hadith book logo

কুরআনের আলোকে নূহ আলাইহিস সালামের দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

(ছ) পারস্পরিক কথোপকথন ও যুক্তিতর্ক খন্ডন:

ইসলামী দা‘ওয়াহকে ফলপ্রসু করার মাধ্যম হিসেবে নূহ আলাইহিস সালাম মাদ‘উদের সাথে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও কথোকপথন ( حوار )-এর পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এ পদ্ধতিতে দা’ঈর সাথে মাদ‘উদের সরাসরি মত বিনিময় ও যুক্তিতর্ক খন্ডন হয়। ফলে শ্রোতামন্ডলী তথা মাদ‘উদের অন্তরে জাগরিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান ঘটে। নূহ আলাইহিস সালাম সেজন্য স্বজাতিকে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ছলে একদিকে যেমন পথ প্রদর্শক হিসেবে এক আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য ও তাকওয়া অবলম্বনের দিকে আহবান করেছেন। [জুমআ’, আলী আল খাওলী, তারিখুদ দা‘ওয়াহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১০০।] অপরদিকে তেমনি উত্তমরূপে তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে যাবতীয় প্রশ্ন ও সন্দেহের মোকাবিলা করেন। [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ : ৫৯-৬২; সূরা হুদ : ৩২-৩৪।] পবিত্র কুরআনে এসেছে: ‘‘তারা বলল, হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। অতএব আপনার সে আযাব নিয়ে আসুন, যা সম্পর্কে আপনি আমাদেরকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি স্বীয় বক্তব্যে সত্যবাদী হয়ে থাকেন।’’ জবাবে নূহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে বলেন:

﴿ قَالَ إِنَّمَا يَأۡتِيكُم بِهِ ٱللَّهُ إِن شَآءَ وَمَآ أَنتُم بِمُعۡجِزِينَ ٣٣ ﴾ [ هود : ٣٣ ]

‘‘আযাব আমার অধিকারে নহে। ইহা একমাত্র আল্লাহর হুকুমে আসবে। তিনি ইচ্ছা করলে সে আযাব অবশ্যই আসবে এবং তোমরা তাঁহাকে অক্ষম করতে পারবে না।’’ [আল কুরআন, সূরা হুদ : ৩৩।] কিন্তু তাঁর এ যুক্তি-তর্ক বেহুদা ও বিফলে গিয়েছিল এবং সম্প্রদায়ের বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন বৃদ্ধি পেয়েছিল। [আন্-নাজ্জার মুহাম্মদ তাইয়্যেব, তারিখ আল আম্বিয়া ফি দু’য়িল কুরআন আল কারীম ওয়া আস্ সুন্নাহ আন্ নববীয়া, মাকতাবাতুল মা’আরেফ, রিয়াদ, ২য় সংস্করণ-১৯৮৩ খৃ. পৃ. ৬৬।]