hadith book logo

কুরআনের আলোকে নূহ আলাইহিস সালামের দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

এক: নূহ আলাইহিস সালাম-এর পরিচয়:

নূহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর একজন মহাসম্মানিত, দৃঢ়চিত্ত ও উচ্চ মর্যাদাশীল রাসূল ছিলেন। তাঁর নাম ছিল আবদুশ-শাকুর অথবা আবদুল গাফ্ফার। [ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, বায়তুল মোকাররম-১৯৯৩,১৪শ খন্ড,পৃ. ২২৩।] অত্যধিক রোনাজারী ও ক্রন্দনের ফলে তাঁর উপাধি হয় নূহ। [মাহমুদ আলূসী, রুহুল মা‘আনী, মাকতাবাতে এমদাদীয়া, মুলতান, তা.বি, ৮ম খন্ড, পৃ. ১৪৯।] পরবর্তীতে এ উপাধিতেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল মানযাল। [আল মাওয়ারদী, তাফসীরুল মাওয়ারদী, দারুল কুতুব আল এলমিয়া, বৈরুত, লেবানন, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ. ১০৬।] নূহ আলাইহিস সালাম-এর বংশ তালিকা নিম্নরূপ: নূহ ইবন লামিক ইবন মাতুশালিহ ইবন খানুক (ইদ্রিছ আ.) ইবন ইয়ারুদ ইবন মাহলাঈল ইবন ক্বীনান ইবন আনওয়াশ ইবন শীশ আলাইহিস সালাম ইবন আদম আলাইহিস সালাম। [ইবন কাছীর,আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দারুদ দিয়ান লিত্ তুরাছ, মিশর, ১৯৮৮খৃ. ১ম খন্ড, পৃ. ৯৩-৯৪।] অতএব, নূহ আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালাম-এর অষ্টম পুরুষ। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে আদম আলাইহিস সালাম-এর ওফাতের ১২৬ বছর পর তাঁর জন্ম হয়। [ইবন কাছীর, কাছাছুল আম্বিয়া, মাকতাবাত আর-রিসালাহ, আম্মান, তা.বি. পৃ. ৪৯। তবে মতটি খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী টীকা থেকে তা আরও স্পষ্ট হবে। [সম্পাদক]] ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত আছে যে, আদম আলাইহিস সালাম ও নূহ আলাইহিস সালাম-এর মাঝখানে দশ কুরুন [ قرون এর অর্থ দীর্ঘ সময়, যুগ বা প্রজন্ম (Generation) । শতাব্দী নয়, যা এক শতাব্দীরও বেশী হতে পারে। পবিত্র কুরআনে قرون দ্বারা যুগের পর যুগকে বুঝানো হয়ে থাকে। এ মর্মে কুরআনে এসেছে, و كم أهلكنا من القرون من بعد نوح অর্থাৎ আমি নূহের পর অনেক উম্মতকে ধ্বংস করেছি। এখানে قرن অর্থ جيل বা প্রজন্ম (Generation)। ফলে আদম ও নূহের মাঝে হাজার হাজার বছরের ব্যবধান রয়েছে। দ্র. ইবন কাছীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, প্রাগুক্ত, ১ম খন্ড, পৃ. ৯৪।] ( قرون ) অতিক্রান্ত হয়েছে। নূহ আলাইহিস সালাম-এর জন্ম সন খৃ. পূ. ২৮৫০-৩৮০০ এর মধ্যবর্তী বলে অনুমিত হয়। [আবুদল মাজিদ দারয়াবাদী, তাফসীর মাজিদী, লাহোর, তা.বি. পৃ. ৩৩৮।] ভুপৃষ্ঠের কোন অঞ্চলে নূহ আলাইহিস সালাম-এর আবির্ভাব হয়েছিল সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত একটি বর্ণনা দ্বারা কিঞ্চিত সন্ধান পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে যে, নূহের জাহাজ প্লাবণের পর জুদী পর্বতের উপর থেমে ছিল। [আল কুরআন, সূরা হুদ: ৪৪।] আর এটি এশিয়ার অন্তর্গত ইরাকস্থ ‘‘মাওসেল’’ এলাকায় অবস্থিত। [মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল বুখারী, সহীহ আল বুখারী, অনুবাদ (বাংলা) মাও: আজিজুল হজ, হামিদিয়া লাউব্রেরী, ঢাকা-১৯৮১ইং, ৪র্থ খন্ড, পৃ. ৫১-৫২। ইবন আব্বাস জুদী সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি জাযিরার একটি পাহাড়। জাযিরা বলতে প্রাচীন আরবরা ইরাক, মওসুল ও তৎসংলগ্ন এলাকা বুঝাত। তবে আল্লামা আইনী রহ. জুদী পাহাড়কে মওসুলের পূর্ব দিক বলে নির্ধারণ করেছেন। [সম্পাদক]]