hadith book logo

কান্নার ফযীলত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

কান্নার প্রকারভেদ

বিখ্যাত মুসলিম মনীষী ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) তাঁর লিখিত ‘‘যাদুল মা‘আদ’’ গ্রন্থে কান্নাকে কয়েকটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

ভয়ের কারণে কাঁদা :

কিছু কান্না আছে, যা ভয়ের কারণে হয়ে থাকে। যখন মানুষ কোন কারণে অধিক ভয় পায় তখন তারা কেঁদে দেয়। যেমন- আল্লাহর শাস্তির ভয়, মরণের ভয়, কঠিন বিপদের ভয় ইত্যাদি।

দয়া ও নম্রতার কারণে কাঁদা :

কিছু কান্না আছে, যা অধিক দয়া ও নম্রতার কারণে মানুষের মনের ভেতর থেকে বের হয়ে থাকে। যেমন- সন্তানের কষ্ট দেখে পিতা-মাতার কান্না, কোন মুসলিম ভাইয়ের কষ্ট দেখে অপর মুসলিম ভাইয়ের কান্না ইত্যাদি।

ভালোবাসার জন্য কাঁদা :

কিছু কান্না রয়েছে, যা মানুষ ভালোবাসা প্রদর্শন করণার্থে করে থাকে। যেমন- রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনে সাহাবীদের কান্না।

আনন্দের কারণে কাঁদা :

কিছু কিছু মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়েও কেঁদে ফেলে। যেমন- কঠিন বিপদের অবস্থায় আল্লাহর সাহায্য পেয়ে বান্দার কান্না, হারানো জিনিস ফিরে পাওয়ার খুশিতে কান্না ইত্যাদি।

আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে কাঁদা :

অনেক সময় মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণেও কেঁদে থাকে। আর এটা প্রায় মানুষের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

চিন্তার কারণে কাঁদা :

কিছু কিছু মানুষ অধিক চিন্তার কারণেও কেঁদে থাকে। যেমন- প্রিয় মানুষের স্মৃতির কথা চিন্তা করে কান্না, আসন্ন বিপদাপদের কথা চিন্তা করে কান্না ইত্যাদি।

দুর্বলতার কারণে কাঁদা :

দুর্বলতা মানুষকে অসহায়ত্বের দিকে ঠেলে দেয়। এক সময় তা কান্নায় রূপ নেয়। যেমন- মানসিক চাপের কারণে কান্না, আর্থিক দুর্বলতার কারণে কান্না, ক্ষমতার দুর্বলতার কারণে কান্না ইত্যাদি।

অর্থপ্রাপ্তির জন্য কাঁদা :

এরূপ কান্না হচ্ছে কৃত্রিম। কিছু কিছু মানুষ অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কান্নার ভান করে থাকে। যেমন- ভিক্ষাবৃত্তির জন্য কান্না, অভিনয় করে অর্থপ্রাপ্তির জন্য কান্না, কান্নার জন্য ভাড়াটিয়া মহিলার কান্না ইত্যাদি।

দেখাদেখি কাঁদা :

কিছু কিছু মানুষ রয়েছে, যারা অন্যের কান্না দেখলেই কেঁদে দেয়; অথচ তারা নিজেরা জানে না যে, কী কারণে সে কান্না করছে।