hadith book logo

প্রতিপক্ষের মতামত খন্ডনে ইসলামি শিষ্টাচার

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

বিতর্ক করার আদব-শিষ্টাচার (ক) সুন্দর পন্থায় বিতর্ক করা

আল্লাহ রাববুল আলামিন মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বিতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাথে সাথে তাঁকে সুন্দরতম পদ্ধতিতে বিতর্ক করতে বলেছেন। যেখানেই তিনি বিতর্ক করার কথা বলেছেন, সেখানেই তিনি উত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে আদেশ দিয়েছেন। যেমন :

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ( النحل : ১২৫)

‘তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর।’ (নাহল : ১২৫)

আল্লাহ তাআলা সকল মুসলিমের উদ্দেশে আরও ইরশাদ করেন-

وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

‘আর তোমরা সুন্দরতম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাব (ইহুদি ও খৃস্টানদের) সাথে বিতর্ক করো না।’ (আনকাবুত : ৪৬)

আল্লাহ রাববুল আলামিন ইহুদি ও খৃস্টান প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্ক কালে সুন্দরতম পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। যদি প্রতিপক্ষ এদের চেয়ে শ্রেষ্ট হয়, অর্থাৎ বিতর্কের প্রতিপক্ষ যদি মুসলিম হয় তখন কেমন পন্থা অবলম্বন করতে হবে? সুন্দরের চেয়েও সুন্দরতম পন্থা-পদ্ধতিতে তাদের সাথে বিতর্ক করতে হবে। এটা আল্লাহর নির্দেশ। ইহুদি, খৃস্টানদের সাথে মুসলমানের সম্পর্কের চেয়ে মুসলমানের পারস্পারিক সম্পর্কের গুরুত্ব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার আমরা ধর্মীয় বিষয়ে যখন মুসলিম আলেম-উলামাদের সাথে অন্য মুসলিম ভাইদের বিতর্ক করতে দেখি তখন গাল-মন্দ জাতীয় শব্দ প্রয়োগ করতে দেখি বেশি।