hadith book logo

কুরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে আযান ও ইকামত

লেখকঃ সাঈদ ইবন আলী ইবন ওহাফ আল-কাহতানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

এক: আযান ও ইকামতের অর্থ এবং উভয়ের হুকুম:

১. আযানের আভিধানিক অর্থ: কোনো জিনিস সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَذَٰنٞ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦٓ ٣﴾

“আর আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে আযান”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩] অর্থাৎ ঘোষণা। অন্যত্র তিনি বলেন,

﴿ءَاذَنتُكُمۡ عَلَىٰ سَوَآءٖۖ ١٠٩﴾

“আর আমি যথাযথভাবে তোমাদেরকে আযান দিয়ে দিয়েছি”। [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৯] অর্থাৎ জানিয়ে দিয়েছি। ফলে জ্ঞানের দিক দিয়ে আমরা সকলে সমান। [আন-নিহায়া  ফি গারিবিল হাদীস: (১/৩৪); মুগনি লি ইবন কুদামা: (২/৫৩)।]

শরী‘আতের পরিভাষায় আযান: “শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে সালাতের সময় সম্পর্কে ঘোষণা প্রদান করা”। [মুগনি লি ইবন কুদামা: (২/৫৩); তারিফাত লি জুরজানি: (পৃ. ৩৭); সুবুলুস সালাম: (২/৫৫)।] আযানের নাম এ জন্য আযান হয়েছে, যেহেতু মুয়াজ্জিন‎ সাহেব মানুষদেরকে সালাতের সময় জানিয়ে দেন ও তার ঘোষণা প্রদান করেন। আযানের আরেক নাম হচ্ছে ‘নিদা’ অর্থাৎ আহ্বান। কারণ, মুয়াজ্জিন‎ সাহেব লোকদেরকে ডাকেন ও তাদেরকে সালাতের দিকে আহ্বান করেন। [শারহুল উমদাহ লি ইবন তাইমিয়া: (২/৯২)।] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِذَا نَادَيۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ ٱتَّخَذُوهَا هُزُوٗا وَلَعِبٗاۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَعۡقِلُونَ ٥٨﴾

“আর যখন তোমরা সালাতের দিকে ডাক, তখন ‎ তারা একে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ ‎ করে। তা এই কারণে যে, তারা এমন কওম, যারা ‎ বুঝে না”। [সুরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৫৮]‎

﴿إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوۡمِ ٱلۡجُمُعَةِ فَٱسۡعَوۡاْ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِ﴾

“যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও”।‎ [সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত: ৯]

২. ইকামতের আভিধানিক অর্থ: الإقامة শব্দটি أقام ক্রিয়া এর মূল ধাতু বা মাসদার। আরবিতে إقامة الشيء তখনই বলা হয়, যখন কোনো কিছু স্থির ও সোজা করা হয়।

শরী‘আতের পরিভাষায় ইকামত: “নির্দিষ্ট যিকিরের মাধ্যমে সালাত আরম্ভ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া”। [রওজুল মুরবি: (১/৪২৮)।] অতএব, আযান হচ্ছে সময়ের ঘোষণা দেওয়া, আর ইকামত হচ্ছে সালাত আরম্ভের ঘোষণা দেওয়া। ইকামতকে দ্বিতীয় আযান বা দ্বিতীয় আহ্বানও বলা হয়। [শারহুল উমদাহ: (২/৯৫)।]

৩. পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমু‘আর সালাত আদায়ের জন্য আযান ও ইকামত দেওয়া পুরুষদের ওপর ফরযে কিফায়া, নারীদের ওপর নয়। আযান ও ইকামত উভয় ইসলামী শরী‘আতের বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِذَا نَادَيۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ ٱتَّخَذُوهَا هُزُوٗا وَلَعِبٗاۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَعۡقِلُونَ ٥٨﴾

“আর যখন তোমরা সালাতের দিকে ডাক, তখন ‎ তারা একে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ ‎ করে। তা এই কারণে যে, তারা এমন কওম, যারা ‎ বুঝে না”। [সুরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৫৮]

অন্যত্র তিনি বলেন,

﴿إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوۡمِ ٱلۡجُمُعَةِ فَٱسۡعَوۡاْ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِ ٩﴾

“হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও”।‎ [সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত: ৯]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«فإذا حضرت الصلاة فليؤذِّن لكم أحدكم وليؤمَّكم أكبركم» .

“যখন সালাতের সময় হয়, তখন তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি যেন তোমাদের ইমামতি করে”। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আযান ফরযে কিফায়া।

ইবন তাইমিয়া রহ. বলেন, “মুতাওতির হাদীসে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য আযান দেওয়া হতো, এটা উম্মতের ইজমা‘ এবং তাদের আমলের পরম্পরা দ্বারা প্রমাণিত”। [শারহুল উমদা: (২/৯৬); ফাতওয়া ইবন তাইমিয়া: (২২/৬৪)।]

বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী আযান দেওয়া পুরুষদের জন্য ওয়াজিব: বাড়িতে বা সফরে, একাকী বা জমা‘আতের সাথে সালাত আদায়কারী, আদায় সালাত বা কাযা সালাত আদায়কারী, স্বাধীন বা গোলাম সবার ওপর আযান ওয়াজিব। [এটাই শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন বায রহ.-এর অভিমত। রওজুল মুরবি গ্রন্থের ব্যাখ্যার সময় আমি তার নিকট এ কথা শ্রবণ করি। আরো দেখন: মুখতারাতুল জালিয়্যাহ লি সাদি: (পৃ. ৩৭), ফাতোয়া শায়খ মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম: (২/২২৪), শারহুল মুমতি: (২/৪১)।]