১
ইসলাম ও বাস্তবতার আলোকে আরব জাতীয়তাবাদ
লেখকঃ শাইখ আব্দুল আযীয ইব্ন আব্দিল্লাহ্ ইব্ন বায -রাহেমাহুল্লাহ্- • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
আরব মুসলিমদের মর্যাদা
ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানের অধিকারী কোন মুসলিমই আরব মুসলিমদের মর্যাদায় সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। গৌরবময় দিনগুলোতে তাঁরাই ইসলামের বার্তা বহন করে নিষ্ঠার সাথে সকল জাতির নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁরা ইসলামের প্রসার ও প্রতিরক্ষার সংগ্রামের নিদারুণ কষ্ট সহ্য করেছিলেন। ফলে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল। তা ছাড়া প্রারম্ভিক যুগে ইসলাম প্রচারকদের কাছে বিশ্ব দেখেছিল উৎকৃষ্টতম প্রশাসন ও শ্রেষ্ঠতম ন্যায়বিচারক শাসক। আরব মুসলিমরা ইসলামের মাঝে দেখতে পেয়েছিলেন তাঁদের ইহ-পরকালের ইপ্সিত সব কল্যাণ। সেখানে তাঁরা এমন এক সুন্দর জীবনের সন্ধান পেয়েছিলেন যা তাদেরকে মান-মর্যাদার গ্যারান্টি তথা মানুষের দাসত্ব, স্বৈরাচারীর অত্যাচার ও জালিম শাসকদের শোষণ থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে। প্রারম্ভিক যুগের আরব মুসলিমরা ইসলামের মাধ্যমে আল্লাহ্র সাথে নিজেদের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁরা সেই মহান ইবাদাতের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন যা আল্লাহার সাথে তাঁদের সম্পর্ক নিবিড় করেছিল এবং তাদের অন্তর থেকে শির্ক, ঈর্ষা ও অহংকার উপড়ে ফেলে সেখানে আল্লাহর প্রতি খাঁটি ভালোবাসা, পূর্ণ আনুগত্য ও তাঁর সাথে নিভৃত আলাপনের সুখ জাগ্রত করেছিল। সে ইবাদাত তাঁদেরকে প্রতিপালকের সাথে যথার্থভাবে পরিচিত করেছিল এবং সবোর্পরি ভুলে গেলে কিংবা ভুলে যাবার উপক্রম হলে তাদেরকে আল্লাহ্ ও তাঁর অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিত। ইসলামের এই প্রথম সন্তানেরা রাসূলের সাথেও নিজেদের সম্পর্কের স্বরূপ জানতে পেরেছিলেন। ইসলাম তাদেরকে রক্ষকের সাথে রক্ষিতের, ব্যক্তির সাথে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও মুসলিম ভাইদের এবং মুসলিমদের সাথে কাফিরদের সম্পর্কের বিধান সুস্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছিল। তাঁরা সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের যথার্থ অনুগামীদের অনিন্দ্যসুন্দর চরিত্র ও মহৎ গুণাবলীর মাধ্যমে এ সবকিছুর প্রামাণ্য ব্যাখ্যা লাভ করেছিলেন। মানুষ তাই ইসলামকে ভালবেসেছিল, শ্রদ্ধা করেছিল এবং দলে দলে তাতে প্রবেশ করেছিল। ইসলামে তারা সকল প্রকার কল্যাণ, শান্তি, মুক্তি ও উন্নতির সন্ধান লাভ করেছিল।
ইসলামের শ্রেষ্ঠ বিধানসমূহ ও সুন্দর নীতিমালা মানুষের হৃদয়কে সংস্কার করে সেখানে পারস্পরিক হৃদ্যতার জন্ম দেয় এবং আল্লাহ্কে ভালবেসে তাঁর দ্বীনের জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। এই বিধান তাদেরকে দ্বীনের শিক্ষা গ্রহণ করে পরস্পরকে সত্য ও সহিষ্ণুতার জন্য উপদেশ দিতে শেখায়। ইসলামের এই সুন্দর বিধানসমুহ সুদীর্ঘ আলোচনার বিষয়। এখানে যে বিষয়টির প্রতি সংক্ষেপে ইংগিত দিতে চাই তা হল, প্রারম্ভিক যুগে আরব মুসলিমগণ ইসলামের জন্য কঠোর প্ররিশ্রম ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। যার ফলে আল্লাহ্ তাদেরকে পৃথিবীর