hadith book logo

ইসলাম ভঙ্গের ১০টি কারণ

লেখকঃ মোহাম্মদ ইমাম হুসাইন কামরুল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ইসলাম ভঙ্গের ষষ্ঠ কারণ কাফির-মুশরিকদেরকে সহযোগিতা করা

অর্থাৎ মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির-মুশরিকদের পক্ষ নেয়া এবং তাদেরকে সহযোগিতা করা। যদি কোন ব্যক্তি অপর কারো কুফরী কর্মে সহযোগিতা করে আর যদি সেই কুফরী কর্মটি এমন হয় যে, সেটি মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়, তাহলে উক্ত কুফরী কর্মে সহযোগিতা করার কারণেও যে কোন মুসলিম ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে সে মুরতাদ হিসেবে পরিগণিত হবে এবং তার উপর মুরতাদের বিধান প্রযোজ্য হবে। মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সহযোগীরা এই পদ্ধতিতেই ইসলাম থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তারা মৌখিকভাবে ঈমানের স্বীকৃতি দিলেও কার্যক্রমে সর্বদা কাফির-মুশরিকদের পক্ষ অবলম্বন করত এবং তাদেরকে সহযোগিতা করত। আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে বলেন,

﴿لَا تَجِدُ قَوْمًا يُّؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ يُوَآدُّوْنَ مَنْ حَآدَّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَلَوْ كَانُوْاۤ اٰبَآءَهُمْ اَوْ اَبْنَآءَهُمْ اَوْ اِخْوَانَهُمْ اَوْ عَشِيْرَتَهُمْ﴾

যারা আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তাদেরকে আপনি এমন লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, যদিও তারা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা ভাই কিংবা তাদের জাতি-গোষ্ঠীর কেউ হয়।

(সূরা মুজাদালা- ২২)

কাফিরদেরকে সহযোগিতার অপরাধে উপরোক্ত মূলনীতি ছাড়াও আরো কয়েকটি দিক থেকেও যে কোন ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।

১. ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করার অর্থ হচ্ছে, উক্ত কুফরী কর্মে ঐক্যমত পোষণ করা অথবা উক্ত কুফরী কর্মে সন্তুষ্ট থাকা। অথচ কোন কুফরী কর্মের প্রতি এরূপ মনোবাসনা রাখাটাই হচ্ছে একটি বড় ধরনের কুফরী এবং এর বিপরীতে যে কোন কুফরী কর্মের প্রতি ঘৃণা পোষণ করাটাই হচ্ছে ঈমানের দাবি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ

যদি তারা আল্লাহর প্রতি, নবীর প্রতি এবং তাঁর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি বিশ্বাস রাখত, তবে তারা কখনোই তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না; কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসেক। (সূরা মায়েদা- ৮১)

২. কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করার আরেকটি অর্থ হচ্ছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা বা তাদের সাথে মিত্রতা বজায় রাখা। ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার কারণ হিসেবে ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

৩. কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করার আরেকটি অর্থ হচ্ছে, তারা যেসব কুফরী কাজ করে থাকে সেগুলো করার ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। সুযোগ পেলে সেও উক্ত কর্মে সরাসরি লিপ্ত হবে। কোন কুফরী কর্মের ব্যাপারে এরূপ মনোবাসনা রাখাটা একটি বড় ধরনের ভ্রষ্টতা। আল্লাহ এরূপ করতে সরাসরি নিষেধ করে দিয়েছেন এবং এর শেষ পরিণতির কথাও জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন- তিনি বলেন,

وَلَا تَرْكَنُوْاۤ اِلَى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ اَوْلِيَآءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ

যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে (জাহান্নামের) অগ্নি তোমাদেরকে স্পর্শ করবে। তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না এবং তোমাদেরকে কোন সাহায্যও করা হবে না। (সূরা হুদ- ১১৩)

৪. কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করার আরেকটি অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করে কাফিরদের আনুগত্যকে মেনে নেয়া। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنْ تُطِيْعُوا الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يَرُدُّوْكُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوْا خَاسِرِيْنَ

হে মুমিনগণ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাদেরকে পশ্চাদপদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং তাতে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৯)

৫. কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করার আরেকটি অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করা। কেননা কাফিররা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিদ্রোহ করে থাকে। আর সে কাফিরদেরকে সহযোগিতা করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। অতএব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কীভাবে পরকালে চিরস্থায়ী জান্নাতের আশা করা যেতে পারে?

৬. কাফিরদের কোন কাজে সহযোগিতা করলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা কমে যায়। এমতাবস্থায় তারা শুধু কাফিরদের উপরই নির্ভর করে। ফলে তারা নিজেদের ছোট-বড় যে কোন প্রয়োজনে বা বিপদে কাফিরদের সাহায্য-সহযোগিতা কমনা করে। অতঃপর কাফিররা যদি তাদেরকে এমন কোন শর্তের ভিত্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা করে, যা ঈমান ও ইসলামের দাবির বর্হিভুত, তাহলে তারা সেটা মেনে নিতেও কষ্ট অনুভব করে না। আর যাদের ঈমান এই পর্যায়ে চলে যায়, তাদেরকে কীভাবে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে?

اَلنَّاقِضُ السَّابِعُ مِنْ نَّوَاقِضِ الْإِسْلَامِ