১
সাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য
লেখকঃ আব্দুর রাযযাক ইব্ন আব্দুল মুহসিন আল-বাদ্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করাই দ্বীনকে নিন্দা করাঃ
পক্ষান্তরে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করাই হল দ্বীনকে নিন্দা করা। কারণ আলেমগণ বলছেন, ‘কোন কিছুর বর্ণনাকারীকে নিন্দা করার অর্থই হচ্ছে বর্ণিত বিষয়কে নিন্দা করা’। অতএব, যাঁরা আমাদের নিকট দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা যদি হন নিন্দিত, ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে সমালোচিত, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতার ক্ষেত্রে কলংকিত, তাহলে সেই দ্বীনের অবস্থা কি হতে পারে? নিশ্চয়ই সেই দ্বীনও হবে নিন্দিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ। সেজন্য ইমাম আবু যুর‘আহ আর-রাযী (রহঃ) বলেন,
إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَنْتَقِصُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم , فَاعْلَمُوْا أَنَّهُ زِنْدِيقٌ؛ وذَلِكَ أَنَّ الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم عِنْدَنَا حَقٌّ، وَالْقُرْآنَ حَقٌّ، وَإِنَّمَا أَدَّى إِلَيْنَا هَذَا الْقُرْآنَ وَالسُّنَنَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّمَا يُرِيدُونَ أَنْ يَجْرَحُوا شُهُوْدَنَا لِيُبْطِلُوْا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ، وَالْجَرْحُ بِهِمْ أَوْلَى، وَهُمْ زَنَادِقَةٌ .
‘তোমরা কাউকে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদার হানি করতে দেখলে জানবে যে, সে ‘যিনদ্বীক’ [. ‘যিনদীক্ব’ ফারসী শব্দ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে শব্দটি প্রসিদ্ধ ছিল না; আব্বাসীয় যুগে শব্দটির ব্যাপক পরিচিতি ঘটে। ইবনু ক্বুদামাহ (রহঃ) একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বলে এবং গোপনে কুফরী জিইয়ে রাখে, সে-ই হচ্ছে ‘যিনদীক্ব’। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এই শ্রেণীর লোককে ‘মুনাফিক্ব’ বলা হত, বর্তমান এদেরকে ‘যিনদীক্ব’ বলা হয়’ (আল-মুগনী, ৬/৩৭০)। কেউ কেউ বলেন, আল্লাহ্র প্রতি এবং আখেরাতে উত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না এমন বস্তুবাদী নাস্তিককে ‘যিনদীক্ব’ বলে। আবার কেউ কেউ বলেন, যে কোন দ্বীনকে বিশ্বাস করে না, তাকে ‘যিনদীক্ব’ বলে। তবে, ফক্বীহগণ এমর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ‘যিনদীক্ব’ হচ্ছে কাফের এবং পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে মুনাফিক্বের যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলিই ‘যিনদীক্ব’-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। –অনুবাদক।]। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট হক্ব, কুরআন আমাদের নিকট হক্ব। আর এই কুরআন এবং হাদীস আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। মূলতঃ শত্রুরা কুরআন ও হাদীসকে বাতিল করার হীন উদ্দেশ্যেই আমাদের প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে আঘাত করতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বস্তুতঃ তারাই নিন্দার উপযুক্ত এবং তারাই হচ্ছে যিনদীক্ব’। [. খত্বীব বাগদাদী, ‘আল-কিফায়াহ ফী ইল্মির রিওয়া-ইয়াহ’/৪৯।]
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যদি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ না হন, তাহলে যে দ্বীনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্র ইবাদত করি, সে দ্বীনের অস্তিত্ব কোথায় যাবে?!
একদল লোক পথভ্রষ্টতার অতল গভীরে নিমজ্জিত হয়ে হাতেগোণা কয়েকজন সাহাবী ব্যতীত সকল সাহাবীকে নিন্দা করে থাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি, অবস্থা যদি তা-ই হয়, তাহলে দ্বীন কোথায়?! আল্লাহ্র দ্বীনকে কিভাবে জানতে হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করা সম্ভব হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র তরে নামায আদায় করতে হবে এবং সেজদা করতে হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র ফরযসমূহ আদায় করতে হবে?! কিভাবে হজ্জ্ব করতে হবে?! কিভাবেই বা আল্লাহ্র আনুগত্য করতে হবে?!
