১
ইসলামে ইবাদাত
লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
ইবাদতের ভিত্তি হচ্ছে আনুগত্য :
অর্থাৎ ইবাদতের মধ্যে আসল হচ্ছে আনুগত্য। এর মানে হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং তার রাসূলের সুন্নতে যে বিষয় প্রমাণিত নয় তা ইবাদত হিসাবে মনে করা কোন মাখলূকের জন্য বৈধ নয়। প্রমাণ: নবী (সা:) বলেন: من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد . ( صحيح البخاري :2499 ‘যে ব্যক্তি কোন কাজ করল অথচ ঐ কাজে আমার কোন অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখাত।’
অন্য বর্ণনায় এসেছে নবী কারীম সা. বলেন: যে ব্যক্তি আমার শরীয়তে কোন নতুন আবিষ্কার করল, যা শরীয়ত সমর্থন করে না, তা প্রত্যাখ্যাত।
এজন্য আমরা দেখতে পাই এক দল সাহাবীদের কাজকে রাসূল সা. প্রত্যাখ্যান করেছেন । যারা রাসূল সা. এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর নিজেদের ইবাদতকে খুবই কম মনে করল। আর বলল, যার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ তিনি এতো ইবাদত করেন? একজন বলে উঠল, আমি আজীবন পুরো রাত নামাজ পড়ব। অপর জন বলল, আমি সারা বছর রোজা পালন করব, কখনো রোজা ছাড়ব না। অন্যজন বলল, আমি বিবাহ করবো না। চিরকুমার থাকব। অত:পর নবীজী আসলেন এবং বললেন, তোমরা এ ধরণের কথা বলছিলে? আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী আল্লাহকে ভয় করি। অথচ রোজা রাখি, রোজা ত্যাগ করি, নামাজ আদায় করি, নিদ্রা যাই, বিবাহ করি। (এসবই আমার আদর্শ) অতএব যে আমার আদর্শের বিপরিত করে সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য নয়।
এতে আমরা বুঝতে পারি যে, তারা কতবড় বিপদের মধ্যে আছে, যারা ঐ সকল ইবাদতে জড়িত যা নবী সা. করেন নাই। যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে এবং নবী সা. এর অনুসরণ করে। যদিও তারা মনে করে থাকে তাদের ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মূলত: আল্লাহর কাছে এ ধরণের ইবাদতের কোন মূল্য নেই। বরং নবী সা. এর শরীয়তের বিরুদ্ধাচারণ করার কারণে এটা তাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে।
ব্যাপক অর্থে ইবাদত
মানব সৃষ্টির তাৎপর্য হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহ ভীতি অর্জন করা। এটা ঠিক নয় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, বছরের নির্দিষ্ট দিনে রোজা পালন, জান-মাল পবিত্র করার জন্য সম্পদের সামান্য জাকাত প্রদান, সারা জীবনে একবার হজ্ব পালনের মধ্যে ইবাদতকে সীমাবদ্ধ। এগুলো অবশ্যই বড় ইবাদতের মধ্যে গণ্য। কিন্তু এ কথা সত্য, উল্লেখিত ইবাদতগুলো পালনে একজন মানুষের জীবনের খুব কম সময়ই ব্যয় হয়। কোন বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ কি এটা মেনে নিবে? যে, সে তার জীবনের বেশীর ভাগ সময় আল্লাহর ইবাদত ছাড়াই অতিবাহিত করবে ? অথচ সে জানে যে, আল্লাহ তাকে ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
অনেক মানুষ এমন আছেন যারা ইবাদতকে ইসলামের আনুষ্ঠানিক কতিপয় কাজ মনে করে, শুধুমাত্র আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের বিষয় বলে ধারণা করে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে। এমন দাবী যারা পোষন করেন কুরআনুল কারীম তাদের এ দৃষ্টিভংগিকে বাতিল দাবী বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ ﴿ النحل :89﴾
