১
অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ নিফাক
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
পরিশিষ্ট
উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা মুনাফিকদের তৎপরতা ও নিফাকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আমরা কিছুটা হলেও জানতে পারছি। নিফাক এমন একটি মারাত্মক ব্যাধি ও নিন্দনীয় চরিত্র, যা মানুষের জন্য খুবই ক্ষতি ও মারাত্মক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা নিফাকের গুণে গুণান্বিত তাদের গাদ্দার, খিয়ানত কারী, মিথ্যুক ও ফাজের বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, একজন মুনাফিক তার ভিতরে যা আছে, সে তার বিপরীত জিনিসটিকে প্রকাশ করে। সে নিজেকে সত্যবাদী দাবী করলেও সে নিজেই জানে নিশ্চয় সে একজন মিথ্যুক। সে নিজেকে আমানতদার দাবী করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে একজন খিয়ানত কারী। অনুরূপভাবে সে দাবি করে যে, সে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী কিন্তু সত্যি হলো, সে একজন গাদ্দার। একজন মুনাফিক তার প্রতিপক্ষের লোকদের নানান ধরনের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে, অথচ সে নিজেই ফাজের অশ্লীল ও অন্যায় কাজে লিপ্ত। মুনাফিকদের চরিত্রই হলো, ধোঁকা দেওয়া, প্রতারণা করা ও মিথ্যাচার করা। যদি কোনো মুসলিমের মধ্যে এ ধরনের কোনো চরিত্র পাওয়া যায়, তাহলে আশংকা হয় যে, তাকে বড় নিফাক- ঈমান হারা- আক্রান্ত করতে পারে। কারণ, নিফাকে আমলী যদিও এমন এক অপরাধ বা কবিরা গুনাহ যা বান্দাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, কিন্তু যখন একজন বান্দার মধ্যে তা প্রগাঢ় হয়ে যায় বা গেঁথে বসে, তখন তার চরিত্র ধীরে ধীরে মিথ্যাচার, প্রতারণা ও ধোঁকা দেওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে থাকে। তারপর যখন তার চরিত্রের আরো অবনতি ঘটে তখন সে আল্লাহর মাখলুকের সাথে যে ধরনের আচরণ করে, তার প্রভুর সাথেও ঠিক একই ধরনের আচরণ করে। অতঃপর তার অন্তর থেকে ঈমান হরণ করা হয়, তার পরিবর্তে তাকে দেওয়া হয়ে নিফাক, আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি ও হুমকি।
আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা হলো, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদের অন্তরসমূহকে সংশোধন করে দেন। আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপনীয় যাবতীয় ফিতনা হতে দূরে রাখেন। আমীন!
وصلى الله وسلم على نبينا محمد .
আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা হলো, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদের অন্তরসমূহকে সংশোধন করে দেন। আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপনীয় যাবতীয় ফিতনা হতে দূরে রাখেন। আমীন!
وصلى الله وسلم على نبينا محمد .