সর্বত্র ইসলামের মশাল ব’য়ে নেবার সুযোগ ও সৌভাগ্য দান করেছিলেন। বিশ্বে তখন ইসলাম সম্পর্কে গভীর আগ্রহ ও এই ধর্মে দ্রুত দীক্ষিত হবার ব্যাপক প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল। তার কারণ, ইসলামের নীতিমালা ছিল ন্যায়ভিত্তিক এবং শিক্ষা ছিল উদার। তাছাড়া ইসলামে আল্লাহ ও মানুষের ওপর তাঁর অধিকারের যথার্থ পরিচয় মিলত। অধিকন্তু, ইসলামের বাহক ও প্রচারকগণ নিজেরা কথায়, কাজে ও চরিত্রে তার নীতিমালার প্রতি ছিলেন একান্ত অনুগত। যে কারণে তাঁরা পরিণত হয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ জাতিতে, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। আল্লাহ বলেন:
﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ﴾ [ سورة آل عمران :110]
“তোমরা সর্বোত্তম জনসমষ্টি, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ন্যায়ের নির্দেশ দাও, অন্যায় থেকে বিরত রাখ এবং আল্লাহ্তে বিশ্বাস রাখ।” [.আল ইমরান, ১১০]
কুরআনের এই আয়াতকে তাঁরা নিজেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছিলেন। প্রারম্ভিক যুগের মুসলিমদের সম্পর্কে জানা থাকলে কোন মুসলিমই উল্লিখিত বক্তব্যে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। কেননা, এ হচ্ছে একটি বাস্তব তথ্য যা সকল মুসলিমেরই জানা। তাই বলে কোন মুসলিম অনারব মুসলিমদের অবদান সম্পর্কেও সন্দেহ পোষণ পারে না। তার কারণ, এই দ্বীনের প্রসারকার্যে আরব মুসলিম ভাইদের পাশাপাশি তাঁরাও পুরস্কারযোগ্য প্রয়াস চালিয়েছিলেন এবং দ্বীনের মর্যাদা সমুন্নত করে বিশ্ববাসীর নিকট তা পৌঁছে দেবার জন্য তাঁরাও জিহাদ করেছিলেন। আল্লাহ্ এদের সকলকে এই মহান প্রচেষ্টার জন্য পুরস্কৃত করুন এবং আমাদেরকে তাঁদের প্রকৃত উত্তরসুরী হবার সুযোগ দিন। আশ্চর্যের বিষয়, অনেক আরব মুসলিম আজ সেই মহান ধর্ম ইসলামের প্রচার থেকে বিরত। অথচ ইসলামেরই কল্যাণে আল্লাহ্ তাদের পূর্বপুরুষদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। তিনি তাঁদেরকে ইসলামের বাণী বহন করার গৌরবে ভূষিত করেছিলেন। তাঁরা বিশ্ব জয় করেছিলেন ও পরাভূত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের রাজকোষ দখল কেরে আল্লাহ্র রাহে ব্যয় করেছিলেন। তাঁরা তখন পরম নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তাঁদের কাছে আরব-অনারব, সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র কিংবা পূর্ব-পশ্চিমের কোন প্রভেদ ছিল না। তারা ছিলেন একে অপরের ভাই, যারা পরস্পরকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ভালো বাসতেন এবং সততা ও তাকওয়ার জন্য সহযোগিতা করতেন। আল্লাহ্র পথে জিহাদ করতেন এবং দ্বীনের আদর্শে সর্বদা অবিচল থাকতেন। তাঁদের সখ্যতা-বৈরিতা কিংবা পছন্দ-অপছন্দ সবই ছিল ইসলামের স্বার্থে। এ জন্যই আল্লাহ্ তাঁদেরকে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং জিহাদের সকল ময়দানে তাঁদের সাফল্য নিশ্চিত রেখেছেলেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ওয়াদা করেছিলেন এভাবে:
﴿ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٤٧ ﴾ [ سورة الروم : 47]
“মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমাদের একটি দায়িত্ব।” [.আর-রূম, ৪৭]
আল্লাহ্ আরো বলেছেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ ٧ ﴾ [ سورة محمد : 7]
“হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যদি আল্লাহ্কে সাহায্য কর, তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপ মজবুত করে দিবেন।” [.মুহাম্মদ, ৭]
এই বিরাট গৌরব ও আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ্র এই সক্রিয় সাহায্যের পরও আমারা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সন্তানদের একটি দল বিভ্রান্ত হয়ে ইসলাম ছাড়া ভিন্ন আদর্শ প্রচার করছে। যেন ইসলামের মহিমা কিংবা এর কল্যাণে নিজেদের পূর্বপুরুষদের অর্জিত সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব সম্পর্কে তারা অনবহিত। তারা যেন খাঁটি মুসলিম হিসেবে পূর্বপুরুষদের সুদৃঢ় সংহতি সম্পর্কেও অজ্ঞ, যার কারণে এক মাসের দূরত্বে থেকেও শত্রু তাদের ভয়ে আতঙ্কিত হত। মুসলিমরা ইসলামের কল্যাণে যে গৌরব, সম্মান ও কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন এরা তা ভুলে গেছে, কিংবা ভুলে যাবার ভান করছে। আর তাই এরা সাম্রাজ্যবাদী শত্রুর কবল থেকে দেশের মুক্তির জন্য এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষা ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লোকদের আরব জাতীয়তার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিচ্ছে।
ইসলামের শ্রেষ্ঠ বিধানসমূহ ও সুন্দর নীতিমালা মানুষের হৃদয়কে সংস্কার করে সেখানে পারস্পরিক হৃদ্যতার জন্ম দেয় এবং আল্লাহ্কে ভালবেসে তাঁর দ্বীনের জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। এই বিধান তাদেরকে দ্বীনের শিক্ষা গ্রহণ করে পরস্পরকে সত্য ও সহিষ্ণুতার জন্য উপদেশ দিতে শেখায়। ইসলামের এই সুন্দর বিধানসমুহ সুদীর্ঘ আলোচনার বিষয়। এখানে যে বিষয়টির প্রতি সংক্ষেপে ইংগিত দিতে চাই তা হল, প্রারম্ভিক যুগে আরব মুসলিমগণ ইসলামের জন্য কঠোর প্ররিশ্রম ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। যার ফলে আল্লাহ্ তাদেরকে পৃথিবীর সর্বত্র ইসলামের মশাল ব’য়ে নেবার সুযোগ ও সৌভাগ্য দান করেছিলেন। বিশ্বে তখন ইসলাম সম্পর্কে গভীর আগ্রহ ও এই ধর্মে দ্রুত দীক্ষিত হবার ব্যাপক প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল। তার কারণ, ইসলামের নীতিমালা ছিল ন্যায়ভিত্তিক এবং শিক্ষা ছিল উদার। তাছাড়া ইসলামে আল্লাহ ও মানুষের ওপর তাঁর অধিকারের যথার্থ পরিচয় মিলত। অধিকন্তু, ইসলামের বাহক ও প্রচারকগণ নিজেরা কথায়, কাজে ও চরিত্রে তার নীতিমালার প্রতি ছিলেন একান্ত অনুগত। যে কারণে তাঁরা পরিণত হয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ জাতিতে, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। আল্লাহ বলেন:
﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ﴾ [ سورة آل عمران :110]
“তোমরা সর্বোত্তম জনসমষ্টি, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ন্যায়ের নির্দেশ দাও, অন্যায় থেকে বিরত রাখ এবং আল্লাহ্তে বিশ্বাস রাখ।” [.আল ইমরান, ১১০]