‘আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাজিল করেছি, যেটি এমন যে, তাতে প্রত্যেক বস্ত্তর সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।’
এমনিভাবে আল্লাহর নবীর জন্য যে দিকনির্দেশনা আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন, তাতে ইবাদতে ব্যাপকতাকে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿162﴾ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴿163﴾ الأنعام
‘আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তার কোন শরীক, আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি, আর আত্নসমর্পনকারীদের মধ্যে আমি হলাম প্রথম।’
ইসলামের ইমাম ও বিদ্বানগন যুগে যুগে ইসলামী শরয়ীয়তে যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তাতেও প্রমাণ হয় যে ইবাদত সীমিত গন্ডির কোন বিষয় অথবা আনুষ্ঠানিক বস্ত্ত নয়। প্রখ্যাত সাহাবী আবু জর আল গিফারী রা. এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রাসূল সকল বিষয় আমাদেরকে শিক্ষা দান করেছেন। এমনকি আকাশে উড়ন্ত পাখীর দুটি ডানা কিভাবে নড়াচড়া করে তার গুঢ় রহস্য কি, তাও আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
জীবনের বাকে বাকে প্রয়োজনীয় সকল বিষয় ওলামায়ে কেরাম ইসলামী শরীয়তের দিক নির্দেশনা দিয়েও প্রমাণ করেছেন যে ইবাদত সীমিত গন্ডির মধ্যে অথবা আনুষ্ঠানিক বস্ত্ত নয়।
ইবাদতের ব্যাপকতা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর বিস্তৃতি ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানী ব্যক্তিও তা জানেন। এমনকি এ সম্পর্কে অমুসলিম লোকও সাক্ষী দিয়েছে। জনৈক ব্যক্তি সালমান ফারসী রা. কে বললেন, তোমাদেরকে তোমাদের নবী সব বিষয়ে জ্ঞান দিয়েছেন। এমনকি কিভাবে পেশাব, পায়খানা করবে তাও। সালমান রা. জবাব দিলেন, হ্যাঁ, নবী সা. আমাদের নিষেধ করেছেন.কেবলামুখী হয়ে পেশাব- পায়খানা করতে, তিনটি হতে কম ঢিলা ব্যবহার করতে, ডান হাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা করতে, হাড্ডি অথবা শুকনা গোবর দিয়ে ইস্তেঞ্জা করতে।
অন্য বর্ণনায় এসেছে নবী কারীম সা. বলেন: যে ব্যক্তি আমার শরীয়তে কোন নতুন আবিষ্কার করল, যা শরীয়ত সমর্থন করে না, তা প্রত্যাখ্যাত।
এজন্য আমরা দেখতে পাই এক দল সাহাবীদের কাজকে রাসূল সা. প্রত্যাখ্যান করেছেন । যারা রাসূল সা. এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর নিজেদের ইবাদতকে খুবই কম মনে করল। আর বলল, যার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ তিনি এতো ইবাদত করেন? একজন বলে উঠল, আমি আজীবন পুরো রাত নামাজ পড়ব। অপর জন বলল, আমি সারা বছর রোজা পালন করব, কখনো রোজা ছাড়ব না। অন্যজন বলল, আমি বিবাহ করবো না। চিরকুমার থাকব। অত:পর নবীজী আসলেন এবং বললেন, তোমরা এ ধরণের কথা বলছিলে? আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী আল্লাহকে ভয় করি। অথচ রোজা রাখি, রোজা ত্যাগ করি, নামাজ আদায় করি, নিদ্রা যাই, বিবাহ করি। (এসবই আমার আদর্শ) অতএব যে আমার আদর্শের বিপরিত করে সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য নয়।
এতে আমরা বুঝতে পারি যে, তারা কতবড় বিপদের মধ্যে আছে, যারা ঐ সকল ইবাদতে জড়িত যা নবী সা. করেন নাই। যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে এবং নবী সা. এর অনুসরণ করে। যদিও তারা মনে করে থাকে তাদের ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মূলত: আল্লাহর কাছে এ ধরণের ইবাদতের কোন মূল্য নেই। বরং নবী সা. এর শরীয়তের বিরুদ্ধাচারণ করার কারণে এটা তাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে।
