hadith book logo

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার নিদর্শন

লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

আট- মুসলিমের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি আলামত মুসলিম ভাইকে ভালো উপদেশ দেওয়া:

তুমি তাকে ভালো নসিহত করবে এবং ভালো উপদেশ দেবে, কুরআন ও সূন্নাহের আলোকে কল্যাণের পথ দেখাবে। অনেক কল্যাণের অনুসন্ধানকারী রয়েছে, তারা তাদের পথ প্রদর্শক খুঁজে পায় না। তাদের খুঁজে বের করে সঠিক পথের ওপর তুলে নিয়ে আসবে। জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«بَايَعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ، فَلَقَّنَنِي : «فِيمَا اسْتَطَعْتُ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ»

“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে শোনা ও মানার উপর বাইয়াত গ্রহণ করি। তিনি আমাদের বলে দেন- যতটুকু সম্ভব, আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হিতাকাঙ্খী হওয়ার ওপর (বাইয়াত গ্রহণ করি) [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৬]।”

ইমাম মুসলিম সাহাবী আবু রুকাইয়া তামীম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قُلْنَا : لِمَنْ؟ قَالَ : «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ»

“দীন হলো, নসীহত। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কিতাবের জন্য, তার রাসূলের জন্য, মুসলিম শাসকদের জন্য এবং সর্ব সাধারণের জন্য [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫]।” কারণ, মুসলিমদের মধ্যে কল্যাণকামীতা ও হিতাকাঙ্খিতা না থাকা আল্লাহর নারাজি ও অভিশাপ লাভের কারণ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لُعِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ ٧٨ كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوۡنَ عَن مُّنكَرٖ فَعَلُوهُۚ لَبِئۡسَ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٧٩﴾ [ المائ‍دة : ٧٨، ٧٩ ]

“বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফুরী করেছে তাদেরকে দাঊদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখে লা‘নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত, তা কতই না মন্দ”!। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৭৮-৭৯]

বর্তমানে প্রবৃত্তির পূজারীরা, তাদের প্রবৃত্তির চাহিদার পরিপন্থী কোনো কথা শোনতে রাজি নয়, তারা তাই শোনে যা তাদের প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী হয়, বরং অন্যায়কারীদের যারা বাঁধা দেয়, তাদের তারা বিরোধিতা করে, যদিও তারা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মারাত্মক বড় কোনো গুনাহ যেমন শির্ককে বাধা দিয়ে থাকে। কারণ, তাদের নিকট তাও নাকি বিশৃঙ্খলা ও ফিতনাকে উসকে দেওয়া! আর হিকমত হলো, ফিতনাকে দাবিয়ে রাখা! একজন মুশরিক প্রকাশ্যে শির্ক করে বেড়াবে আমরা তাকে বাধা না দিয়ে শুধু মিম্বারের খুৎবা দিয়েই চুপ থাকব! এটি কি কোনো নসীহত, কল্যাণকামিতা বা হিতাকাঙ্খীতা হলো যার ওপর সাহাবীগণ রাসূলের হাতে বাইয়াত করেছিলেন?! ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।