hadith book logo

কান্নার ফযীলত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

জাহান্নামীদের কান্না

জাহান্নামীরা জাহান্নামে কান্না করবে :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ إِنَّ أَهْلَ النَّارِ لَيَبْكُوْنَ حَتّٰى لَوْ أُجْرِيَتِ السُّفُنُ فِيْ دُمُوْعِهِمْ لَجَرَتْ وَأَنَّهُمْ لَيَبْكُوْنَ الدَّمَ يَعْنِيْ مَكَانَ الدَّمْعِ

আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, নিশ্চয় জাহান্নামীরা কাঁদতে থাকবে; এমনকি যদি তাদের চোখের অশ্রুতে নৌকা প্রবাহিত করা হয় তাহলে তা প্রবাহিত হবে। আর কান্না করতে করতে তাদের চোখ থেকে অশ্রুর পরিবর্তে রক্ত পড়তে থাকবে। [মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৮৭৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৩৫২৬৮; কানযুল উম্মাল, হা/৩৯৫২৭।]

পাপী ব্যক্তি কবরে চিৎকার করবে :

عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : ‏‏ اَلْعَبْدُ إِذَا وُضِعَ فِيْ قَبْرِه وَتُوُلِّيَ وَذَهَبَ أَصْحَابُه حَتّٰى إِنَّه لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَأَقْعَدَاهُ فَيَقُوْلَانِ لَه : مَا كُنْتَ تَقُوْلُ فِيْ هٰذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ ؟ فَيَقُوْلُ : أَشْهَدُ أَنَّه عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُه ‏. ‏ فَيُقَالُ : اُنْظُرْ إِلٰى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللهُ بِه مَقْعَدًا مِّنَ الْجَنَّةِ قَالَ النَّبِيُّ : فَيَرَاهُمَا جَمِيْعًا وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوِ الْمُنَافِقُ فَيَقُوْلُ : لَا أَدْرِيْ كُنْتُ أَقُوْلُ مَا يَقُوْلُ النَّاسُ‏ فَيُقَالُ : لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ‏‏ ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَقَةٍ مِّنْ حَدِيْدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيْحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيْهِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ‏

‏আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, মানুষকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার বন্ধু-বান্ধব সেখান থেকে ফিরে চলে যায়, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এমন সময় তার নিকট দু’জন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসান। তারপর তারা তাকে মুহাম্মাদ ﷺ-কে দেখিয়ে বলেন, এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কী বলতে? সে তখন বলবে, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি, তিনি আল্লাহর দাস ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার জায়গাটি দেখে নাও। সেটির পরিবর্তে আল্লাহ জান্নাতে তোমাকে একটি জায়গা দান করেছেন। নবী ﷺ বলেন, তারপর স্থান দু’টি সে একসঙ্গে প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তুত্মুত্মুত কাফির ও মুনাফিক বলবে, আমি জানি না; অন্যান্য মানুষর যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি জানতেও না পড়তেও না। এরপর লোহার একটি মুগুর দিয়ে তার উভয় কানের মাঝখানে এমন জোরে আঘাত করা হবে যে, সে ভয়ানক চিৎকার করতে থাকবে। জিন ও মানুষ ব্যতীত নিকটবর্তী সবাই তার এ কান্নার আওয়াজ শুনতে পাবে। [আধুনিক প্রকা. ১২৫০, ই. ফাউন্ডেশন ১২৫৭**]

জাহান্নামীরা জাহান্নামে চিৎকার করতে থাকবে :

﴿وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضٰى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوْا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا كَذٰلِكَ نَجْزِيْ كُلَّ كَفُوْرٍ ‐ وَهُمْ يَصْطَرِخُوْنَ فِيْهَا رَبَّنَاۤ أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِيْ كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَّا يَتَذَكَّرُ فِيْهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ النَّذِيْرُ فَذُوْقُوْا فَمَا لِلظَّالِمِيْنَ مِنْ نَّصِيْرٍ﴾

যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের ব্যাপারে মৃত্যুর ফায়সালা হবে না আবার তাদের শাস্তিও হালকা করা হবে না। প্রত্যেক কাফিরকে আমি এভাবেই শাস্তি দেব। জাহান্নামে তারা চিৎকার দিতে থাকবে আর বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এর থেকে বের করুন। এবার আমরা সৎকাজ করব। আগে যা পাপ করেছি এবার তা করব না। আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদেরকে যে জীবন দিয়েছিলাম তাই যথেষ্ট ছিল; আর তোমাদের কাছে ভীতি প্রদর্শনকারীও এসেছিল। অতএব তোমরা শাস্তি ভোগ করো। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির : ৩৬, ৩৭)