hadith book logo

কান্নার ফযীলত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

যেসব ক্ষেত্রে কান্না করা জায়েয নেই

ধ্বংস প্রাপ্ত জাতির জন্য :

পৃথিবীতে যেসব জাতি ধ্বংস হয়েছে, তাদের কথা স্মরণ করে ক্রন্দন করা বৈধ নয়। কেননা তারা আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿كَمْ تَرَكُوْا مِنْ جَنَّاتٍ وَّعُيُوْنٍ ‐ وَزُرُوْعٍ وَّمَقَامٍ كَرِيْمٍ ‐ وَنَعْمَةٍ كَانُوْا فِيْهَا فَاكِهِيْنَ ‐ كَذٰلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا اٰخَرِيْنَ ‐ فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَآءُ وَالْاَرْضُ وَمَا كَانُوْا مُنْظَرِيْنَ﴾

তারা ছেড়ে গিয়েছিল কত উদ্যান ও কত ঝর্ণাধারা, কত শস্যক্ষেত্র ও সুবিশাল প্রাসাদ এবং কতই না বিলাসবহুল উপকরণ, যা তাদেরকে আনন্দ দিত। অনুরূপভাবে আমি অন্য এক সম্প্রদায়কে এর উত্তরাধিকারী বানালাম। অতঃপর আকাশ এবং পৃথিবী কেউই তাদের জন্য অশ্রুপাত করেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হয়নি। (সূরা দুখান : ২৫- ২৯)

মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চ আওয়াজে ক্রন্দন করা :

মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চ আওয়াজে ক্রন্দন করা কোনভাবেই বৈধ নয়। এটা জাহেলী যুগের নারীদের অভ্যাস। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর থেকে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ بَايَعْنَا النَّبِيَّ فَقَرَأَ عَلَيْنَا ﴿أَنْ لَّا يُشْرِكْنَ بِاللهِ شَيْئًا﴾ وَنَهَانَا عَنْ النِّيَاحَةِ فَقَبَضَتِ امْرَأَةٌ مِنَّا يَدَهَا فَقَالَتْ فُلَانَةُ أَسْعَدَتْنِيْ وَأَنَا أُرِيْدُ أَنْ أَجْزِيَهَا فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا فَذَهَبَتْ ثُمَّ رَجَعَتْ فَمَا وَفَتِ امْرَأَةٌ إِلَّا أُمُّ سُلَيْمٍ وَأُمُّ الْعَلَاءِ وَابْنَةُ أَبِيْ سَبْرَةَ امْرَأَةُ مُعَاذٍ

উম্মে আতীয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট বাইআত নিলাম এবং তিনি আমাদের সামনে ‘‘তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না’’- এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন; আর তিনি আমাদেরকে (মৃত ব্যক্তির জন্য) উচ্চকণ্ঠে ক্রন্দন ও বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীলোক স্বীয় হাত চেপে ধরে বলল, অমুক স্ত্রীলোক (বিলাপ করে কান্নাকাটি করার ব্যাপারে) আমাকে সহায়তা করে এবং আমি তার প্রতিদান দিতে চাই। জবাবে তখন নবী ﷺ কিছুই বললেন না। সুতরাং উক্ত স্ত্রীলোকটি চলে গেল এবং পুনরায় ফিরে এসে নবী ﷺ এর হাতে বাইআত প্রদান করল। কিন্তুত্মুত্মুত উম্মে সুলাইম, উম্মে আলা, আবু সাবরার কন্যা মু‘আয এর স্ত্রী ব্যতীত কেউ তার অঙ্গীকার পূর্ণ করেনি। [সহীহ বুখারী, হা/৭২১৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৩৫৫।]

যে ব্যক্তি (শোকার্ত হয়ে) বুকের জামা ছিঁড়ে ফেলে সে আমাদের দলভুক্ত নয় :

عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنْ النَّبِيِّ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُوْدَ وَشَقَّ الْجُيُوْبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি গাল চাপড়ায়, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের মতো উচ্চ আওয়াজে বিলাপ করে। [সহীহ বুখারী, হা/১২৯৭-৯৮, ৩৫১৯; সহীহ মুসলিম, হা/১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬৫৮; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৫২৫২; নাসাঈ, হা/১৮৫৯; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৩৬৬; মিশকাত, হা/১৭২৫।]

অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে কান্না করা :

কোন অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে ক্রন্দন করা বৈধ নয়। যেমনভাবে ইউসুফ (আঃ) এর ব্যাপারে তার ভাইয়েরা পিতার সাথে মিথ্যা ক্রন্দন করেছিল। কুরআন মাজীদে এসেছে,

﴿وَجَآءُوْاۤ اَبَاهُمْ عِشَآءً يَّبْكُوْنَ ‐ قَالُوْا يَاۤ اَبَانَاۤ اِنَّا ذَهَبْنَا نَسْتَبِقُ وَتَرَكْنَا يُوْسُفَ عِنْدَ مَتَاعِنَا فَاَكَلَهُ الذِّئْبُۚ وَمَاۤ اَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَّنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِيْنَ – وَجَآءُوْا عَلٰى قَمِيْصِهٖ بِدَمٍ كَذِبٍ قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ اَنْفُسُكُمْ اَمْرًاؕ فَصَبْرٌ جَمِيْلٌؕ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ﴾

তারা রাত্রির প্রথম প্রহরে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসল। তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমরা দৌঁড়ের প্রতিযোগিতা করছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রেখে গিয়েছিলাম। অতঃপর নেকড়ে বাঘ তাঁকে খেয়ে ফেলেছে; কিন্তু আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হয়ে থাকি। তারা তাঁর জামায় মিথ্যা রক্ত লেপন করে এনেছিল। তিনি বললেন, না বরং তোমরা নিজেরা তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে নিয়েছ। সুতরাং (এখন আমার জন্য) পূর্ণ ধৈর্যধারণ করাই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল। (সূরা ইউসুফ : ১৬ - ১৮)