hadith book logo

ফিদাক নিয়ে ফাতিমা ও আবূ বকরের মাঝে বিরোধের হাকীকত

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

সুলাইমান পিতা দাঊদ কিসের ওয়ারিশ হয়েছেন?

পূর্বের আলোচনার সমার্থক আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণী,

﴿وَوَرِثَ سُلَيۡمَٰنُ دَاوُۥدَۖ١٦﴾ [ النمل :16]

“দাঊদের ওয়ারিশ হয়েছেন সুলাইমান”। [সূরা আন-নামাল, আয়াত: ১৬] উল্লেখ্য, সুলাইমান আলাইহিস সালাম দাঊদের সম্পদের ওয়ারিশ হন নি, বরং তিনি ওয়ারিশ হয়েছেন নবুওয়াত, হিকমত ও ইলমের দু’টি কারণে:

এক. প্রসিদ্ধ আছে যে, দাঊদ আলাইহিস সালামের একশত স্ত্রী ও তিনশত দাসী ছিল, তার সন্তানের সংখ্যা ছিল অনেক, তিনি কীভাবে শুধু সুলাইমান আলাইহিস সালামকে ওয়ারিশ করবেন, অন্য কাউকে করবেন না?!! অতএব, নির্দিষ্টভাবে সুলাইমানকে উল্লেখ করার কোনো কারণ নেই।

দুই. যদি সম্পদের ওয়ারিশ হওয়া উদ্দেশ্য হয়, আল্লাহর কিতাবে তার উল্লেখ করার কোনো অর্থ নেই। কারণ, স্বাভাবিকভাবে সন্তান পিতার ওয়ারিশ হয়। দ্বিতীয়ত: সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাঊদ বা সুলাইমান কারো জন্যই প্রশংসনীয় নয়। কারণ, ইয়াহূদী বা নাসারা স্বস্ব সন্তানকে ওয়ারিশ করেন। অতএব, সুলাইমান তার পিতার ওয়ারিশ হবেন এতে নতুনত্ব কী?! অথচ আয়াতটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রশংসা ও তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনার জন্যই উদ্ধৃত হয়েছে। অধিকন্তু সম্পদের ওয়ারিশ হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যেমন খাওয়া, পান করা ও মৃতদের দাফন করা। নবীদের প্রসঙ্গে এ জাতীয় জিনিস বর্ণনা করা হয় না। কারণ, এতে কোনো উপকার নেই; বরং নবীদের জীবন থেকে তাই বর্ণনা করা হয়, যেখানে ফায়দা, উপদেশ ও নসিহত রয়েছে, অন্যথায় কেউ যদি বলে: “অমুকে মারা গেছে, ফলে তার ছেলে তার সম্পদের ওয়ারিশ হয়েছে” এ কথাটি অনেকটা এমন যেন কেউ মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বলল: “তাকে দাফন করেছে” অথবা এমন যেন কেউ বলল: “তারা পানাহার করেছে ও ঘুমিয়েছে”। এ জাতীয় বিষয় কুরআনুল কারীমের ঘটনায় উল্লেখ করা মোটেও শোভনীয় নয়।