১
ইসলামে ইবাদাত
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
আশা এবং ভীতির মাঝামাঝি অবস্থান
বান্দার জন্য অবশ্যই করনীয় হচ্ছে আশা এবং ভীতির মধ্যে অবস্থান করা। শুধু আশাহীন ভীতির মধ্যে থাকাই নিরাশা এবং হতাশা। আল্লাহ বলেন,
إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ . ﴿يوسف :87 ﴾
‘নিশ্চয় আল্লাহর রহমত হতে কাফের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ হতাশ হয় না।’
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:—
وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ . ﴿الحجر :56 ﴾
‘পালনকর্তার রহমত হতে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয়?’
আল্লাহ ভীতি ছাড়া শুধু তার রহমতের আশা হচ্ছে, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা যা আত্মপ্রবঞ্চনা মাত্র। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ ﴿الأعراف :99 ﴾
‘আল্লাহ তাআলার পাকড়াও হতে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’
এ জাতীয় বিশুদ্ধ অনেক বর্ণনা এসেছে যাতে বান্দাদের আশা এবং আল্লাহ-ভীতি উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে চলার জন্য আহবান করা হয়েছে। এবং আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করেছেন, যারা উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য করে চলে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا ﴿ ألإسراء :57﴾
‘তারা যাদেরকে আহবান করে তারাইতো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে তাদের মধ্যে কে কত নিকট হতে পারে এবং তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে; তোমার প্রতিপালকের শাস্তি ভয়াবহ।’
আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتٌ آَنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآَخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ ﴿الزمر :9﴾
‘যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাড়িয়ে ইবাদত করে পরকালের ভয় রাখে এবং তার পালন কর্তার রহমত প্রত্যাশা করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا . ﴿ألسجدة :16 ﴾
‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে ভয় ও আশায়। ভয়ে।’
বান্দা যখন আশা এবং ভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করবে, তখন তার উচিত তার মনের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখা। যখন আল্লাহ তাআলার ভয় প্রবল হয়ে উঠে এবং তার রহমত হতে নিরাশ হয়। যেমন রোগ হলে এবং গোনাহ করলে তখন তার কাজ হলো উভয়ের মাঝে তুলনা করা এবং ভয়ের প্রবলতা কমানো। আর যখন আশার দিকটা প্রবল হয়ে উঠে এবং আল্লাহ তাআলার পাকড়াওকে পরোয়া করে না। যেমন, সুস্থতা, এবং ইবাদত বন্দেগী করার পর তখনো সে উভয়ের মাঝে তুলনা করবে এবং আশার প্রবলতা কাটিয়ে উঠবে। যদি আল্লাহ তাআলার রহমত হতে নিরাশ হওয়ার অথবা আল্লাহর পাকড়াও থেকে উদাসীন হবার ভয় না হয়, তবেই উভয়ের মাঝে তার সমতা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যাবে।
এই তিনটি রুকুনের মান নির্ণয় হয় মানুষের আত্মা থেকে:
মানষের হৃদয় আল্লাহ তাআলার প্রকৃতিতে পাখীর মত। মুহাববত তার মাথা, আশা এবং ভয় তার দুইটি ডানা, যখন মাথা এবং ডানাদুটি ভালো থাকবে, পাখীর উড্ডয়নও ভালো থাকবে। মাথা কেটে ফেলা হলে পাখীর মৃত্যু ঘটবে। আর দুটি ডানা নষ্ট হলে পাখিটি শিকারীর লক্ষ্যবস্ত্ততে পরিণত হবে। বান্দার উচিত এই তিনটি রুকুন সম্মিলিতভাবে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে প্রতিফলন ঘটানো। একটা বা দুইটার প্রতিফলন বাকিটা বর্জন বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলার এক প্রিয় বান্দা বলেছেন: ‘যে শূধু মাত্র আল্লাহ তাআলার মুহাববতেই বন্দেগী করে সে হলো জিন্দিক বা নাস্তিক; যে শুধু মাত্র আল্লাহ তাআলার আশার মধ্যে বন্দেগী করে সে হলো মুরজী, যে শুধু মাত্র আল্লাহ তাআলার ভীতির মধ্যে বন্দেগী করে সে হলো হারুরী; যে আল্লাহ তাআলার বন্দেগী করে মুহাববত, আশা এবং ভীতির মধ্যে থেকে, সে হলো একত্ববাদে বিশ্বাসী ঈমানদার। আল্লাহ তাআলার ভয় ছাড়া মুহাববত সামান্য কিছু পাপ থেকে বাঁচাতে পারে। আশাহীন বন্দেগী মিথ্যা দাবি মাত্র। এই জন্য যারা ভয় পোষণ করে না, শুধু মুহাববতের দাবী করে তারা বেপরোয়া গোনাহে জড়িয়ে পড়ে। যেমন ইয়াহুদী সম্প্রদায়। তারা বলে:
نحن أبناء الله و أحبائه .
