hadith book logo

বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষানীতির রূপরেখা

লেখকঃ আবদুস শহীদ নাসিম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

৫. পূর্ণাঙ্গ জীবন ভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষা

মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর শিক্ষা মানব জীবনের কোনো একটি বা দুটি দিকের জন্য সীমাবদ্ধ শিক্ষা নয়। বরঞ্চ তাঁর শিক্ষা ব্যবস্থার কেবল বৈষয়িক ও বস্তগত শিক্ষার প্রতিই গুরুত্বারোপ করা হয়। এই একমুখী বস্তুগত শিক্ষাই বর্তমান বিশ্বের সমস্ত বিপর্যয়ের মূল কারণ। আসলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পূর্ণাঙ্গ জীবন ভিত্তিক শিক্ষাই কেবল মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। ইসলাম মানব প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশ সাধন করতে চায়। তাই ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম।

রসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথিদের একই সাথে আত্মিক, মানসিক, নৈতিক, শরীরিক, জৈবিক ও সামাজিক শিক্ষা প্রদান করেছেন। মানব জীবনকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করেননি। বরং একটি এককের অধীন করেছেন। মূলত জীবনের সকল দিকের সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান ও উপলব্ধির মাধ্যমে জীবনের ষোল আনাকে বিকশিত করতে পারলেই মানুষ আদর্শ মানুষ পরিণত হতে পারে :

لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآَتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآَتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ ﴿177﴾ ( البقرة : 177)

পূর্ব কিংবা পশ্চিম দকে মুখ ফিরানো আসল পূণ্যের কাজ নয়। প্রকৃত পূণ্যের কাজ তো সেই ব্যক্তি করলো, যে নিষ্ঠার সাথে ঈমান আনলো আল্লাহ, পরকালে, ফেরেশতা, কিতাব ও নবীদের প্রতি আর আল্লাহর ভালবাসা পাবার জন্যে নিজের ধন সম্পদ ব্যয় করলো আত্মীয় স্বজন, এতীম, মিসকীন, পথিক, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্যে। তাছাড়া সালাত কায়েম করলো এবং যাকাত পরিশোধ করলো আর এই পূণ্যবান লোকেরা হয়ে থাকে প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী এবং দারিদ্র, দু:সময়, দু:খ-দুর্দশা, বিপদ আপদে ধৈর্য ধারণকারী। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী। [সূরা আল বাকারা : ১৭৭]

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ রকম সত্যপন্থী ন্যায়বান আর্দশ মানুষই তৈরি করেছিলেন। জীবনের সকল দিক ও বিভাগের সর্বোত্তম মানবীয় গুণাবলী বিকশিত করে দিয়েছিলেন তিনি তার সর্বাঙ্গীন পরিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ শিক্ষা মানুষকে কেবল বৈষয়িক দিক থেকেই যোগ্য করে না, পরকালীন সাফল্যও প্রদান করে। তাইতো নবীর ছাত্ররা তাদের মনিবের দরবারে উভয় জগতের সাফল্য ও কল্যাণের ফরিয়াদ করে :

رَبَّنَا اتِنَا فِىْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِىْ الاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقَنَا عَذَابَ النَّارِ ـ ( البقرة : 201(

আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো। আর পরকালের কল্যাণও। আর আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচাও। (সূরা বাকারা : ২০১)বস্তুত এই শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গতার কারণেই নবীর সাথীরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব দলে পরিণত হয়েছিলেন।