hadith book logo

সাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য

লেখকঃ আব্দুর রাযযাক ইব্‌ন আব্দুল মুহসিন আল-বাদ্‌র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনচরিত অধ্যয়নের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নছীহতঃ

প্রিয় মুসলিম ভাই! আমাদের উচিৎ, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর জীবনী, তাঁদের সম্মান, মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশুনা করা। এক্ষেত্রে কুরআন মাজীদ দিয়ে শুরু করতে হবে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস পড়তে হবে। তারপর সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আরবা‘আহ, মাসানীদ, মা‘আজিম [. মা‘আজিম মাসানীদের মত (মাসানীদ-এর অর্থ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)। তবে উভয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য হল, মা‘আজিম গ্রন্থসমূহে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নামসমূহকে শুধুমাত্র আরবী বর্ণের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজানো হয় এবং কখনও কখনও একই বৈঠকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর হাদীস সমূহকে সর্বপ্রথম নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মাসানীদে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কে সাজানোর কয়েকটি ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। –অনুবাদক।], আজ্‌যা ইত্যাদি হাদীস গ্রন্থে উল্লেখিত আছার এবং ওলামায়ে কেরামের উক্তি পড়তে হবে। সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ফযীলত বিষয়ে পৃথকভাবে প্রণীত গ্রন্থসমূহও পড়তে হবে। কারণ, এই অধ্যয়ন থেকে আমরা অনেক উপকার লাভে ধন্য হব। তন্মধ্যেঃ-

এক. সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনী পড়লে তাঁদের প্রতি আমাদের ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাঁদের প্রশংসা, তাঁদের জন্য দো‘আ এবং ক্ষমা প্রার্থনার পথ প্রশস্ত হবে। তাঁদের সম্পর্কে সবসময় ভাল আলোচনার বিষয়টি সহজ হবে।

দুই. সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনচরিত পড়লে তাঁদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রতি আপনি যত্নশীল হতে পারবেন। আর আপনি জীবন চলার পথে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে যতবেশী সাদৃশ্য বজায় রাখতে পারবেন, কল্যাণের ততবেশী কাছাকাছি থাকতে পারবেন। কেননা মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ﴾ [ ال عمران : ١١٠ ]

‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে (আলে-ইমরান ১১০)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সর্বোত্তম মানুষ হলেন আমার যুগের মানুষ’। [. সহীহ বুখারী, হা/২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৩। হাদীসটি তাঁরা ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।] যেহেতু আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন, সেহেতু যতবেশী তাঁদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখা যাবে, যতবেশী কল্যাণের কাছাকাছি থাকা সম্ভব হবে।

তিন. সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে গালমন্দ করা, তাঁদেরকে নিন্দা-সমালোচনা করা ইত্যাদি নিকৃষ্ট কাজ থেকে আপনি সর্বোচ্চ দূরত্বে অবস্থান করতে পারবেন। সাহাবীগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁদের প্রশংসা করা, তাঁদেরকে সম্মান করা, তাঁদেরকে ভালবাসা এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার নির্দেশ আপনাকে দেওয়া হয়েছে। আর তাঁদের জীবনী অধ্যয়ন আপনাকে উপরোক্ত নির্দেশাবলী পালনে উৎসাহিত করে তুলবে।