১
কান্নার ফযীলত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
পূর্বযুগের নবী ও তাদের উম্মতের কান্না
প্রত্যেক যুগের নবী-রাসূলগণ আল্লাহর বাণী শুনে কান্নায় লুটিয়ে পড়তেন :
পূর্বযুগে প্রেরিত নবী-রাসূল ও তাঁদের উম্মতের মুমিন বান্দাগণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটত। তাদের সামনে যখন আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হতো তখন তারা আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে কাঁদতেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا﴾
যখন তাদের নিকট দয়াময়ের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হতো, তখন তারা ক্রন্দন করতে করতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত। (সূরা মারইয়াম- ৫৮)
আহলে কিতাবের সত্যনিষ্ঠ লোকেরা কুরআন শুনে কান্না করত :
﴿وَاِذَا سَمِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَى الرَّسُوْلِ تَرٰۤى اَعْيُنَهُمْ تَفِيْضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوْا مِنَ الْحَقِّۚ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ ‐ وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللهِ وَمَا جَآءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ اَنْ يُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِيْنَ﴾
রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে যখন তারা তা শ্রবণ করে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে তার জন্য তুমি তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখবে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত করো। আর আমাদের জন্য এমন কী কারণ থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করব না? হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যাশা করি যে, আপনি আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। (সূরা মায়েদা- ৮৩, ৮৪)
হিজরতের কয়েক বৎসর পর একদা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৭০ জন লোক রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে কুরআনের বাণী শুনে অতিশয় মুগ্ধ হয়ে কান্না-কাটি করতে থাকে এবং চোখের পানি ফেলতে থাকে। তখন তাদের মুখে ‘‘রববানা- আ-মান্না’’ (হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনলাম) উচ্চারিত হতে থাকে। উক্ত আয়াতে তাদের অবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত :
﴿قُلْ اٰمِنُوْا بِهٖۤ اَوْ لَا تُؤْمِنُوْاؕ اِنَّ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهٖۤ اِذَا يُتْلٰى عَلَيْهِمْ يَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ سُجَّدًا – - وَيَقُوْلُوْنَ سُبْحَانَ رَبِّنَاۤ اِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُوْلًا ‐ - وَيَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ يَبْكُوْنَ وَيَزِيْدُهُمْ خُشُوْعًا﴾
বলো, তোমরা কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর বা না কর, নিশ্চয় ইতিপূর্বে যাদেরকে এর জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের নিকট যখনই এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র। আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবেই। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১০৭-১০৯)
মূসা (আঃ) এর ভাষণ শুনে তাঁর উম্মতের লোকেরা কান্না করত :
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ ... قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مُوْسٰى رَسُوْلُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ ذَكَّرَ النَّاسَ يَوْمًا حَتّٰى إِذَا فَاضَتِ الْعُيُوْنُ وَرَقَّتِ الْقُلُوْبُ
সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,... রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, একদিন আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) লোকদের মধ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তৃতার প্রভাবে লোকদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। অতঃপর তারা ভীষণ কান্নাকাটি করল। [সহীহ বুখারী, হা/৪৭২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১১৫৭।]
পূর্বযুগে প্রেরিত নবী-রাসূল ও তাঁদের উম্মতের মুমিন বান্দাগণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটত। তাদের সামনে যখন আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হতো তখন তারা আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে কাঁদতেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا﴾
যখন তাদের নিকট দয়াময়ের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হতো, তখন তারা ক্রন্দন করতে করতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত। (সূরা মারইয়াম- ৫৮)
আহলে কিতাবের সত্যনিষ্ঠ লোকেরা কুরআন শুনে কান্না করত :
﴿وَاِذَا سَمِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَى الرَّسُوْلِ تَرٰۤى اَعْيُنَهُمْ تَفِيْضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوْا مِنَ الْحَقِّۚ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ ‐ وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللهِ وَمَا جَآءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ اَنْ يُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِيْنَ﴾
রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে যখন তারা তা শ্রবণ করে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে তার জন্য তুমি তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখবে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত করো। আর আমাদের জন্য এমন কী কারণ থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করব না? হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যাশা করি যে, আপনি আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। (সূরা মায়েদা- ৮৩, ৮৪)
হিজরতের কয়েক বৎসর পর একদা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৭০ জন লোক রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে কুরআনের বাণী শুনে অতিশয় মুগ্ধ হয়ে কান্না-কাটি করতে থাকে এবং চোখের পানি ফেলতে থাকে। তখন তাদের মুখে ‘‘রববানা- আ-মান্না’’ (হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনলাম) উচ্চারিত হতে থাকে। উক্ত আয়াতে তাদের অবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত :
﴿قُلْ اٰمِنُوْا بِهٖۤ اَوْ لَا تُؤْمِنُوْاؕ اِنَّ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهٖۤ اِذَا يُتْلٰى عَلَيْهِمْ يَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ سُجَّدًا – - وَيَقُوْلُوْنَ سُبْحَانَ رَبِّنَاۤ اِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُوْلًا ‐ - وَيَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ يَبْكُوْنَ وَيَزِيْدُهُمْ خُشُوْعًا﴾
বলো, তোমরা কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর বা না কর, নিশ্চয় ইতিপূর্বে যাদেরকে এর জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের নিকট যখনই এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র। আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবেই। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১০৭-১০৯)
মূসা (আঃ) এর ভাষণ শুনে তাঁর উম্মতের লোকেরা কান্না করত :
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ ... قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مُوْسٰى رَسُوْلُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ ذَكَّرَ النَّاسَ يَوْمًا حَتّٰى إِذَا فَاضَتِ الْعُيُوْنُ وَرَقَّتِ الْقُلُوْبُ
সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,... রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, একদিন আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) লোকদের মধ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তৃতার প্রভাবে লোকদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। অতঃপর তারা ভীষণ কান্নাকাটি করল। [সহীহ বুখারী, হা/৪৭২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১১৫৭।]