hadith book logo

মুমিনদের জন্য মাহে রমজানের হাদিয়া

লেখকঃ শায়খ সালেহ বিন ফাওযান আল ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

ত্রয়োদশ পাঠ : রোজাদারের জন্য যা করা অপছন্দীয়

রোজাদারের জানা উচিত যে সে একটি মহৎ ইবাদত সম্পাদন করছে। এ ইবাদতের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন কাজ না করা। রোজাদারের পূরাটা সময় ইবাদত গণ্য করা হবে। রাতের ঘুম ও রোজার অন-র্ভুক্ত হবে যখন সে রোজা রাখার শক্তি যোগানোর জন্য ঘুমাবে। সুতরাং রোজা রাখা অবস্থায় এ ইবাদতের সাথে এমন কিছু না করা যা তার সাথে সামঞ্জস্য রাখে না। এজন্য পূর্ববর্তীগণ যখন রোখা রাখতেন তখন মসজিদে বসে থাকতেন এবং বলতেন : আমরা আমাদের রোজা সংরক্ষণ করছি এবং আমরা কারো দোষ চর্চা করব না, যাতে আমাদের রোজা ঠিক থাকে।

রোজাদারের সর্বদা মসজিদে বসে থাকা জরুরি নয়, কেননা তার জীবিকা অর্জনের জন্য কাজের প্রয়োজন রয়েছে। তার করণীয় হচ্ছে সে যেখানে থাক না কেন রোজার সম্মান রক্ষা করবে। মূখে খারাপ কোন কথা বলবে না, গালি দিবে না যদি কেউ তাকে গালি দেয় তাহলে তার উত্তর দেবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন রোজা রাখা অবস্থায় কোন খারাপ কর্ম না করে। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে আসে বা গালি দেয় তাহলে সে যেন বলে আমি রোজাদার। (বুখারি : ১৮৯৪)

এ বর্ণনাগুলো দ্বারা রোজার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। কেউ যদি তাকে প্রহার করে বা গালি দেয় তাহলে সে উত্তর দেবে না যদিও বদলা নেওয়া বৈধ তবে রোজা রাখা অবস'ায় এর থেকে বিরত থাকবে এবং বলবে আমি রোজাদার। অতএব যখন বদলা নেওয়াই রোজা অবস্থায় নিষেধ তাহলে তা শুরু করা মারাত্নক সীমালঙ্ঘন হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন : তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না আল্লাহ তাআলা সীমালঙ্ঘনকারিদের ভালবাসেন না। (বাকারা : ১৯০)

রোজার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আত্নসংযম এবং শয়তান ও তার সাহায্যকারীদের থেকে বিরত থাকার শক্তি অর্জন করা।

জনৈক আলেম বলেছেন : রোজাদারের উচিত সব অঙ্গের দ্বারা রোজা রাখা, চামড়া, চোখ, জিহ্বা, অন-র ইত্যাদি

সুতরাং কাউকে গালি দেবে না, কারো সাথে ঝগড়া করবে না, মিথ্যা বলবে না, সময় নষ্ট করবে না, কবিতা আবৃতি করে রাত্রে গল্প গুজব করবে না, অন্যায়ভাবে কারো প্রসংশা বা নিন্দা করবে না, অন্যায়ের দিকে হাত সমপ্রসারণ করবে না, অন্যায়ের দিকে পায়ে হেটে যাবে না।

উলামায়ে কেরাম বলেন : গোনাহ যেমন মুখের দ্বারা হয়, তেমনিভাবে চোখ, হাত ও ঠোঁটের দ্বারাও হয়।

গোনাহের দ্বারা রোজার সওয়াব কমে যায় যদিও রোজা ভেঙ্গে যায় না এবং রোজাদার রোজার পূণ্য পাবে না যদিও সে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকার কারণে কষ্ট করেছে। কেননা নিষিদ্ধ কর্ম বর্জনের মাধ্যমে শরীয়তের কাংখিত রোজা সে রাখে নাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজাদারকে আদেশ করেছেন : যদি কেউ তাকে গালি দেয় তাহলে সে বলবে আমি রোজাদার। এর মাধ্যমে তিনি কোন খারাপ কর্ম বা কথার উত্তর সদাচরণের মাধ্যমে দিতে বলেছেন।