কুরআনের এই আয়াতকে তাঁরা নিজেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছিলেন। প্রারম্ভিক যুগের মুসলিমদের সম্পর্কে জানা থাকলে কোন মুসলিমই উল্লিখিত বক্তব্যে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। কেননা, এ হচ্ছে একটি বাস্তব তথ্য যা সকল মুসলিমেরই জানা। তাই বলে কোন মুসলিম অনারব মুসলিমদের অবদান সম্পর্কেও সন্দেহ পোষণ পারে না। তার কারণ, এই দ্বীনের প্রসারকার্যে আরব মুসলিম ভাইদের পাশাপাশি তাঁরাও পুরস্কারযোগ্য প্রয়াস চালিয়েছিলেন এবং দ্বীনের মর্যাদা সমুন্নত করে বিশ্ববাসীর নিকট তা পৌঁছে দেবার জন্য তাঁরাও জিহাদ করেছিলেন। আল্লাহ্ এদের সকলকে এই মহান প্রচেষ্টার জন্য পুরস্কৃত করুন এবং আমাদেরকে তাঁদের প্রকৃত উত্তরসুরী হবার সুযোগ দিন। আশ্চর্যের বিষয়, অনেক আরব মুসলিম আজ সেই মহান ধর্ম ইসলামের প্রচার থেকে বিরত। অথচ ইসলামেরই কল্যাণে আল্লাহ্ তাদের পূর্বপুরুষদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। তিনি তাঁদেরকে ইসলামের বাণী বহন করার গৌরবে ভূষিত করেছিলেন। তাঁরা বিশ্ব জয় করেছিলেন ও পরাভূত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের রাজকোষ দখল কেরে আল্লাহ্র রাহে ব্যয় করেছিলেন। তাঁরা তখন পরম নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তাঁদের কাছে আরব-অনারব, সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র কিংবা পূর্ব-পশ্চিমের কোন প্রভেদ ছিল না। তারা ছিলেন একে অপরের ভাই, যারা পরস্পরকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ভালো বাসতেন এবং সততা ও তাকওয়ার জন্য সহযোগিতা করতেন। আল্লাহ্র পথে জিহাদ করতেন এবং দ্বীনের আদর্শে সর্বদা অবিচল থাকতেন। তাঁদের সখ্যতা-বৈরিতা কিংবা পছন্দ-অপছন্দ সবই ছিল ইসলামের স্বার্থে। এ জন্যই আল্লাহ্ তাঁদেরকে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং জিহাদের সকল ময়দানে তাঁদের সাফল্য নিশ্চিত রেখেছেলেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ওয়াদা করেছিলেন এভাবে:
﴿ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٤٧ ﴾ [ سورة الروم : 47]
“মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমাদের একটি দায়িত্ব।” [.আর-রূম, ৪৭]
আল্লাহ্ আরো বলেছেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ ٧ ﴾ [ سورة محمد : 7]
“হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যদি আল্লাহ্কে সাহায্য কর, তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপ মজবুত করে দিবেন।” [.মুহাম্মদ, ৭]
এই বিরাট গৌরব ও আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ্র এই সক্রিয় সাহায্যের পরও আমারা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সন্তানদের একটি দল বিভ্রান্ত হয়ে ইসলাম ছাড়া ভিন্ন আদর্শ প্রচার করছে। যেন ইসলামের মহিমা কিংবা এর কল্যাণে নিজেদের পূর্বপুরুষদের অর্জিত সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব সম্পর্কে তারা অনবহিত। তারা যেন খাঁটি মুসলিম হিসেবে পূর্বপুরুষদের সুদৃঢ় সংহতি সম্পর্কেও অজ্ঞ, যার কারণে এক মাসের দূরত্বে থেকেও শত্রু তাদের ভয়ে আতঙ্কিত হত। মুসলিমরা ইসলামের কল্যাণে যে গৌরব, সম্মান ও কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন এরা তা ভুলে গেছে, কিংবা ভুলে যাবার ভান করছে। আর তাই এরা সাম্রাজ্যবাদী শত্রুর কবল থেকে দেশের মুক্তির জন্য এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষা ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লোকদের আরব জাতীয়তার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিচ্ছে।