরকে তাড়িয়ে দিবে? নাকি তার স্ত্রীর অধিকারের প্রশ্নে তার পিতামাতা তাকে যা কিছুই বলবে, সব ক্ষেত্রেই সে তাদের সাথে একমত হয়ে যাবে এবং তার স্ত্রী নির্দোষ ও পিতামাতা ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রীকে দোষারোপ করে তারা যত বক্তব্য পেশ করবে, তার সবকিছুকেই সে বিশ্বাস করবে?
না, বিষয়টি আসলে এ রকম নয়; বরং তার দায়িত্ব হল তাদের মাঝে মীমাংসা করা এবং তাদের মধ্যকার ভাঙ্গন রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা প্রচেষ্টা চালানো।
নিশ্চয় ব্যক্তিত্বের শক্তি মানুষের মধ্যে অধিকার এবং এমন সব দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যকার তুলনা করার মত সামর্থ্য ও ক্ষমতার সূচনা করে, যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনো কোনো মানুষের সামনে কখনও কখনও পরস্পর বিরোধী হয়ে উঠে; ফলে তার কাছে ব্যাপারটি সন্দেহপূর্ণ হয়ে উঠে এবং তাকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়।
আর তা থেকেই একে অপরের প্রতি কোনো প্রকার অন্যায় ও জুলুমের সম্পৃক্ততা ছাড়াই প্রত্যেক অধিকারওয়ালা ব্যক্তির অধিকার আদায়ের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রশ্নে বুদ্ধিমান মানুষের বিচক্ষণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
বস্তুত ইসলামী শরী‘য়তের অন্যতম মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব হল— তা এমন কতগুলো বিধিবিধান নিয়ে এসেছে, যা বিভিন্ন প্রকার কার্যকারণ ও প্রতিকারের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে; আর আল্লাহ তা‘আলা তাওফীক দিলে বুদ্ধিমান বিচক্ষণ ব্যক্তি প্রত্যেক অধিকারওয়ালা ব্যক্তিকে তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন।
এ ভারসাম্যতার মাঝে ত্রুটি বা ফাটল সৃষ্টির কারণে অনেক সামাজিক ট্রাজেডি বা দুঃখজনক ঘটনা এবং পারিবারিক সমস্যার জন্ম হয়।
এসব সংঘটিত সমস্যার সমাধানে অন্যতম সহায়ক শক্তি হল এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে যথাযথ ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে সকল পক্ষকে সচেষ্ট হওয়া।
নিম্নে কিছু নির্দেশনা আসছে এবং পূর্বেও কিছু দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করা হয়েছে, যা এই ব্যাপারে সহায়তা করবে:
এসব নির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবাহিত পুত্র, তার স্ত্রী এবং তার পিতামাতাকে— বিশেষ করে তার মাতাকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো,