১
স্ত্রী নির্বাচন
লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
কতিপয় প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন : ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে পাওয়ার জন্য বিশেষ কোন আমল আছে কি?উত্তর : ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আলস্নাহর কাছে দু‘আ করুন এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করম্নন।
প্রশ্ন : ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে খুঁজে বের করব কী করে?উত্তর : বর্তমান যুগে সৎ, পরহেযগার ও মুত্তাকী মেয়ে খুঁজে পাওয়া বড়ই কঠিন ব্যাপার। তারপরও নিজে এবং শরীয়তসম্মত পন্থায় আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে খুঁজতে হবে।
প্রশ্ন : যে নারী শিরক ও বিদআতের সাথে সংশিস্নষ্ট, তাকে বিবাহ করা যাবে কী?
উত্তর : মুশরিক নারীকে আলস্নাহ বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই যে নারী মাযার পূজা করে, কবর পূজা করে, পীর-ফকির ও মাযারের কাছে কিছু চায় তাকে বিবাহ করা যাবে না। তবে সে যদি তওবা করে ফিরে আসে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। আর বিদআতীকে আশ্রয়দানকারীর উপর আলস্নাহর, ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের অভিশাপ। অতএব আপনি বিদআতী নারীকে আশ্রয় দিয়ে অভিশপ্ত হবেন কি না ভেবে দেখুন।
প্রশ্ন : সালাত পরিত্যাগকারী নারী/পুরুষকে বিবাহ করা যাবে কি?উত্তর : এ প্রশ্নের জবাবে শায়খ উসাইমিন (রহ.) এর ফাতাওয়া নকল করছি। তিনি বলেন, কোন পুরুষ/নারী যদি এমন লোককে বিবাহ করে, যে একাকী সালাত আদায় করে না এবং জামাআতের সাথেও সালাত আদায় করে না, তার বিবাহ বিশুদ্ধ নয়। কেননা সালাত পরিত্যাগকারী কাফির। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيْقٍ الْعُقَيْلِيِّ قَالَ : كَانَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ - لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهٗ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ
আবদুলস্নাহ বিন শাকীক আল উকাইলী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ এর সাহাবীগণ সালাত ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফির মনে করতেন না। [তিরমিযী হা: ২৬২২; মুসতাদরাক আল হাকিম হা: ১২]
সুতরাং কাফিরের জন্য কোন মুসলিম নারী/পুরুষ বৈধ নয়।
প্রশ্ন : বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী ও নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারীকে বিবাহ করা যাবে কি?উত্তর : এমন নারী যদি মুসলিম হয় তাহলে তাদের বিবাহ করা অবৈধ নয়। তবে সে আপনার স্ত্রী হওয়ার পর আপনি ব্যতীত অন্যের সামনে নগ্ন-অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরা-ফেরা করে, টিভিতে সিনেমা, নাটক ও অন্যান্য সিরিয়াল দেখে যত পাপ করবে তার ভাগীদার আপনাকেও হতে হবে। স্ত্রীর কারণে দাইয়ুছ এর পরিচয় ফুটে উঠলে আপনাকে জাহান্নামে যেতে হবে। কাজেই উক্ত বৈশিষ্ট্যের নারীকে বিবাহ করবেন কি না ভেবে দেখুন।
প্রশ্ন : বিধবা নারীকে বিবাহ করা ভালো না কুমারী নারী?উত্তর : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ১১জন স্ত্রীর মধ্যে ১০জন ছিলেন বিধবা বা বিবাহিতা। অপরদিকে হাদীসে এসেছে, একদা জাবের (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী নারী বিবাহ করেছ না বিধবা? উত্তরে তিনি বললেন, বিধবা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি কুমারী বিবাহ করলে না কেন? যার সঙ্গে তুমি খেলা করতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা করত। [বুখারী হা: ৪৪৩, ৫০৭৯, মুসলিম ৩৫/৫৬, হা: ১৯২৮১]
অত্র হাদীসে কুমারী নারীর ভিন্ন বৈশিষ্ট্য উলেস্নখ করা হয়েছে। তাই শরীয়তে উভয় শ্রেণির নারীকেই বিবাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই যার যেমন পছন্দ সে তেমন বিবাহ করবে।
প্রশ্ন : শুধুমাত্র পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত নারীকে বিবাহ করলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর : শুধুমাত্র পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত নারীকে বিবাহ করলে আপনার বংশধারায় চরম ক্ষতি নেমে আসতে পারে। যেমন আপনার সমত্মানকে সে পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করবে। ফলে আপনার বংশে কালক্রমে এমন মানুষ আর পাওয়া যাবে না, যে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য বা আপনার আত্মীয়-স্বজনের জন্য কল্যাণের দু‘আ করবে। কারণ তাদেরকে তো দু‘আ শেখানো হয়নি। আপনার স্ত্রী পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কারণে দুনিয়া নিয়ে সদা ব্যসত্ম থাকবে এবং আলস্নাহর ইবাদাত থেকে দূরে থাকার কারণে আপনি সওয়াব লাভ করা থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ আপনার খেয়ে-পরে যদি সে আলস্নাহর ইবাদাত করত, তাহলে আপনিও তার সওয়াবের একটা অংশ পেতেন। তবে তার সওয়াব থেকে কোন কমতি করা হতো না।
প্রশ্ন : প্রাপ্তবয়স্ক নারীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে কি?