‘আমরাই আল্লাহ তাআলার প্রিয় সন্তান। তার প্রিয় জন।’ অথচ পাপাচার কাজে সারা পৃথিবীর শীর্ষে তারা। এজন্য আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী সা. কে বললেন: তাদের বলতে,
فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ ( المائدة : 18)
‘তাহলে তোমাদের পাপাচারের জন্য তিনি তোমাদের শাস্তি দিবেন কেন ?
এমনিভাবে শুধু মাত্র আশা করার মধ্যে শিথিলতার জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে সে আল্লাহ তাআলার কৌশলকে আল্লাহর পক্ষে তার জন্য আশ্রয় মনে করে এবং পাপাচার ও বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়।
এমনিভাবে শুধু মাত্র ভীতি বান্দাকে নিরাশ এবং হতাশার দিকে নিয়ে যায়, এবং আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে ভুল ধারণা জন্ম দেয়। অতএব বান্দা তার ইবাদত-বন্দেগীসহ সকল কাজে আল্লাহ তাআলার মুহাববত, আশা, ভীতির সম্মিলন ঘটাবে এবং এটাই তাওহীদ, এটাই ঈমান।
إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ . ﴿يوسف :87 ﴾
‘নিশ্চয় আল্লাহর রহমত হতে কাফের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ হতাশ হয় না।’
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:—
وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ . ﴿الحجر :56 ﴾
‘পালনকর্তার রহমত হতে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয়?’
আল্লাহ ভীতি ছাড়া শুধু তার রহমতের আশা হচ্ছে, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা যা আত্মপ্রবঞ্চনা মাত্র। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ ﴿الأعراف :99 ﴾
‘আল্লাহ তাআলার পাকড়াও হতে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’
এ জাতীয় বিশুদ্ধ অনেক বর্ণনা এসেছে যাতে বান্দাদের আশা এবং আল্লাহ-ভীতি উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে চলার জন্য আহবান করা হয়েছে। এবং আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করেছেন, যারা উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য করে চলে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا ﴿ ألإسراء :57﴾
‘তারা যাদেরকে আহবান করে তারাইতো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে তাদের মধ্যে কে কত নিকট হতে পারে এবং তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে; তোমার প্রতিপালকের শাস্তি ভয়াবহ।’
আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتٌ آَنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآَخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ ﴿الزمر :9﴾
‘যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাড়িয়ে ইবাদত করে পরকালের ভয় রাখে এবং তার পালন কর্তার রহমত প্রত্যাশা করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا . ﴿ألسجدة :16 ﴾
‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে ভয় ও আশায়। ভয়ে।’