ব্যাপক অর্থে ইবাদত
মানব সৃষ্টির তাৎপর্য হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহ ভীতি অর্জন করা। এটা ঠিক নয় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, বছরের নির্দিষ্ট দিনে রোজা পালন, জান-মাল পবিত্র করার জন্য সম্পদের সামান্য জাকাত প্রদান, সারা জীবনে একবার হজ্ব পালনের মধ্যে ইবাদতকে সীমাবদ্ধ। এগুলো অবশ্যই বড় ইবাদতের মধ্যে গণ্য। কিন্তু এ কথা সত্য, উল্লেখিত ইবাদতগুলো পালনে একজন মানুষের জীবনের খুব কম সময়ই ব্যয় হয়। কোন বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ কি এটা মেনে নিবে? যে, সে তার জীবনের বেশীর ভাগ সময় আল্লাহর ইবাদত ছাড়াই অতিবাহিত করবে ? অথচ সে জানে যে, আল্লাহ তাকে ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
অনেক মানুষ এমন আছেন যারা ইবাদতকে ইসলামের আনুষ্ঠানিক কতিপয় কাজ মনে করে, শুধুমাত্র আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের বিষয় বলে ধারণা করে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে। এমন দাবী যারা পোষন করেন কুরআনুল কারীম তাদের এ দৃষ্টিভংগিকে বাতিল দাবী বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ ﴿ النحل :89﴾
‘আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাজিল করেছি, যেটি এমন যে, তাতে প্রত্যেক বস্ত্তর সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।’
এমনিভাবে আল্লাহর নবীর জন্য যে দিকনির্দেশনা আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন, তাতে ইবাদতে ব্যাপকতাকে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿162﴾ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴿163﴾ الأنعام
‘আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তার কোন শরীক, আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি, আর আত্নসমর্পনকারীদের মধ্যে আমি হলাম প্রথম।’
ইসলামের ইমাম ও বিদ্বানগন যুগে যুগে ইসলামী শরয়ীয়তে যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তাতেও প্রমাণ হয় যে ইবাদত সীমিত গন্ডির কোন বিষয় অথবা আনুষ্ঠানিক বস্ত্ত নয়। প্রখ্যাত সাহাবী আবু জর আল গিফারী রা. এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রাসূল সকল বিষয় আমাদেরকে শিক্ষা দান করেছেন। এমনকি আকাশে উড়ন্ত পাখীর দুটি ডানা কিভাবে নড়াচড়া করে তার গুঢ় রহস্য কি, তাও আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
জীবনের বাকে বাকে প্রয়োজনীয় সকল বিষয় ওলামায়ে কেরাম ইসলামী শরীয়তের দিক নির্দেশনা দিয়েও প্রমাণ করেছেন যে ইবাদত সীমিত গন্ডির মধ্যে অথবা আনুষ্ঠানিক বস্ত্ত নয়।
ইবাদতের ব্যাপকতা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর বিস্তৃতি ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানী ব্যক্তিও তা জানেন। এমনকি এ সম্পর্কে অমুসলিম লোকও সাক্ষী দিয়েছে। জনৈক ব্যক্তি সালমান ফারসী রা. কে বললেন, তোমাদেরকে তোমাদের নবী সব বিষয়ে জ্ঞান দিয়েছেন। এমনকি কিভাবে পেশাব, পায়খানা করবে তাও। সালমান রা. জবাব দিলেন, হ্যাঁ, নবী সা. আমাদের নিষেধ করেছেন.কেবলামুখী হয়ে পেশাব- পায়খানা করতে, তিনটি হতে কম ঢিলা ব্যবহার করতে, ডান হাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা করতে, হাড্ডি অথবা শুকনা গোবর দিয়ে ইস্তেঞ্জা করতে।