১
আল্লাহ তাআলার দশ অসিয়ত
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
দ্বিতীয় অসিয়তঃ মাতা-পিতার সাথে সদাচারণ
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
‘‘আর মাতা-পিতার সাথে সদাচারণ করবে।’’ অর্থাৎ আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন নিজ মাতা ও পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে। তাদের অবাধ্য হওয়া ও তাদের কষ্ট দেয়া-কে হারাম করেছেন। তারা বিরক্ত হয় এমন কোন আচরণ করা যাবে না।
যেমন আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেনঃ
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿২৩﴾ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿২৪﴾
‘‘তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না ও পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপণীত হয় তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। এবং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। তাদের উভয়ের জন্য দয়ার সাথে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে আমাকে তারা লালন-পালন করেছেন।’’
সূরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩-২৪
এমনিভাবে আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর কালামের একাধিক স্থানে তাঁর ইবাদত করার আদেশের সাথে সাথে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মাতা-পিতা যদি কাফের বা মুশরিক হয় তবুও তাদের সাথে সদাচারণ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ . وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
‘‘আমি তো মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট। তোমার মাতা-পিতা যদি আমার সাথে শিরক করাতে তোমাকে পীড়াপীড়ি করে- যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই- তবে তুমি তাদের কথা মানবে না। তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সৎভাবে বসবাস করবে ।’’ সূরা লুকমান, আয়াত ১৪-১৫
আল্লাহ রাববুল আলামীন আল-কুরআনে এমনিভাবে সাতটি স্থানে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর ব্যবহার ও সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বুঝে আসে বিষয়টি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া কত বড় অপরাধ।
হাদীসে এসেছে -
يقول ابن مسعود رضي الله عنه ( سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أحب إلى الله؟ قال : الصلاة على وقتها، قلت ثم أي؟ قال ير الوالدين، قلت ثم أي ؟ قال الجهاد في سبيل الله . متفق عليه .
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘সময় মত নামাজ আদায় করা।’’ আমি বললাম, এরপর কোন আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘‘মাতা - পিতার সাথে সুন্দর আচরণ ও সদ্ব্যবহার।’’ আমি বললাম, এরপর কোন আমলটি আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’’
বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম
পারিবারিক জীবনে শান্তি, সফলতা লাভ ও পরিবারের স্থিতি লাভ করতে মাতা - পিতার সুন্দর সেবা-যত্ন ও সদাচারণের কোন বিকল্প নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
رغم أنف رجل أدرك عند أبواه الكبر فلم يدخلاه الجنة . ( رواه أحمد )
‘‘ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হয়ে যাক, যে বৃদ্ধ মাতা- পিতাকে পেল কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না।’’
বর্ণনায়ঃ আহমাদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
‘‘মাতা - পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর মাতা - পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’’ বর্ণনায় : তিরমিজী
‘‘আর মাতা-পিতার সাথে সদাচারণ করবে।’’ অর্থাৎ আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন নিজ মাতা ও পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে। তাদের অবাধ্য হওয়া ও তাদের কষ্ট দেয়া-কে হারাম করেছেন। তারা বিরক্ত হয় এমন কোন আচরণ করা যাবে না।
যেমন আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেনঃ
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿২৩﴾ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿২৪﴾
‘‘তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না ও পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপণীত হয় তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। এবং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। তাদের উভয়ের জন্য দয়ার সাথে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে আমাকে তারা লালন-পালন করেছেন।’’
সূরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩-২৪
এমনিভাবে আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর কালামের একাধিক স্থানে তাঁর ইবাদত করার আদেশের সাথে সাথে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মাতা-পিতা যদি কাফের বা মুশরিক হয় তবুও তাদের সাথে সদাচারণ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ . وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
‘‘আমি তো মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট। তোমার মাতা-পিতা যদি আমার সাথে শিরক করাতে তোমাকে পীড়াপীড়ি করে- যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই- তবে তুমি তাদের কথা মানবে না। তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সৎভাবে বসবাস করবে ।’’ সূরা লুকমান, আয়াত ১৪-১৫
আল্লাহ রাববুল আলামীন আল-কুরআনে এমনিভাবে সাতটি স্থানে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর ব্যবহার ও সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বুঝে আসে বিষয়টি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া কত বড় অপরাধ।
হাদীসে এসেছে -
يقول ابن مسعود رضي الله عنه ( سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أحب إلى الله؟ قال : الصلاة على وقتها، قلت ثم أي؟ قال ير الوالدين، قلت ثم أي ؟ قال الجهاد في سبيل الله . متفق عليه .
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘সময় মত নামাজ আদায় করা।’’ আমি বললাম, এরপর কোন আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘‘মাতা - পিতার সাথে সুন্দর আচরণ ও সদ্ব্যবহার।’’ আমি বললাম, এরপর কোন আমলটি আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’’
বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম
পারিবারিক জীবনে শান্তি, সফলতা লাভ ও পরিবারের স্থিতি লাভ করতে মাতা - পিতার সুন্দর সেবা-যত্ন ও সদাচারণের কোন বিকল্প নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
رغم أنف رجل أدرك عند أبواه الكبر فلم يدخلاه الجنة . ( رواه أحمد )
‘‘ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হয়ে যাক, যে বৃদ্ধ মাতা- পিতাকে পেল কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না।’’
বর্ণনায়ঃ আহমাদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
‘‘মাতা - পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর মাতা - পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’’ বর্ণনায় : তিরমিজী