hadith book logo

মুমিনদের জন্য মাহে রমজানের হাদিয়া

লেখকঃ শায়খ সালেহ বিন ফাওযান আল ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

একাদশ পাঠ: রোজার আদব

রোজার গুরুত্বপূর্ণ আদব হচ্ছে শরিয়ত নির্ধারিত সময়ে রোজা শুরু করা, তার আগে পরে শুরু না করা। এজন্য রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে বা পরে রমজানের রোজা হিসাবে রোজা রাখা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়। তিনি আরো বলেছেন: তোমরা চাঁদ দেখার আগে রোজা রেখ না এবং চাঁদ দেখা পর্যন- রোজা ছেড় না।

প্রথম হাদিসে চাঁদ দেখে রোজা রাখার আদেশ করা হয়েছে এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ার আদেশ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য রোজার সময়-সীমা দুই চাঁদের মধ্যবর্তী সময়।

দ্বিতীয় হাদিসে চাঁদ দেখার আগে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এবং চাঁদ দেখার পূর্বে রোজা ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে যে, রমজান মাস আসার পূর্বে রমজানের রোজা রাখা যাবে না কেননা এতে শরীয়তের বরখেলাফ করা হয়। আরো বর্ণিত আছে যে, তোমরা রমজানে পূর্বে রোজা রেখ না। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা রমজান মাস আসার একদিন বা দুদিন পূর্ব থেকে রোজা রেখ না। এজন্য শাবানের উনত্রিশ তারিখে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। আম্মার থেকে বর্ণিত : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, সন্দেহপূর্ণ দিবসে রোজা রাখল সে যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবাধ্যতা করল।

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন : এটাই স্পষ্ট যে, রমজানের পূর্বে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এবং শরীয়তের মূলনীতিগুলো এর সমর্থন করে। সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে আমল না করা শ্রেয় বরং সতর্কতা হিসাবে আমল ছেড়ে দেয়া মুস্তাহাব।

এতে প্রমাণিত হয় যে, রোজার ক্ষেত্রে সৌর গণনা গ্রহণযোগ্য নয় কেননা এতে সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে আমল করা হয়।

* রোজার আরেকটি আদব হচ্ছে, সেহরী খাওয়া বিলম্ব করা যদি সুবহে সাদেক উদয় হওয়ার সম্ভবনা না থাকে। যায়েদ বিন সাবেত রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে সেহরী খেয়েছি অত:পর নামাজে দাঁড়িয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন : আমি বললাম, এর মধ্যে কতটুকু সময় দুরত্ব ছিল। তিনি বলেন: পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ।

আবু যর রা: থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমার উম্মত মঙ্গলের সাথে থাকবে যতদিন তারা সেহরী বিলম্ব করবে এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করবে। এছাড়াও সেহরী বিলম্ব করা রোজা সম্পাদনে সহযোগী। আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়’। কাল রেখা মানে রাতের আধাঁর আর সাদা রেখা মানে দিনের আলো। কিছু মানুষ এমন আছে যারা রাতের বেশি অংশ জাগ্রত থাকে অত:পর ঘুমাতে যায় তখন সেহরী খেয়ে ফেলে এতে তাদের ফজরের নামাজ ছুটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। ফলে এরা রোজার সময় হওয়ার পূর্বে রোজা রাখে এবং তাদের থেকে ফজরের নামাজ ছুটে যায়। তাদের কাছে রোজার কি মূল্য থাকবে যতক্ষণ তারা মনোপ্রভৃত্তির অনুস্বরণ করবে?

রোজার আরেকটি আদব হচ্ছে : সূর্য অস- যাওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘মানুষ কল্যাণের সাথে থাকবে যতদিন তারা ইফতারি তাড়াতাড়ি করবে’। অর্থাৎ এই উম্মত সম্মানের সাথে থাকবে যতদিন তারা এ সুনা্নতকে ধরে রাখবে।

ইফতার ও সাহরীর আদব : তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করা। যদি তা না পাওয়া যায় তাহলে শুকনা খেজুর দিয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়ার পূর্বে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তা না থাকত তাহলে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। ইফতারে সময় বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয় জাতীয় বস'র বেশি আয়োজন না করা উচিত। কারণ এতে সুন্নতের উপর আমল করা হয় না এবং জামাতের সাথে নামাজ আদায় ছুটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।