১
মুমিনদের জন্য মাহে রমজানের হাদিয়া
লেখকঃ শায়খ সালেহ বিন ফাওযান আল ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
চৌদ্দতম পাঠ: রোজা বিনষ্টকারী বস্তুসমূহের প্রথমটির আলোকপাত
জেনে রাখা ভালো! রোজা বিনষ্টকারী বস্তুসমূহ নিয়ে নিয়ে আলোকপাত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে করে মুসলিম ব্যক্তি এ থেকে সতর্ক হবে ও দূরে থাকবে।
রোজা বিনষ্টকারী বস্তু দুই প্রকার (১) এক রোজা নষ্ট করে এবং কাযা ওয়াজিব করে (২) রোজার সাওয়াব নষ্ট করে কাযা ওয়াজিব করে না।
যে সব কাজ রোজা নষ্টকারী এবং কাযা ওয়াজিব করে তা কয়েক প্রকার:
(১) সহবাস
রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় রোজাদার ব্যক্তি সহবাস করলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাকে দিনের বাকী অংশ না খেয়ে থাকতে হবে। আল্লাহর নিকট তওবা এবং ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এবং এ রোজাটি পরবর্তীতে কাযা করবে। এবং তাকে কাফফরা দিতে হবে।
কাফফারা হলো- দাস-দাসী মুক্ত করা। তা না পারলে দুই মাস লাগাতার রোজা পালন। তা করতে সক্ষম না হলে ষাট জন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান। প্রত্যেকের জন্য এক ফিতরা পরিমাণ গম, অথবা প্রচলিত খাদ্যদ্রব্য। রোজা রাখতে সক্ষম না হওয়া মানে শরিয়তের দৃষ্টিতে সামর্থ্য না রাখা। রোজার দ্বারা শুধু উপবাস বা এ জাতীয় কষ্ট উদ্দেশ্য নয়।
জনৈক সাহাবী এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন: ধ্বংস হয়েছি এবং ধ্বংস করেছি; তিনি বললেন: কিসে তোমাকে ধবংস করেছে? আমি রমজানের রোজা আবস্থায় আমার স্ত্রীর সাতে সহবাসে লিপ্ত হয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোন মাস মুক্ত করতে পারবে? সে উত্তরে বলল, না । তিনি বললেন, লাগাতার দুইমাস রোজা পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেন ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল: না। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে পড়লেন। ইতিমধ্যে তার কাছে কিছু তরল খাবার আসল যার মাঝে খেজুরও ছিল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটিকে বলল, এগুলো সদকা করে দাও। লোকটি বলল: আমার চেয়ে আরো অভাবী কোন ফকিরকে? কারণ এ দুই পাহাড়ের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবী আর কেউ নেই। তার কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং বললেন, যাও এগুলো তোমার পরিবারের জন্য নিয়ে যাও। (বুখারী:১৯৩৬ মুসলিম: ১১১১)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন- “রোজাদারের সহবাস, বের হওয়ার দিক থেকে সিংগা এবং হায়েযের সাথে মিল রয়েছে। সহবাসের সময় যেমন বের হয় এগুলোর সময়ও বের হয়। আহার এবং পান করার সাথে মিল রয়েছে কাম্যবস্তু হিসেবে। তিনি বলেন, সহবাস, বীর্য নিগর্মনের কারণ হওয়ায় ইচ্ছাকৃত বমি, হায়িয এবং সিংগার সাথে মিল রয়েছে। অন্য দিকে কাম্যবস্তু হওয়ায় তা খাবার গ্রহণ এবং পান করার সাথে মিল রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সংবাদ দিয়েছেন তা হলো, আল্লাহ রোজাদার সম্পর্কে বলেন '' সে আমার জন্য খাবার এবং পানাহার পরিহার করে।'' অতএব মানুষ কাম্যবস্তুকে আল্লাহর জন্য পরিহার করাটাই কাংক্ষিত ইবাদত। এর জন্য সে সাওয়াব পাবে।
দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামতের মধ্যে একটি হলো সহবাস যা আত্মার বিকাশ এবং আনন্দ দানের জন্য জরুরী। এটা প্রবৃত্তি, রক্ত এবং দেহের সঞ্চালনের জন্য খাদ্যের চেয়েও বেশি ক্রিয়াশীল। আমরা যখন বিশ্বস করি করি শয়তান মানব সন্তানের শিরা উপশিরায় বিচরণ করে। এর ফলে পুষ্টি, রক্ত বৃদ্ধি করে। ফলে আত্মা প্রসার হয় বিকাশ হয় কাম্য বস্তুসমূহের দিকে। তাহলে বলা যায় এসব গুলো সহবাসের মধ্যে অনেক বেশি উপস্থিত রয়েছে। কারণ এটি আত্মার ইচ্ছাশক্তিকে প্রলম্বিত করে প্রবৃত্তির দিকে এবং ইবাদত বিমূখ করে। বরং বলা যায় প্রবৃত্তির মূল টার্গেট হলো সহবাস এবং এ কামভাব। যা আহার ও পান করা থেকেও বড়। এ জন্য সহবাসকারীর কাফফারা রদয়া ওয়াজিব। তার জন্য দাসমুক্তি অথবা সুন্নাত ও ইজমা ভিত্তিক যা সাবস্ত্য হবে তা আদায় ওয়াজিব। কারণ এ অপরাধ মারাত্মক ক্ষতি ও ভয়াবহ। এ হলো সহবাস হারাম করার বড় দুইটি কারণ। হ্যাঁ, বীর্য বের হওয়ার ফলে শরীর দুর্বল হয়। এতে তো অন্য উদ্দেশ্য আছে। দুর্বল করার ক্ষেত্রে এটা ইচ্ছাকৃত বমি এবং হায়েযের মতো বরং এ দুটোর চেয়েও বেশি। তাই সহবাস রোজা নষ্ট করার ক্ষেত্রে আহার এবং হায়িয থেকে অনেক বেশি ক্রিয়াশীল । ’’
