১
কুরআনের আলোকে নূহ আলাইহিস সালামের দা‘ওয়াহ কার্যক্রম
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
(খ) উৎসাহ উদ্দীপনা ও ভয়ভীতি সঞ্চার:
তিনি স্বজাতিকে দা‘ওয়াত গ্রহণের নিমিত্বে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার কথা উল্লেখের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করতেন, যেন তাঁর সম্প্রদায় দুনিয়াতে শান্তি ও পরকালে মুক্তি লাভ করে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿قَالَ يَٰقَوۡمِ إِنِّي لَكُمۡ نَذِيرٞ مُّبِينٌ ٢ أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ ٣ يَغۡفِرۡ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمۡ وَيُؤَخِّرۡكُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ إِذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُۚ لَوۡ كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤ ﴾ [ نوح : ٢، ٤ ]
‘‘নূহ আলাইহিস সালাম বলল, হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের জন্য একজন সুস্পষ্ট সাবধানকারী। (আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যে,)তোমরা সকলে এক আল্লাহর দাসত্ব কর,তাঁকে ভয় কর এবং আমার অনুগত হও। তাহলে আল্লাহ তোমাদের অপরাধ মার্জনা করবেন,তোমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবেন। সত্য কথা এই যে, আল্লাহর নির্দিষ্ট সময় যখন আসে, তখন তা রোধ করা যায় না। তোমরা যদি জানতে তবে কতই না ভাল হত।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ২-৪।] অনুরূপভাবে তিনি তাদের সাথে এ প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হতেন যে,তোমরা যদি এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর,তাহলে তিনি তোমাদের উপর নে‘আমতরাজি বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদের জীবন যাত্রার মানকে সহজ করে দেবেন। ফলে সম্প্রদায়ের লোকরো তাঁর দা‘ওয়াতের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارٗا ١٠ يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارٗا ١١ وَيُمۡدِدۡكُم بِأَمۡوَٰلٖ وَبَنِينَ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ جَنَّٰتٖ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ أَنۡهَٰرٗا ١٢﴾ [ نوح : ١٠، ١٢ ]
‘‘অর্থাৎ আমি (নূহ) বলেছি! তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা চাও। নি:সন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।এরূপ করলে তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি দিয়ে ধন্য করবেন। তোমাদের জন্য বাগবাগিচা সৃষ্টি করবেন ও ঝর্ণা প্রবাহিত করবেন।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ১০-১২।] অপরদিকে তিনি দা‘ওয়াত গ্রহণ না করার ভয়াবহ পরিণতি ও আখেরাতের কঠিন শাস্তি সম্পর্কেও স্বজাতিকে সতর্ক করে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি নূহকে তার জাতির লোকদের নিকট এজন্য পাঠিয়েছি যে, এক ভয়ানক আযাব আসার পূর্বেই তুমি তোমার জাতির লোকদের সাবধান কর। [আল কুরআন, সূরা নূহ: ১।] মুকাতিল বলেন: এখানে ভয়ানক আযাব বলতে তুফানের মাধ্যমে তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে মারাকে বুঝানো হয়েছে। [আর-রাযী, ফখরুদ্দীন, আত্ তাফসীর আল কাবীর, দারু এহইয়া আত্ তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৮৯ খৃ. ১ম সংস্করণ, ৩য় খন্ড, পৃ. ১৩৪।] ইবন কাছীরের মতে, পরকালীন কঠিন শাস্তি দ্বারা মুশরিক অবস্থায় দুনিয়া হতে পরপারে পাড়ি জমানোকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [ইবন কাছীর, তাফসীর আল কুরআন আল আযীম, প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, পৃ. ২২৩।] আর এটা তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তির ভীতি প্রদর্শন মাত্র,যাতে তারা আখিরাতের ভীষণ পরিণাম সম্পর্কে অবগত হয়ে আল্লাহ প্রদত্ত বিধি বিধানের আনুগত্য করে।
﴿قَالَ يَٰقَوۡمِ إِنِّي لَكُمۡ نَذِيرٞ مُّبِينٌ ٢ أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ ٣ يَغۡفِرۡ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمۡ وَيُؤَخِّرۡكُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ إِذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُۚ لَوۡ كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤ ﴾ [ نوح : ٢، ٤ ]
‘‘নূহ আলাইহিস সালাম বলল, হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের জন্য একজন সুস্পষ্ট সাবধানকারী। (আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যে,)তোমরা সকলে এক আল্লাহর দাসত্ব কর,তাঁকে ভয় কর এবং আমার অনুগত হও। তাহলে আল্লাহ তোমাদের অপরাধ মার্জনা করবেন,তোমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবেন। সত্য কথা এই যে, আল্লাহর নির্দিষ্ট সময় যখন আসে, তখন তা রোধ করা যায় না। তোমরা যদি জানতে তবে কতই না ভাল হত।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ২-৪।] অনুরূপভাবে তিনি তাদের সাথে এ প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হতেন যে,তোমরা যদি এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর,তাহলে তিনি তোমাদের উপর নে‘আমতরাজি বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদের জীবন যাত্রার মানকে সহজ করে দেবেন। ফলে সম্প্রদায়ের লোকরো তাঁর দা‘ওয়াতের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارٗا ١٠ يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارٗا ١١ وَيُمۡدِدۡكُم بِأَمۡوَٰلٖ وَبَنِينَ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ جَنَّٰتٖ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ أَنۡهَٰرٗا ١٢﴾ [ نوح : ١٠، ١٢ ]
‘‘অর্থাৎ আমি (নূহ) বলেছি! তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা চাও। নি:সন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।এরূপ করলে তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি দিয়ে ধন্য করবেন। তোমাদের জন্য বাগবাগিচা সৃষ্টি করবেন ও ঝর্ণা প্রবাহিত করবেন।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ১০-১২।] অপরদিকে তিনি দা‘ওয়াত গ্রহণ না করার ভয়াবহ পরিণতি ও আখেরাতের কঠিন শাস্তি সম্পর্কেও স্বজাতিকে সতর্ক করে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি নূহকে তার জাতির লোকদের নিকট এজন্য পাঠিয়েছি যে, এক ভয়ানক আযাব আসার পূর্বেই তুমি তোমার জাতির লোকদের সাবধান কর। [আল কুরআন, সূরা নূহ: ১।] মুকাতিল বলেন: এখানে ভয়ানক আযাব বলতে তুফানের মাধ্যমে তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে মারাকে বুঝানো হয়েছে। [আর-রাযী, ফখরুদ্দীন, আত্ তাফসীর আল কাবীর, দারু এহইয়া আত্ তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৮৯ খৃ. ১ম সংস্করণ, ৩য় খন্ড, পৃ. ১৩৪।] ইবন কাছীরের মতে, পরকালীন কঠিন শাস্তি দ্বারা মুশরিক অবস্থায় দুনিয়া হতে পরপারে পাড়ি জমানোকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [ইবন কাছীর, তাফসীর আল কুরআন আল আযীম, প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, পৃ. ২২৩।] আর এটা তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তির ভীতি প্রদর্শন মাত্র,যাতে তারা আখিরাতের ভীষণ পরিণাম সম্পর্কে অবগত হয়ে আল্লাহ প্রদত্ত বিধি বিধানের আনুগত্য করে।