hadith book logo

ইসলামে ইবাদাত

লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

এবাদতের প্রকার

উপরে উলেখিত বর্ণনা মতে এবাদত মানব জীবনের সকল দিককে আওতাভূক্ত করে। এবাদত পাঁচ প্রকারে প্রকাশিত হয়:

আত্মিক এবাদত :

এই এবাদত অন্য সকল ইবাদতের মূল, এতে ত্রুটি দেখা দিলে শিরকে আকবর অথবা শিরকে আছগরে প্রবেশের সম্ভাবনা বেশী থাকে। আত্মিক এবাদত এ জন্য বলা হয়, কারণ এটা আত্মার স্বীকৃত ও তার কাজ। আত্মিক এবাদতের মধ্যে বড় এবং মূল ইবাদত হচ্ছে এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাআলাই এই জগতের প্রতিপালক। রাজত্ব তার জন্য, সৃষ্টি তার জন্য, কর্তৃত্ব তার জন্য, এবং এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ও গুনাবলী রয়েছে। যে গুনাবলী সৌন্দর্য্যের, পরিপূর্ণতার, কর্তৃত্বের। এবং এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ একজন। তার কোন অংশীদার নাই। তিনিই উপাসনার যোগ্য তিনি ছাড়া অন্য কেহ উপাসনা পাবার যোগ্য নয়।

আত্মিক ইবাদতের মধ্যে রয়েছে ইখলাছ, মুহাববত, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল (ভরসা) ইত্যাদি।

কোন আত্মিক ইবাদতই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য উৎসর্গ বৈধ নয়। সেটা প্রেরিত নবী, সম্মানিত ফেরেস্তা, আল্লাহর অলী, পাথর, গাছ, সূর্য্য, চন্দ্র, নেতা, কোন সংবিধান, দল, বা অন্য যে কোন কিছুর জন্য হোকনা কেন।

মৌখিক এবাদত:

মৌখিক ইবাদত এ জন্য বলা হয় কারণ তা মূখের কথা ও শব্দ দ্বারা আদায় হয়ে থাকে। এই মৌখিক ইবাদতের মধ্যে বড় ইবাদত হচ্ছে তাওহিদী কালেমার উচ্চারণ। যে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে অথচ কোন বাধা না থাকা সত্বেও তাওহিদী কালেমা উচ্চারণ করে না, সে মুসলমান বলে গণ্য হবে না এবং মৌখিক স্বীকৃতীবিহীন ইসলাম তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিবে না। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لاإله إلا الله، فإذا قالوها وصلوا صلاتنا، واستقبلوا قبلتنا، وذبحوا ذبيحتنا، فقد حرمت علينا دماؤهم وأموالهم إلا بحقها، وحسابهم على الله تعالى . ( صحيح البخاري : 24)

‘আমি অদৃষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার যতক্ষণ না তারা বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ যদি তারা লাইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে এবং নামায পড়ে আমাদের কেবলাকে কেবলা হিসাবে গ্রহণ করে। আমাদের পদ্ধতিতে পশু জবেহ করে, তাহলে তার প্রাণ ও সম্পদ আমাদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায় এই কালেমার স্বার্থে। অবশ্য তাদের (অন্তরের সত্যাসত্যের) ফায়সালা আল্লাহর হাতে।

যারা এই কালেমা উচ্চারণ করলো তবে অন্তরে বিশ্বাস করলনা, যেমন মুনাফিক। এ কালেমার উচ্চারণ তার প্রাণ ও সম্পদের নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু তার চুরান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে। মৌখিক ইবাদতের মধ্যে আরো আছে যিকির, দোয়া, আউজুবিল্লাহ বলা, বিসমিল্লাহ বলা, ইস্তেগফার করা ইত্যাদি।

শারিরিক ইবাদত :

এ সকল ইবাদতকে শারীরিক ইবাদত এ জন্য বলে যে, ইবাদতগুলো শরীরের মাধ্যমে আদায় হয়, শারীরিক এবাদতের মধ্যে রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায, রোযা, তাওয়াফ, স্বশরীরে আল্লাহর পথে জিাহাদ।

আর্থিক ইবাদত:

এটা হল ঐ সকল ইবাদত যা শুধু সম্পদের মাধ্যমে আদায় হয়। যেমন যাকাত, ফিৎরা, আল্লাহর পথে দান ইত্যাদি।

আর্থিক ও শারিরিক ইবাদত:

যে সকল ইবাদত দৈহিক শ্রম ও সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেমন হজ্ব, ওমরাহ পালন, জিহাদ ইত্যাদি।

সমাপ্ত