রোজা বিনষ্টকারী বস্তু দুই প্রকার (১) এক রোজা নষ্ট করে এবং কাযা ওয়াজিব করে (২) রোজার সাওয়াব নষ্ট করে কাযা ওয়াজিব করে না।
যে সব কাজ রোজা নষ্টকারী এবং কাযা ওয়াজিব করে তা কয়েক প্রকার:
(১) সহবাস
রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় রোজাদার ব্যক্তি সহবাস করলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাকে দিনের বাকী অংশ না খেয়ে থাকতে হবে। আল্লাহর নিকট তওবা এবং ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এবং এ রোজাটি পরবর্তীতে কাযা করবে। এবং তাকে কাফফরা দিতে হবে।
কাফফারা হলো- দাস-দাসী মুক্ত করা। তা না পারলে দুই মাস লাগাতার রোজা পালন। তা করতে সক্ষম না হলে ষাট জন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান। প্রত্যেকের জন্য এক ফিতরা পরিমাণ গম, অথবা প্রচলিত খাদ্যদ্রব্য। রোজা রাখতে সক্ষম না হওয়া মানে শরিয়তের দৃষ্টিতে সামর্থ্য না রাখা। রোজার দ্বারা শুধু উপবাস বা এ জাতীয় কষ্ট উদ্দেশ্য নয়।
জনৈক সাহাবী এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন: ধ্বংস হয়েছি এবং ধ্বংস করেছি; তিনি বললেন: কিসে তোমাকে ধবংস করেছে? আমি রমজানের রোজা আবস্থায় আমার স্ত্রীর সাতে সহবাসে লিপ্ত হয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোন মাস মুক্ত করতে পারবে? সে উত্তরে বলল, না । তিনি বললেন, লাগাতার দুইমাস রোজা পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেন ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল: না। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে পড়লেন। ইতিমধ্যে তার কাছে কিছু তরল খাবার আসল যার মাঝে খেজুরও ছিল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটিকে বলল, এগুলো সদকা করে দাও। লোকটি বলল: আমার চেয়ে আরো অভাবী কোন ফকিরকে? কারণ এ দুই পাহাড়ের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবী আর কেউ নেই। তার কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং বললেন, যাও এগুলো তোমার পরিবারের জন্য নিয়ে যাও। (বুখারী:১৯৩৬ মুসলিম: ১১১১)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন- “রোজাদারের সহবাস, বের হওয়ার দিক থেকে সিংগা এবং হায়েযের সাথে মিল রয়েছে। সহবাসের সময় যেমন বের হয় এগুলোর সময়ও বের হয়। আহার এবং পান করার সাথে মিল রয়েছে কাম্যবস্তু হিসেবে। তিনি বলেন, সহবাস, বীর্য নিগর্মনের কারণ হওয়ায় ইচ্ছাকৃত বমি, হায়িয এবং সিংগার সাথে মিল রয়েছে। অন্য দিকে কাম্যবস্তু হওয়ায় তা খাবার গ্রহণ এবং পান করার সাথে মিল রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সংবাদ দিয়েছেন তা হলো, আল্লাহ রোজাদার সম্পর্কে বলেন '' সে আমার জন্য খাবার এবং পানাহার পরিহার করে।'' অতএব মানুষ কাম্যবস্তুকে আল্লাহর জন্য পরিহার করাটাই কাংক্ষিত ইবাদত। এর জন্য সে সাওয়াব পাবে।
দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামতের মধ্যে একটি হলো সহবাস যা আত্মার বিকাশ এবং আনন্দ দানের জন্য জরুরী। এটা প্রবৃত্তি, রক্ত এবং দেহের সঞ্চালনের জন্য খাদ্যের চেয়েও বেশি ক্রিয়াশীল। আমরা যখন বিশ্বস করি করি শয়তান মানব সন্তানের শিরা উপশিরায় বিচরণ করে। এর ফলে পুষ্টি, রক্ত বৃদ্ধি করে। ফলে আত্মা প্রসার হয় বিকাশ হয় কাম্য বস্তুসমূহের দিকে। তাহলে বলা যায় এসব গুলো সহবাসের মধ্যে অনেক বেশি উপস্থিত রয়েছে। কারণ এটি আত্মার ইচ্ছাশক্তিকে প্রলম্বিত করে প্রবৃত্তির দিকে এবং ইবাদত বিমূখ করে। বরং বলা যায় প্রবৃত্তির মূল টার্গেট হলো সহবাস এবং এ কামভাব। যা আহার ও পান করা থেকেও বড়। এ জন্য সহবাসকারীর কাফফারা রদয়া ওয়াজিব। তার জন্য দাসমুক্তি অথবা সুন্নাত ও ইজমা ভিত্তিক যা সাবস্ত্য হবে তা আদায় ওয়াজিব। কারণ এ অপরাধ মারাত্মক ক্ষতি ও ভয়াবহ। এ হলো সহবাস হারাম করার বড় দুইটি কারণ। হ্যাঁ, বীর্য বের হওয়ার ফলে শরীর দুর্বল হয়। এতে তো অন্য উদ্দেশ্য আছে। দুর্বল করার ক্ষেত্রে এটা ইচ্ছাকৃত বমি এবং হায়েযের মতো বরং এ দুটোর চেয়েও বেশি। তাই সহবাস রোজা নষ্ট করার ক্ষেত্রে আহার এবং হায়িয থেকে অনেক বেশি ক্রিয়াশীল । ’’