১
বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষানীতির রূপরেখা
লেখকঃ আবদুস শহীদ নাসিম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
৪. আল্লাহর দাসত্ব ও মানুষের প্রতিনিধিত্ব নীতির শিক্ষা ব্যবস্থা :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা যে মূল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তাহলো মানুষ বিশ্ব নিখিলের সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও পরিচালক এক লা-শরিক আল্লাহর দাস। তাঁর দাসত্ব করার জন্যই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তাঁর দাস মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ﴿56﴾ ( الذاريات :56)
আমি জিন আর মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু মাত্র আমার দাসত্ব করার জন্য। [সূরা যারিয়াত : ৫৬]এই দাস মানুষকে পৃথিবীতে যে তাঁর প্রতিনিধিও নিযুক্ত করবেন, একথা মানুষকে সৃষ্টি করবার প্রাক্কালেই তিনি ফেরেশতাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন :
وَاِذَ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلاَئِكَةِ اِنْىْ جَاعِلٌ فِىْ الاَرْضِ خَلَيْفَةً ـ ( البقرة : 30)
আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশাতাদের বললেন নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করছি। ( সূরা বাকারা:৩০)
মানুষের মধ্যে আল্লাহর দাসত্ব ও প্রতিনিধিত্ব করার চেতনা জাগ্রত করে দিয়ে তাকে আল্লাহর সত্যিকার দাস ও প্রতিনিধিরূপে গড়ে তোলাই এ শিক্ষানীতর মূল কথা। আর এটাই মানুষের প্রকৃত ও সত্যিকারের মর্যাদা। তাই নবুওয়তি শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য আদর্শ নাগরিক তৈরি নয়, আদর্শ মানুষ তৈরি।
এই শিক্ষনীতি মানুষকে যেভাবে গড়ে তুলবার পরিকল্পনা দিয়েছে, তাহলো, মানুষ এক লা-শরিক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। রাসূলের মাধ্যমে প্রদত্ত বিধানের [দীন ও শরিয়ার[ ভিত্তিতে তাঁর দাসত্ব করবে। সে শুধু নিজের একার মুক্তির জন্যেই কাজ করবেনা, বরঞ্চ আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের ভিত্তিতে গোটা বিশ্ব মানবতার পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণ, মুক্তি ও উন্নয়নের জন্যে নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করে যাবে। এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে আখিরাতের আদালতে তাকে কঠিন জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে এবং পরিণতিতে চিরকাল যন্ত্রাণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে। পক্ষান্তরে যে এ সব দায়িত্ব পালন করবে। এক্ষেত্রে তার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও ভালবাসা লাভকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। এভাবেই মানুষ সত্যিকারভাবে ইবাদত ও খিলাফতের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আর্দশ মানুষে পরিণত হবে। আর এ উদ্দেশ্যেই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে :
َمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿207﴾ ( البقرة :207)
আরেকটি মানব দল আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নিজেদের জান প্রাণ উৎসর্গ করে দেয়। মূলত : আল্লাহ তাঁর এই দাসদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। [সূরা আল বাকারা : ২০৭]
মানুষকে এভাবে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য। কারণ এটাই মানুষের পার্থিব ও পারলৌকিক মুক্তি ও কল্যাণ লাভের একমাত্র পথ।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ﴿56﴾ ( الذاريات :56)
আমি জিন আর মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু মাত্র আমার দাসত্ব করার জন্য। [সূরা যারিয়াত : ৫৬]এই দাস মানুষকে পৃথিবীতে যে তাঁর প্রতিনিধিও নিযুক্ত করবেন, একথা মানুষকে সৃষ্টি করবার প্রাক্কালেই তিনি ফেরেশতাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন :
وَاِذَ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلاَئِكَةِ اِنْىْ جَاعِلٌ فِىْ الاَرْضِ خَلَيْفَةً ـ ( البقرة : 30)
আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশাতাদের বললেন নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করছি। ( সূরা বাকারা:৩০)
মানুষের মধ্যে আল্লাহর দাসত্ব ও প্রতিনিধিত্ব করার চেতনা জাগ্রত করে দিয়ে তাকে আল্লাহর সত্যিকার দাস ও প্রতিনিধিরূপে গড়ে তোলাই এ শিক্ষানীতর মূল কথা। আর এটাই মানুষের প্রকৃত ও সত্যিকারের মর্যাদা। তাই নবুওয়তি শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য আদর্শ নাগরিক তৈরি নয়, আদর্শ মানুষ তৈরি।
এই শিক্ষনীতি মানুষকে যেভাবে গড়ে তুলবার পরিকল্পনা দিয়েছে, তাহলো, মানুষ এক লা-শরিক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। রাসূলের মাধ্যমে প্রদত্ত বিধানের [দীন ও শরিয়ার[ ভিত্তিতে তাঁর দাসত্ব করবে। সে শুধু নিজের একার মুক্তির জন্যেই কাজ করবেনা, বরঞ্চ আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের ভিত্তিতে গোটা বিশ্ব মানবতার পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণ, মুক্তি ও উন্নয়নের জন্যে নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করে যাবে। এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে আখিরাতের আদালতে তাকে কঠিন জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে এবং পরিণতিতে চিরকাল যন্ত্রাণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে। পক্ষান্তরে যে এ সব দায়িত্ব পালন করবে। এক্ষেত্রে তার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও ভালবাসা লাভকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। এভাবেই মানুষ সত্যিকারভাবে ইবাদত ও খিলাফতের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আর্দশ মানুষে পরিণত হবে। আর এ উদ্দেশ্যেই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে :
َمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿207﴾ ( البقرة :207)
আরেকটি মানব দল আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নিজেদের জান প্রাণ উৎসর্গ করে দেয়। মূলত : আল্লাহ তাঁর এই দাসদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। [সূরা আল বাকারা : ২০৭]
মানুষকে এভাবে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য। কারণ এটাই মানুষের পার্থিব ও পারলৌকিক মুক্তি ও কল্যাণ লাভের একমাত্র পথ।