উত্তর : আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী ﷺ বলেছেন, ‘‘কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আলস্নাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি’’। [বুখারী হা: ৫১৩৬, ৬৯৭০, মুসলিম ১৬/৮ হা: ১৪১৯; আহমাদ হা: ৯৬১১, ই.ফা.হাঃ ৪৭৬০]
অত্র হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুমারী মেয়ের অনুমতি ছাড়া এবং বিধবা নারীর সম্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে না।
প্রশ্ন : ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে খুঁজে বের করব কী করে?উত্তর : বর্তমান যুগে সৎ, পরহেযগার ও মুত্তাকী মেয়ে খুঁজে পাওয়া বড়ই কঠিন ব্যাপার। তারপরও নিজে এবং শরীয়তসম্মত পন্থায় আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভালো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে খুঁজতে হবে।
প্রশ্ন : যে নারী শিরক ও বিদআতের সাথে সংশিস্নষ্ট, তাকে বিবাহ করা যাবে কী?
উত্তর : মুশরিক নারীকে আলস্নাহ বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই যে নারী মাযার পূজা করে, কবর পূজা করে, পীর-ফকির ও মাযারের কাছে কিছু চায় তাকে বিবাহ করা যাবে না। তবে সে যদি তওবা করে ফিরে আসে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। আর বিদআতীকে আশ্রয়দানকারীর উপর আলস্নাহর, ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের অভিশাপ। অতএব আপনি বিদআতী নারীকে আশ্রয় দিয়ে অভিশপ্ত হবেন কি না ভেবে দেখুন।
প্রশ্ন : সালাত পরিত্যাগকারী নারী/পুরুষকে বিবাহ করা যাবে কি?উত্তর : এ প্রশ্নের জবাবে শায়খ উসাইমিন (রহ.) এর ফাতাওয়া নকল করছি। তিনি বলেন, কোন পুরুষ/নারী যদি এমন লোককে বিবাহ করে, যে একাকী সালাত আদায় করে না এবং জামাআতের সাথেও সালাত আদায় করে না, তার বিবাহ বিশুদ্ধ নয়। কেননা সালাত পরিত্যাগকারী কাফির। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيْقٍ الْعُقَيْلِيِّ قَالَ : كَانَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ - لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهٗ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ
আবদুলস্নাহ বিন শাকীক আল উকাইলী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ এর সাহাবীগণ সালাত ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফির মনে করতেন না। [তিরমিযী হা: ২৬২২; মুসতাদরাক আল হাকিম হা: ১২]
সুতরাং কাফিরের জন্য কোন মুসলিম নারী/পুরুষ বৈধ নয়।
প্রশ্ন : বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী ও নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারীকে বিবাহ করা যাবে কি?উত্তর : এমন নারী যদি মুসলিম হয় তাহলে তাদের বিবাহ করা অবৈধ নয়। তবে সে আপনার স্ত্রী হওয়ার পর আপনি ব্যতীত অন্যের সামনে নগ্ন-অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরা-ফেরা করে, টিভিতে সিনেমা, নাটক ও অন্যান্য সিরিয়াল দেখে যত পাপ করবে তার ভাগীদার আপনাকেও হতে হবে। স্ত্রীর কারণে দাইয়ুছ এর পরিচয় ফুটে উঠলে আপনাকে জাহান্নামে যেতে হবে। কাজেই উক্ত বৈশিষ্ট্যের নারীকে বিবাহ করবেন কি না ভেবে দেখুন।
প্রশ্ন : বিধবা নারীকে বিবাহ করা ভালো না কুমারী নারী?উত্তর : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ১১জন স্ত্রীর মধ্যে ১০জন ছিলেন বিধবা বা বিবাহিতা। অপরদিকে হাদীসে এসেছে, একদা জাবের (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী নারী বিবাহ করেছ না বিধবা? উত্তরে তিনি বললেন, বিধবা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি কুমারী বিবাহ করলে না কেন? যার সঙ্গে তুমি খেলা করতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা করত। [বুখারী হা: ৪৪৩, ৫০৭৯, মুসলিম ৩৫/৫৬, হা: ১৯২৮১]
অত্র হাদীসে কুমারী নারীর ভিন্ন বৈশিষ্ট্য উলেস্নখ করা হয়েছে। তাই শরীয়তে উভয় শ্রেণির নারীকেই বিবাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই যার যেমন পছন্দ সে তেমন বিবাহ করবে।
প্রশ্ন : শুধুমাত্র পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত নারীকে বিবাহ করলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর : শুধুমাত্র পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত নারীকে বিবাহ করলে আপনার বংশধারায় চরম ক্ষতি নেমে আসতে পারে। যেমন আপনার সমত্মানকে সে পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করবে। ফলে আপনার বংশে কালক্রমে এমন মানুষ আর পাওয়া যাবে না, যে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য বা আপনার আত্মীয়-স্বজনের জন্য কল্যাণের দু‘আ করবে। কারণ তাদেরকে তো দু‘আ শেখানো হয়নি। আপনার স্ত্রী পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কারণে দুনিয়া নিয়ে সদা ব্যসত্ম থাকবে এবং আলস্নাহর ইবাদাত থেকে দূরে থাকার কারণে আপনি সওয়াব লাভ করা থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ আপনার খেয়ে-পরে যদি সে আলস্নাহর ইবাদাত করত, তাহলে আপনিও তার সওয়াবের একটা অংশ পেতেন। তবে তার সওয়াব থেকে কোন কমতি করা হতো না।
প্রশ্ন : প্রাপ্তবয়স্ক নারীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে কি?
উত্তর : আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী ﷺ বলেছেন, ‘‘কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আলস্নাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি’’। [বুখারী হা: ৫১৩৬, ৬৯৭০, মুসলিম ১৬/৮ হা: ১৪১৯; আহমাদ হা: ৯৬১১, ই.ফা.হাঃ ৪৭৬০]
অত্র হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুমারী মেয়ের অনুমতি ছাড়া এবং বিধবা নারীর সম্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে না।