hadith book logo

প্রতিপক্ষের মতামত খন্ডনে ইসলামি শিষ্টাচার

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

(খ) প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও দয়া মমতা

বিতর্ক করা হবে সত্য প্রকাশ ও মানুষের প্রতি দয়া-মমতার জন্য। যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া র. বিতর্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত অনুসারীরা বাতিল পন্থীদের সাথে বিতর্ক করে তবে তাদের উদ্দেশ্য হল,

يظهر الحق ويرحم الخلق

‘তারা সত্য প্রকাশ করেন ও সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া করেন।’

সাহাবি আবু উমামা আল-বাহেলি যখন দেখলেন, খারেজি মতাদর্শের প্রায় সত্তর জন লোককে মৃত্যুদন্ড দিয়ে তাদের মাথা দামেশকের মসজিদের সম্মুখে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তখন তিনি বললেন, শয়তান এদেরকে কোথায় নিয়ে গেল! এরপর তিনি কাঁদলেন। অন্য লোকেরা বলল, আপনি এদের মত মানুষের জন্য কাঁদছেন? তখন তিনি বললেন, ‘কেন কাঁদব না? তারাতো ইসলামের অনুসারী ছিল।’ (আল-ইতেসাম, ইমাম শাতেবি র.)

বিতর্কে একপক্ষ অপর পক্ষকে মূর্খ বা অজ্ঞ বলে থাকে। কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি মূর্খও হয় তবুও তাকে তা বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং না বলাটাই ইসলামের শিক্ষা।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

‘আর রাহমানের বান্দা তারাই যারা যমীনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে তখন বলে ‘সালাম।’ (ফুরকান : ৬৩)

যখন মূর্খদেরকে সালাম বলতে বলা হয়েছে, তখন আপনার প্রতিপক্ষ যারা আসলে মূর্খ নয়, অজ্ঞ নয় তাদেরকে উক্ত বিশেষণে সম্বোধন করা তো আরো জঘন্য। তারা যদি আসলেই মূর্খ বা অজ্ঞ হত তাহলে তো আপনি তাদের সাথে আলোচনা বিতর্কে বসতেন না।