hadith book logo

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার নিদর্শন

লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

নয়- মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি আলামত আল্লাহর বিধান আদায়ে সহযোগিতা করা:

আল্লাহর বিধানের অধীনে থেকে একজন মুসলিম ভাইয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং তার অবস্থান অনুযায়ী তার যথাযথ সম্মান করা। এ বিষয়ে আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

«أَنَّ رَجُلًا، قَالَ : وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلاَةِ الغَدَاةِ مِنْ أَجْلِ فُلاَنٍ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَوْعِظَةٍ أَشَدَّ غَضَبًا مِنْهُ يَوْمَئِذٍ، ثُمَّ قَالَ : «إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ، فَأَيُّكُمْ مَا صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيَتَجَوَّزْ، فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالكَبِيرَ وَذَا الحَاجَةِ»

“এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সালাত দীর্ঘায়িত করে এ কারণে আমি ফজরের সালাতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকি। বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ওয়াজে সেদিনের মতো এত বেশি রাগান্বিত হতে দেখি নি। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কতক লোক আছে যারা মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউ সালাতে ইমামতি করে সে যেন, সালাতকে সংক্ষেপ করে। কারণ, মুসল্লীদের মধ্যে রয়েছে দুর্বল, বুড়ো এবং কর্ম ব্যস্ত কর্মিক”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৬]

এ হাদীসটিকে অনেক সমাজকর্মী যারা সমাজকে খুশি করতে ব্যস্ত থাকে তা খুব আনন্দ এবং গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। ফলে তারা তাদের সালাতে কুরআনের শেষের সূরাগুলো যেমন, কাফিরূন, আলাম নাশরাহ ইত্যাদি সূরাগুলোই পড়েন। তাদেরকে জুমু‘আর দিনের ফজরের সালাতে সূরা সাজদাহ ও দাহার এবং জুমু‘আর সালাতে সূরা আল-আ‘লা ও সূরা আল-গাশিয়া ছাড়া আর কোনো সুন্নাত কিরাতের ওপর আমল করতে দেখা যায় না। আর অন্যান্য সালাতগুলো তারা তাদের মর্জি অনুযায়ী যে কোনো কিরাত দিয়ে পড়ে। ফলে তাদের দেখা যায় তারা একবার সূন্নাত মানে আর বহুবার ছাড়েন।

উল্লিখিত হাদীসটিতে চিন্তা করে দেখুন, উম্মতের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া কী পরিমাণ ছিল। তিনি তাদের কষ্টকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন নি। ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,

«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلَاةِ الظُّهْرِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ قَدْرَ ثَلَاثِينَ آيَةً، وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ قَدْرَ خَمْسَ عَشْرَةَ آيَةً أَوْ قَالَ نِصْفَ ذَلِكَ وَفِي الْعَصْرِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ قَدْرَ قِرَاءَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ آيَةً وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ قَدْرَ نِصْفِ ذَلِكَ»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের সালাতের প্রথম দুই রাকাতে ত্রিশ আয়াত এবং দ্বিতীয় দুই রাকাতে পনের আয়াত পড়তেন অথবা বলল, প্রথম রাকাতের অর্ধেক পড়তেন। আর আসরের সালাতের প্রথম দুই রাকাতে পনের আয়াত এবং দ্বিতীয় দুই রাকাতে প্রথম রাকাতের অর্ধেক পরিমাণ পড়তেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫২]

ইমাম মুসলিম জাবের ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,

«كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ بِاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى، وَفِي الْعَصْرِ نَحْوَ ذَلِكَ . وَفِي الصُّبْحِ أَطْوَلَ مِنْ ذَلِكَ»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের সালাতে ‘সুরাতুল লাইল’ পড়তেন এবং আসরেও অনুরূপ পড়তেন। আর ফজরের সালাতে এর চেয়ে লম্বা কিরাত পড়তেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৯]

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«لَقَدْ كَانَتْ صَلَاةُ الظُّهْرِ تُقَامُ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْبَقِيعِ فَيَقْضِي حَاجَتَهُ . ثُمَّ يَتَوَضَّأُ . ثُمَّ يَأْتِي وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِمَّا يُطَوِّلُهَا»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত এত দীর্ঘ ছিল যে, জোহরের সালাতের একামত দেওয়া হত, তখন একজন ব্যক্তি বাকীতে গিয়ে হাজত পুরো করত, তারপর অযু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতের প্রথম রাকাতে উপস্থিত হত”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৪]

এ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত জোহরের সালাতের ক্ষেত্রে। তোমরা এটিরই অনুকরণ কর। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।