hadith book logo

স্ত্রী নির্বাচন

লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

লাভ-ম্যারেজ বা প্রেম করে বিবাহ

প্রেম করে স্ত্রী গ্রহণ করা আদৌ কোন ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য নয়। বর্তমান যুগে শত শত যুবক প্রেম করে স্ত্রী গ্রহণ করছে। মেয়েকে প্রেমের জালে বেঁধে ঘর ছাড়া করে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই কোর্টে গিয়ে কিংবা কাজী অফিসে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবীকে অথবা দূর আত্মীয়কে অভিভাবক সাজিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করছে- যা আদৌ ঠিক নয়। এভাবে বিবাহ সম্পন্ন করার পর ছেলে এবং মেয়ে অর্থাৎ প্রেমিক এবং প্রেমিকা দাম্পত্য জীবন শুরু করলে তাদের উপর ততদিন পর্যন্ত ব্যভিচারের পাপ হতে থাকবে, যতদিন পর্যমত্ম তারা অভিভাবকের অনুমতি না নিয়ে পুনরায় বিবাহ সম্পন্ন করবে এবং দাম্পত্য জীবন শুরু করবে। কেননা মেয়ের পিতা বা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ হয় না। যেমন-

আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ বলেছেন,

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ

‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয় না’। [তিরমিযি হু.আ. হা:১১০১, আহমাদ, ইবনু মাজাহ ১৮৮১, দায়েমী, মিশকাত হাঃ ৩১৩০]

রাসূল ﷺ বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَالْمَهْرُ لَهَا بِمَا أَصَابَ مِنْهَا فَإِنْ تَشَاجَرُوْا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهٗ

‘যদি কোন নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে, তবে তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল। এরূপ অবৈধ পন্থায় বিবাহিত নারীর সাথে স্বামী সহবাস করলে তাকে মোহর দিতে হবে। কারণ স্বামী মোহরের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে। যদি অভিভাবকগণ বিবাদ করেন, তবে যার অভিভাবক নেই তার অভিভাবক দেশের শাসক’। [তিরমিযি হা:১১০২, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিববান, হাকেম, মিশকাত হাঃ ৩১৩১]

অত্র হাদীসদ্বয় থেকে প্রমাণিত হয় ঐ বিবাহ বাতিল হবে যাতে অভিভাবকের অনুমতি থাকে না।

জ্ঞাতব্য যে, মেয়ের মাতা বা অন্য কোন মহিলার অভিভাবকত্বে বিবাহ বৈধ হবে না। [আয-যিওয়াজ ইবনে উসাইমীন ১৬ পৃ.]