সেজন্য আমাদের খুব ভালভাবে জানতে হবে, দ্বীনের ধারক-বাহক সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করার অর্থই হল সরাসরি দ্বীনকে নিন্দা করা। আমাদের আরো জানতে হবে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মূলতঃ দ্বীনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যেরই একটি অংশ। কেননা তাঁরাই এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। সুতরাং তাঁদেরকে নিন্দা করা হলে দ্বীনও নিন্দিত হবে।
إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَنْتَقِصُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم , فَاعْلَمُوْا أَنَّهُ زِنْدِيقٌ؛ وذَلِكَ أَنَّ الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم عِنْدَنَا حَقٌّ، وَالْقُرْآنَ حَقٌّ، وَإِنَّمَا أَدَّى إِلَيْنَا هَذَا الْقُرْآنَ وَالسُّنَنَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّمَا يُرِيدُونَ أَنْ يَجْرَحُوا شُهُوْدَنَا لِيُبْطِلُوْا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ، وَالْجَرْحُ بِهِمْ أَوْلَى، وَهُمْ زَنَادِقَةٌ .
‘তোমরা কাউকে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদার হানি করতে দেখলে জানবে যে, সে ‘যিনদ্বীক’ [. ‘যিনদীক্ব’ ফারসী শব্দ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে শব্দটি প্রসিদ্ধ ছিল না; আব্বাসীয় যুগে শব্দটির ব্যাপক পরিচিতি ঘটে। ইবনু ক্বুদামাহ (রহঃ) একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বলে এবং গোপনে কুফরী জিইয়ে রাখে, সে-ই হচ্ছে ‘যিনদীক্ব’। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এই শ্রেণীর লোককে ‘মুনাফিক্ব’ বলা হত, বর্তমান এদেরকে ‘যিনদীক্ব’ বলা হয়’ (আল-মুগনী, ৬/৩৭০)। কেউ কেউ বলেন, আল্লাহ্র প্রতি এবং আখেরাতে উত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না এমন বস্তুবাদী নাস্তিককে ‘যিনদীক্ব’ বলে। আবার কেউ কেউ বলেন, যে কোন দ্বীনকে বিশ্বাস করে না, তাকে ‘যিনদীক্ব’ বলে। তবে, ফক্বীহগণ এমর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ‘যিনদীক্ব’ হচ্ছে কাফের এবং পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে মুনাফিক্বের যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলিই ‘যিনদীক্ব’-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। –অনুবাদক।]। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট হক্ব, কুরআন আমাদের নিকট হক্ব। আর এই কুরআন এবং হাদীস আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। মূলতঃ শত্রুরা কুরআন ও হাদীসকে বাতিল করার হীন উদ্দেশ্যেই আমাদের প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে আঘাত করতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বস্তুতঃ তারাই নিন্দার উপযুক্ত এবং তারাই হচ্ছে যিনদীক্ব’। [. খত্বীব বাগদাদী, ‘আল-কিফায়াহ ফী ইল্মির রিওয়া-ইয়াহ’/৪৯।]
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যদি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ না হন, তাহলে যে দ্বীনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্র ইবাদত করি, সে দ্বীনের অস্তিত্ব কোথায় যাবে?!
একদল লোক পথভ্রষ্টতার অতল গভীরে নিমজ্জিত হয়ে হাতেগোণা কয়েকজন সাহাবী ব্যতীত সকল সাহাবীকে নিন্দা করে থাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি, অবস্থা যদি তা-ই হয়, তাহলে দ্বীন কোথায়?! আল্লাহ্র দ্বীনকে কিভাবে জানতে হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করা সম্ভব হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র তরে নামায আদায় করতে হবে এবং সেজদা করতে হবে?! কিভাবে আল্লাহ্র ফরযসমূহ আদায় করতে হবে?! কিভাবে হজ্জ্ব করতে হবে?! কিভাবেই বা আল্লাহ্র আনুগত্য করতে হবে?!
সেজন্য আমাদের খুব ভালভাবে জানতে হবে, দ্বীনের ধারক-বাহক সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করার অর্থই হল সরাসরি দ্বীনকে নিন্দা করা। আমাদের আরো জানতে হবে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মূলতঃ দ্বীনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যেরই একটি অংশ। কেননা তাঁরাই এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। সুতরাং তাঁদেরকে নিন্দা করা হলে দ্বীনও নিন্দিত হবে।