১
ইলমে দীন অর্জনের পথ ও পদ্ধতি
লেখকঃ সালেহ ইবন আবদুল আযীয আলে শাইখ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
প্রথমত: ইলম হাসিল করতে হলে তালিবে ইলমের মধ্যে প্রয়োজনীয় আদব-আখলাক থাকতে হবে: এক: ইলম অর্জন করতে হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য;
যেহেতু ইলমে দীন অর্জন একটি ইবাদত। তালিবে ইলমের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহর ফিরিশতারা ডানা বিছিয়ে দেয় মর্মে হাদীস সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহর দরবারে এই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য এবং আল্লাহ তাকে এই ইবাদত করার তাওফীক দেওয়ার জন্য তালিবে ইলমকে আল্লাহর প্রতি মুখলিস (একনিষ্ঠ) হতে হবে। কোনো দুনিয়াবী পদ বা পদবী পাওয়ার নিয়তে ইলম অর্জন করা যাবে না। অর্থাৎ ইলমে শর‘ঈ তথা কুরআন ও হাদীসের ইলম সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন, শিক্ষক হওয়া, প্রভাষক হওয়া, জনগণের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া বা আলোচনা পেশ করার সুযোগ পাওয়ার নিমিত্তে অর্জন করা যাবে না। বরং তালিবে ইলমের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর ইবাদত করা, নিজের অজ্ঞতা দূর করা এবং সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যক্তি নিজে আল্লাহর ইবাদত করতে সমর্থ হওয়া।
তাহলে বুঝা গেল যে, ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস বা একনিষ্ঠতার অর্থ হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করা; দুনিয়াবী কোনো কিছু প্রত্যাশা না করা। তার নিয়ত হবে নিজের অজ্ঞতা দূর করা। ইমাম আহমাদ রহ.-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো: ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস হলো, নিজের অজ্ঞতা দূর করার নিয়ত করা। যেহেতু একজন আলেম আর একজন সাধারণ মানুষ সমমর্যাদার অধিকারী নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَمَّنۡ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيۡلِ سَاجِدٗا وَقَآئِمٗا يَحۡذَرُ ٱلۡأٓخِرَةَ وَيَرۡجُواْ رَحۡمَةَ رَبِّهِۦۗ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ﴾ [ الزمر : ٩ ]
“যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সাজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আখেরাতের আশংকা রাখে এবং তার রবের রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান যে এরূপ করে না? বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না উভয় কি সমান হতে পারে?” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
﴿يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَٰتٖۚ﴾ [ المجادلة : ١١ ]
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন”। [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত : ১০] আয়াত থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা‘আলা আহলে ইলমকে (ইলমধারীকে) সাধারণ বান্দাদের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। যে ব্যক্তি ইলমের ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করার নিয়ত করে, নিজেকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বাঁচাতে চায় এবং বাস্তব জীবনে শরী‘আতের অনুসারী হওয়ার নিয়ত করে সে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস হাসিল করেছে। যেহেতু সে এই ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করেছে এবং নিজের প্রবৃত্তি-খেয়ালখুশির অন্ধ-অনুসরণ ও মূর্খতা থেকে নিজেকে বাঁচানোর ইচ্ছা করেছে।
বস্তুত ইখলাস হচ্ছে তালিবে ইলমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তালিবে ইলমের আরো অনেক গুণাবলী রয়েছে। এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত ও সংকলিত হয়েছে। এর কোনটির কলেবর ছোট, কোনটির কলেবর বড়। তবে এখানে স্থান অনুযায়ী এর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমরা উল্লেখ করব।
তাহলে বুঝা গেল যে, ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস বা একনিষ্ঠতার অর্থ হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করা; দুনিয়াবী কোনো কিছু প্রত্যাশা না করা। তার নিয়ত হবে নিজের অজ্ঞতা দূর করা। ইমাম আহমাদ রহ.-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো: ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস হলো, নিজের অজ্ঞতা দূর করার নিয়ত করা। যেহেতু একজন আলেম আর একজন সাধারণ মানুষ সমমর্যাদার অধিকারী নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَمَّنۡ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيۡلِ سَاجِدٗا وَقَآئِمٗا يَحۡذَرُ ٱلۡأٓخِرَةَ وَيَرۡجُواْ رَحۡمَةَ رَبِّهِۦۗ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ﴾ [ الزمر : ٩ ]
“যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সাজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আখেরাতের আশংকা রাখে এবং তার রবের রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান যে এরূপ করে না? বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না উভয় কি সমান হতে পারে?” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
﴿يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَٰتٖۚ﴾ [ المجادلة : ١١ ]
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন”। [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত : ১০] আয়াত থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা‘আলা আহলে ইলমকে (ইলমধারীকে) সাধারণ বান্দাদের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। যে ব্যক্তি ইলমের ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করার নিয়ত করে, নিজেকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বাঁচাতে চায় এবং বাস্তব জীবনে শরী‘আতের অনুসারী হওয়ার নিয়ত করে সে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ইখলাস হাসিল করেছে। যেহেতু সে এই ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করেছে এবং নিজের প্রবৃত্তি-খেয়ালখুশির অন্ধ-অনুসরণ ও মূর্খতা থেকে নিজেকে বাঁচানোর ইচ্ছা করেছে।
বস্তুত ইখলাস হচ্ছে তালিবে ইলমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তালিবে ইলমের আরো অনেক গুণাবলী রয়েছে। এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত ও সংকলিত হয়েছে। এর কোনটির কলেবর ছোট, কোনটির কলেবর বড়। তবে এখানে স্থান অনুযায়ী এর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমরা উল্লেখ করব।