hadith book logo

মুমিনদের জন্য মাহে রমজানের হাদিয়া

লেখকঃ শায়খ সালেহ বিন ফাওযান আল ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

তেইশতম পাঠ: জাকাতের বিধান

আল্লাহর বান্দাগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, খালেস নিয়তে ও হালাল উপার্জন থেকে তোমরা যা সদকা কর, তা মূলত তোমরা তোমাদের রবকে করজে হাসানা প্রদান করছ। যা তোমরা আল্লাহর নিকট সঞ্চিত ও অনেক গুণ বৃদ্ধির আকারে দেখতে পাবে। অধিকন্তু এ দুনিয়াতে তোমরা আল্লাহর বরকত প্রাপ্ত হচ্ছো ও তোমাদের সম্পদ তো বৃদ্ধি পাচ্ছেই। তোমরা জাকাতের সম্পদকে খুব বেশি মনে কর না। অনেক মানুষ দেখা যায়, যারা মিলিয়ন মিলিয়ন টাকার মালিক, তবুও জাকাত পরিমাণ অর্থকে তারা খুব বেশি মনে করে। অথচ আল্লাহর অনুগ্রহ যে তাদের ওপর এর চেয়েও বেশি সে কথা তারা ভুলে যায়। আল্লাহ তাকে এতো অর্থ ও বিত্ত-বৈভবের মালিক বানিয়েছেন, সে কথা মনে রাখে না। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এক মুহূর্তের মধ্যে তার এ অর্থ-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিলিবণ্টন করে দিতে পারেন। অথবা আল্লাহ তার মৃত্যু দিয়ে দিতে পারেন, ফলে এ সম্পদের হিসাব-নিকাশ থাকবে তার দায়িত্ব আর ভোগ করবে অন্যরা।

জাকাত যারা পেতে পারে :

জাকাতের হকদার আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তাদের ভিন্ন অন্য কারো নিকট জাকাত হস্তান্তর করা বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

{ إنما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل فريضة من الله والله عليم حكيم } [ التوبة : 60].

'নিশ্চয় সদকা হচ্ছে ফকির ও মিসকিনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, (তা বণ্টন করা যায়) গোলাম আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।' (সূরা তওবা : ৬০)

যে ব্যক্তি এতটুকু সম্পদের মালিক, যতটুকুর মাধ্যমে তার এবং তার পরিবারের এক বছরের খরচ ঘুচে যায়। অথবা তার নির্দিষ্ট বেতন-ভাতা রয়েছে, অথবা তার অন্য কোন উৎস রয়েছে যা তার জন্য যথেষ্ট, সে ব্যক্তি ধনী। তার জন্য জাকাত গ্রহণ করা বা তাকে জাকাত দেয়া জায়েজ নয়। তদ্রূপ যে ব্যক্তি নিজ প্রয়োজন মোতাবেক রিজিক উপার্জন করতে সক্ষম এবং তার সে রিজিক অন্বেষণ করার সময় ও সুযোগ রয়েছে, তার জন্যও জাকাত নেয়া বা তাকে জাকাত প্রদান করা বৈধ নয়। হাদীসে এসেছে, 'ধনীর জন্য তদ্রূপ উপার্জক্ষম ব্যক্তির জন্য জাকাত বৈধ নয়।' (নাসায়ি ও আবুদাউদ)

তদ্রূপ কল্যাণমূলক কাজেও জাকাত দেয়া বৈধ নয়। যেমন, মসজিদ- মাদরাসা নির্মাণ অথবা অন্য কোন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা। এসব কল্যাণকর কাজগুলো করা হবে বায়তুল মাল অথবা নফল দান-সদকা থেকে। জাকাত আল্লাহর হক, আল্লাহর নির্ধারিত নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত ছাড়া অন্য কোথাও জাকাতের অর্থ ব্যয় করা বৈধ নয়। কোন ঋণের পরিবর্তে জাকাত কর্তন করা বৈধ নয়। জাকাতের মাধ্যমে ঘুষ বা অন্য কোন জরিমানা আদায় করা বৈধ নয়। নিজ অধস্তন সন্তান বা আপন পূর্বপুরুষ বা এমন কোন ব্যক্তিকে জাকাত প্রদান করা যাবে না, যার ব্যয়ভার ও খরচাদি জাকাত প্রদানকারীর ওপর ন্যস্ত।

আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট করে যাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের ভিন্ন অন্য কোথাও জাকাত দেয়া বৈধ নয়। কেউ অন্য কোথাও জাকাত দিলে বৈধ হবে না এবং তার জাকাত শুদ্ধ হবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা নিজেই তাদের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন,

{ إنما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل فريضة من الله والله عليم حكيم } [ التوبة 60]

'নিশ্চয় সদকা হচ্ছে ফকির ও মিসকিনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, (তা বণ্টন করা যায়) দাস-দাসী মুক্ত করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ মাহজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।' (সূরা তওবা : ৬০)

আল্লাহ তাআলার এ বর্ণনা পদ্ধতিই বলে দেয় যে, জাকাত এদের মধ্যে সীমিত। এ আট প্রকারের কোন এক প্রকারকে জাকাত দিলেই যথেষ্ট হবে, সবাইকে জাকাত দেয়া জরুরি নয়। এর প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস, তিনি মাআজ রা. কে ইয়েমেনে পাঠিয়ে বলেন, 'অতঃপর তুমি তাদের বল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তোমাদের ধনীদের থেকে নিয়ে গরীবদের মাঝে বণ্টন করা হবে।' (বুখারি : ১৪৫৮) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে শুধু গরীবদের কথা উল্লেখ করেছেন, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, শুধু গরীবদের জাকাত দিলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে।