১
আল্লাহ তাআলার দশ অসিয়ত
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
সপ্তম অসিয়তঃ ওযন ও পরিমাপে কম না দেয়া
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا .
‘‘এবং পরিমাণ ও মাপে ন্যায্যভাবে পুরোপুরি দিবে।’’
আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তারা যে লেনদেন, ক্রয়-বিক্রয়ে মাপে ও ওযনে পুরোপুরি দেয়, কম না দেয়। কেহ যেন তার অধিকারের চেয়ে বেশী ভোগ না করে। এমনিভাবে কেহ যেন তার অধিকারের চেয়ে কম না পায়।
মাপে কম দেয়ার এ খাছলতের কঠোর নিন্দা করেছেন, শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন আল্লাহ পবিত্র কুরআনেঃ
وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ ﴿১﴾ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ﴿২﴾ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ﴿৩﴾ أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ ﴿৪﴾ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿৫﴾ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿৬﴾
‘‘দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা লোকদের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদের জন্য মাপে বা ওযন করে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে মহাদিবসে? যে দিন দাড়াবে সকল মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সম্মুখে।’’ সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত ১-৬
নবী শুয়াইব আ. এর যুগে মানুষেরা মাপে ও ওযনে কম দিত। তাদের এ অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আল্লাহ শুয়াইব আ. কে প্রেরণ করেন তাদের কাছে। তিনি মাপে কম দেয়া থেকে তাদের বারণ করতে থাকলেন। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে আল্লাহ তাদের উপর গযব নাযিল করে ধ্বংস করে দেন। যেমন আল্লাহ তার বিবরণ দিয়েছেন আল-কুরআনেঃ
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ ﴿৮৪﴾ وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿৮৫﴾
‘‘মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে আমি পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নাই। আর মাপে ও ওযনে কম দিও না; আমিতো তোমাদের সমৃদ্ধশালী দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য ভয় করছি এক সর্বগ্রাসী দিবসের শাস্তি।
হে আমার জাতি! তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ঠিকমত মেপে দিবে ও ওযন করবে, লোকদের তাদের সামগ্রীতে কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে না।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৮৪-৮৫
কিন্তু তারা নবীর আহবানে সাড়া দিল না। তারা মনে করল, তাদের অর্থনৈতিক ব্যাপারে নবীর কথা বলার কী প্রয়োজন আছে? নবী নামাজ পড়বেন। আল্লাহর গুনগান করবেন। লোকের তাদের অর্থনীতি ও সম্পদের আদান-প্রদানে যা ইচ্ছা তা করবে। এখানে ধর্মের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন কী? আল্লাহ তাদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেনঃ
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آَبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ
‘‘তারা বলল, হে শুয়াইব! তোমার নামায কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও বর্জন করতে? তুমি তো অবশ্যই ধৈর্যশীল, ভাল মানুষ।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৮৭
পরে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিলেন।
وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ
‘‘আর যারা সীমালংঘন করেছিল মহানাদ তাদের আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে নতজানু অবস্থায় পড়ে রইল।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৯৪
এ অসিয়তটি করার পর আল্লাহ বলেনঃ
لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
‘‘আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পন করি না।’’ সঠিক মাপ ও ওযনে ক্রয়-বিক্রয় করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষকে না ঠকানোর যে নির্দেশ আমি দিলাম তা পালন করা কঠিন কোন কাজ নয়। বরং মানুষ্য প্রকৃতি ও বিবেক এটাকে সমর্থন করে। এর বিপরীত আচরণকে সমর্থন করে না।
‘‘এবং পরিমাণ ও মাপে ন্যায্যভাবে পুরোপুরি দিবে।’’
আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তারা যে লেনদেন, ক্রয়-বিক্রয়ে মাপে ও ওযনে পুরোপুরি দেয়, কম না দেয়। কেহ যেন তার অধিকারের চেয়ে বেশী ভোগ না করে। এমনিভাবে কেহ যেন তার অধিকারের চেয়ে কম না পায়।
মাপে কম দেয়ার এ খাছলতের কঠোর নিন্দা করেছেন, শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন আল্লাহ পবিত্র কুরআনেঃ
وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ ﴿১﴾ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ﴿২﴾ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ﴿৩﴾ أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ ﴿৪﴾ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿৫﴾ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿৬﴾
‘‘দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা লোকদের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদের জন্য মাপে বা ওযন করে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে মহাদিবসে? যে দিন দাড়াবে সকল মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সম্মুখে।’’ সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত ১-৬
নবী শুয়াইব আ. এর যুগে মানুষেরা মাপে ও ওযনে কম দিত। তাদের এ অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আল্লাহ শুয়াইব আ. কে প্রেরণ করেন তাদের কাছে। তিনি মাপে কম দেয়া থেকে তাদের বারণ করতে থাকলেন। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে আল্লাহ তাদের উপর গযব নাযিল করে ধ্বংস করে দেন। যেমন আল্লাহ তার বিবরণ দিয়েছেন আল-কুরআনেঃ
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ ﴿৮৪﴾ وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿৮৫﴾
‘‘মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে আমি পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নাই। আর মাপে ও ওযনে কম দিও না; আমিতো তোমাদের সমৃদ্ধশালী দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য ভয় করছি এক সর্বগ্রাসী দিবসের শাস্তি।
হে আমার জাতি! তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ঠিকমত মেপে দিবে ও ওযন করবে, লোকদের তাদের সামগ্রীতে কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে না।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৮৪-৮৫
কিন্তু তারা নবীর আহবানে সাড়া দিল না। তারা মনে করল, তাদের অর্থনৈতিক ব্যাপারে নবীর কথা বলার কী প্রয়োজন আছে? নবী নামাজ পড়বেন। আল্লাহর গুনগান করবেন। লোকের তাদের অর্থনীতি ও সম্পদের আদান-প্রদানে যা ইচ্ছা তা করবে। এখানে ধর্মের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন কী? আল্লাহ তাদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেনঃ
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آَبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ
‘‘তারা বলল, হে শুয়াইব! তোমার নামায কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও বর্জন করতে? তুমি তো অবশ্যই ধৈর্যশীল, ভাল মানুষ।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৮৭
পরে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিলেন।
وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ
‘‘আর যারা সীমালংঘন করেছিল মহানাদ তাদের আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে নতজানু অবস্থায় পড়ে রইল।’’ সূরা হুদ, আয়াত ৯৪
এ অসিয়তটি করার পর আল্লাহ বলেনঃ
لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
‘‘আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পন করি না।’’ সঠিক মাপ ও ওযনে ক্রয়-বিক্রয় করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষকে না ঠকানোর যে নির্দেশ আমি দিলাম তা পালন করা কঠিন কোন কাজ নয়। বরং মানুষ্য প্রকৃতি ও বিবেক এটাকে সমর্থন করে। এর বিপরীত আচরণকে সমর্থন করে না।