বান্দা যখন আশা এবং ভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করবে, তখন তার উচিত তার মনের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখা। যখন আল্লাহ তাআলার ভয় প্রবল হয়ে উঠে এবং তার রহমত হতে নিরাশ হয়। যেমন রোগ হলে এবং গোনাহ করলে তখন তার কাজ হলো উভয়ের মাঝে তুলনা করা এবং ভয়ের প্রবলতা কমানো। আর যখন আশার দিকটা প্রবল হয়ে উঠে এবং আল্লাহ তাআলার পাকড়াওকে পরোয়া করে না। যেমন, সুস্থতা, এবং ইবাদত বন্দেগী করার পর তখনো সে উভয়ের মাঝে তুলনা করবে এবং আশার প্রবলতা কাটিয়ে উঠবে। যদি আল্লাহ তাআলার রহমত হতে নিরাশ হওয়ার অথবা আল্লাহর পাকড়াও থেকে উদাসীন হবার ভয় না হয়, তবেই উভয়ের মাঝে তার সমতা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যাবে।
এই তিনটি রুকুনের মান নির্ণয় হয় মানুষের আত্মা থেকে:
মানষের হৃদয় আল্লাহ তাআলার প্রকৃতিতে পাখীর মত। মুহাববত তার মাথা, আশা এবং ভয় তার দুইটি ডানা, যখন মাথা এবং ডানাদুটি ভালো থাকবে, পাখীর উড্ডয়নও ভালো থাকবে। মাথা কেটে ফেলা হলে পাখীর মৃত্যু ঘটবে। আর দুটি ডানা নষ্ট হলে পাখিটি শিকারীর লক্ষ্যবস্ত্ততে পরিণত হবে। বান্দার উচিত এই তিনটি রুকুন সম্মিলিতভাবে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে প্রতিফলন ঘটানো। একটা বা দুইটার প্রতিফলন বাকিটা বর্জন বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলার এক প্রিয় বান্দা বলেছেন: ‘যে শূধু মাত্র আল্লাহ তাআলার মুহাববতেই বন্দেগী করে সে হলো জিন্দিক বা নাস্তিক; যে শুধু মাত্র আল্লাহ তাআলার আশার মধ্যে বন্দেগী করে সে হলো মুরজী, যে শুধু মাত্র আল্লাহ তাআলার ভীতির মধ্যে বন্দেগী করে সে হলো হারুরী; যে আল্লাহ তাআলার বন্দেগী করে মুহাববত, আশা এবং ভীতির মধ্যে থেকে, সে হলো একত্ববাদে বিশ্বাসী ঈমানদার। আল্লাহ তাআলার ভয় ছাড়া মুহাববত সামান্য কিছু পাপ থেকে বাঁচাতে পারে। আশাহীন বন্দেগী মিথ্যা দাবি মাত্র। এই জন্য যারা ভয় পোষণ করে না, শুধু মুহাববতের দাবী করে তারা বেপরোয়া গোনাহে জড়িয়ে পড়ে। যেমন ইয়াহুদী সম্প্রদায়। তারা বলে:
نحن أبناء الله و أحبائه .
‘আমরাই আল্লাহ তাআলার প্রিয় সন্তান। তার প্রিয় জন।’ অথচ পাপাচার কাজে সারা পৃথিবীর শীর্ষে তারা। এজন্য আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী সা. কে বললেন: তাদের বলতে,
فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ ( المائدة : 18)
‘তাহলে তোমাদের পাপাচারের জন্য তিনি তোমাদের শাস্তি দিবেন কেন ?
এমনিভাবে শুধু মাত্র আশা করার মধ্যে শিথিলতার জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে সে আল্লাহ তাআলার কৌশলকে আল্লাহর পক্ষে তার জন্য আশ্রয় মনে করে এবং পাপাচার ও বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়।
এমনিভাবে শুধু মাত্র ভীতি বান্দাকে নিরাশ এবং হতাশার দিকে নিয়ে যায়, এবং আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে ভুল ধারণা জন্ম দেয়। অতএব বান্দা তার ইবাদত-বন্দেগীসহ সকল কাজে আল্লাহ তাআলার মুহাববত, আশা, ভীতির সম্মিলন ঘটাবে এবং এটাই তাওহীদ, এটাই ঈমান।