১
ইসলাম ভঙ্গের ১০টি কারণ
লেখকঃ মোহাম্মদ ইমাম হুসাইন কামরুল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
ইসলাম ভঙ্গের দশম কারণ আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দুনিয়াতে যে দ্বীন তথা জীবনবিধান দান করেছেন, সেই জীবনবিধান থেকে বিমুখ হয়ে যাওয়া অথবা এর কোন একটি আইনের বিরোধিতা করা। এটি হচ্ছে কোন ব্যক্তির ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও স্পষ্ট ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার দিকসমূহ হলো :
১. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াটা হচ্ছে কুফরীর আলামত। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন আয়াত নাযিল করতেন অথবা রাসূলুল্লাহ ﷺ যখনই তাদের কাছে দাওয়াত দিতেন, তখন সাথে সাথেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিত। এদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰيَاتِ رَبِّهٖ ثُمَّ اَعْرَضَ عَنْهَاۤ اِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِيْنَ مُنْتَقِمُوْنَ﴾
যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়েছে অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (সূরা সাজদা- ২২)
আর এর বিপরীতে মুমিন ব্যক্তির আলামত হচ্ছে, আল্লাহর বিধি-বিধান শোনার সাথে সাথেই গ্রহণ করে নেয়া। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ‐ وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَخْشَ اللهَ وَيَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ﴾
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম; মূলত তারাই সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে সাবধান থাকে তারাই কৃতকার্য।
(সূরা নূর- ৫১, ৫২)
২. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন আযাবের সম্মুখীন করবেন, যা সাধারণত একজন কাফির ব্যক্তির ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمَنْ اَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِيْ فَاِنَّ لَهٗ مَعِيْشَةً ضَنْكًا وَّنَحْشُرُهٗ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اَعْمٰى ‐ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِۤيْ اَعْمٰى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيْرًا ‐ قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتْكَ اٰيَاتُنَا فَنَسِيْتَهَاۚ وَكَذٰلِكَ الْيَوْمَ تُنْسٰى ‐ وَكَذٰلِكَ نَجْزِيْ مَنْ اَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ ۢبِاٰيَاتِ رَبِّهٖؕ وَلَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَاَبْقٰى
যে আমার স্মরণ (কুরআন) হতে বিমুখ হবে, অবশ্যই তার জীবন যাপন সংকুচিত হয়ে যাবে। আর আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। অতঃপর সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই আমার আয়াতসমূহ তোমার নিকট এসেছিল, কিন্তু তুমি সেটা ভুলে গিয়েছিলে; সুতরাং আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হলো। আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই, যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রতিপালকের নিদর্শনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর পরকালের শাস্তি আরো কঠিন ও অধিক স্থায়ী। (সূরা ত্বা-হা, ১২৪-১২৭)
অতএব কোন ব্যক্তি মুসলিম দাবি করার পরও যদি ইসলামের কোন বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার ইসলাম ভঙ্গ হয়ে যাবে। চাই সেটা আকীদার ক্ষেত্রে অথবা ইবাদাতের ক্ষেত্রে হোক অথবা মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক অথবা চারিত্রিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে হোক। এ ধরনের প্রতিটি কাজই সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে এসব কুফরী থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন
১. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াটা হচ্ছে কুফরীর আলামত। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন আয়াত নাযিল করতেন অথবা রাসূলুল্লাহ ﷺ যখনই তাদের কাছে দাওয়াত দিতেন, তখন সাথে সাথেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিত। এদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰيَاتِ رَبِّهٖ ثُمَّ اَعْرَضَ عَنْهَاۤ اِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِيْنَ مُنْتَقِمُوْنَ﴾
যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়েছে অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (সূরা সাজদা- ২২)
আর এর বিপরীতে মুমিন ব্যক্তির আলামত হচ্ছে, আল্লাহর বিধি-বিধান শোনার সাথে সাথেই গ্রহণ করে নেয়া। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ‐ وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَخْشَ اللهَ وَيَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ﴾
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম; মূলত তারাই সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে সাবধান থাকে তারাই কৃতকার্য।
(সূরা নূর- ৫১, ৫২)
২. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন আযাবের সম্মুখীন করবেন, যা সাধারণত একজন কাফির ব্যক্তির ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمَنْ اَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِيْ فَاِنَّ لَهٗ مَعِيْشَةً ضَنْكًا وَّنَحْشُرُهٗ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اَعْمٰى ‐ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِۤيْ اَعْمٰى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيْرًا ‐ قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتْكَ اٰيَاتُنَا فَنَسِيْتَهَاۚ وَكَذٰلِكَ الْيَوْمَ تُنْسٰى ‐ وَكَذٰلِكَ نَجْزِيْ مَنْ اَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ ۢبِاٰيَاتِ رَبِّهٖؕ وَلَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَاَبْقٰى
যে আমার স্মরণ (কুরআন) হতে বিমুখ হবে, অবশ্যই তার জীবন যাপন সংকুচিত হয়ে যাবে। আর আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। অতঃপর সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই আমার আয়াতসমূহ তোমার নিকট এসেছিল, কিন্তু তুমি সেটা ভুলে গিয়েছিলে; সুতরাং আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হলো। আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই, যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রতিপালকের নিদর্শনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর পরকালের শাস্তি আরো কঠিন ও অধিক স্থায়ী। (সূরা ত্বা-হা, ১২৪-১২৭)
অতএব কোন ব্যক্তি মুসলিম দাবি করার পরও যদি ইসলামের কোন বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার ইসলাম ভঙ্গ হয়ে যাবে। চাই সেটা আকীদার ক্ষেত্রে অথবা ইবাদাতের ক্ষেত্রে হোক অথবা মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক অথবা চারিত্রিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে হোক। এ ধরনের প্রতিটি কাজই সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে এসব কুফরী থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন