hadith book logo

ইসলামে ইবাদত ভাব ও তাৎপর্য

লেখকঃ ইকবাল হোছাইন মাছুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

ইবাদত হতে হবে পূর্ণ আন্তরিকতায়, একাগ্রচিত্তে এবং তা পালন করতে হবে সর্বোচ্চ সুন্দর পদ্ধতিতে

স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই সৃষ্টির কল্যণ ও কামিয়াবি, আমরাও সেই ধারার বাইরে নই। সুতরাং আমাদের কামিয়াবি ও কল্যাণ যেহেতু আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যেই তাই সুবিবেচনার দাবী হল সেই ইবাদত নিরবচ্ছিন্নভাবে করে যাওয়া, কখনো বিরক্ত ও নিরাসক্ত না হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন,

(আরবি)

আর তুমি মৃত্যু আসা অবধি আপন রবের ইবাদত কর। [সূরা হিজর:৯৯]

ইবাদতেই আমাদের কল্যাণ, এটিই কামিয়াবির একমাত্র রাস্তা, তাই তা আদায় করতে হবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতায়, সর্বাধিক সুন্দর পদ্ধতিতে। শুধুমাত্র দায়িত্ব পালন ও রুটিনের অনুসরণই যাতে বিবেচ্য না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে। আর সেই ইবাদতের মাধ্যমেই মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জিত হবে। প্রশান্ত হবে মন। শীতল হবে চক্ষু। উদ্বেলিত হবে অন্তর তৃপ্তি ও আনন্দে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রিয় সহচর বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেন,

أرحنا بالصلاة . أخرجه أحمد

আমাদেরকে সালাতের মাধ্যমে প্রশান্তি দাও। [ বর্ণনায় আহমদ]

আরও বলছেন,

جعلت قرة عيني في الصلاة . أخرجه النسائي من حديث أنس رضي الله عنه

আমাদের চোখের শীতলতা (প্রশান্তি) রাখা হয়েছে নামাজের মধ্যে। [নাসায়ি]

অর্থাৎ সালাতের মাধ্যমে আমার মন প্রশান্তি লাভ করে, জুড়িয়ে যায় চোখ ।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আল হামদুলিল্লাহ) বলার সাওয়াব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলেন,

وفي بضع أحدكم صدقة،

আর তোমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌনসম্ভোগও একটি সদকা। তখন তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের কেউ তার (যৌন) চাহিদা পূরণ করল আর তাতে সাওয়াব রয়েছে?! তখন নবীজী বললেন,

أرأيتم لو وضعها في الحرام كان عليه وزر، فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر .

আচ্ছা, তোমরা কি বল, যদি সে এই চাহিদা হারাম জায়গায় চরিতার্থ করত তাহলে কি তার পাপ হতো না, অনুরূপভাবে যখন হালালভাবে পূরণ করবে তাতে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।

প্রিয় পাঠক, দেখুন, সম্ভোগ-উপভোগ সেটিই আনুগত্য-ইবাদত। আর তাতেই সাওয়াব ও পুরস্কার। সুবহানাল্লাহ, কত মহান আমাদের মাবুদ, কত দয়ালু তিনি, কতইনা করুণাময় আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের রব। তাই তাঁর ইবাদত-আনুগত্য করতে হবে, প্রশান্ত চিত্তে। একান্ত আন্তরিকতায়। সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, পরিপূর্ণ ভক্তি ও আগ্রহের সাথে। প্রাপ্তির আশায়, একান্ত ভালবাসায়...।