১
কুরআনের আলোকে নূহ আলাইহিস সালামের দা‘ওয়াহ কার্যক্রম
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
(ক) বিনয় ও নম্রভাবে দা‘ওয়াহ উপস্থাপন:
দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে বিনয় ও নম্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। বিনয় দা‘ঈকে মানুষের নিকটতম করে দেয় এবং তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও ভালবাসা সৃষ্টি করে। নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে অত্যন্ত নম্রতার সাথে দ্বীনের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন, যাতে করে তারা তা গ্রহণ করে। ফলে তিনি তাদেরকে ( قوم ) বা স্বজাতি বলে সম্বোধন করেছেন। [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৫৭; নূহ: ২; হুদ: ২৮,৩০।] এখানে قوم বলে তিনি তাদেরকে বুঝিয়েছেন যে,তিনি তাদের মধ্য হতে একজন। আর সম্প্রদায়ের লোকজন পরস্পর-পরস্পরের কল্যাণকামী হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি তাদের বংশগত ভাই হিসেবে তাদের কাছ থেকে বংশীয় কোমলতা, মায়া-মমতার আকাঙ্ক্ষী ছিলেন, যাতে করে সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে তাদের দূরবর্তী ও অমংগলকামী হিসেবে আখ্যায়িত না করে। পবিত্র কুরআনে এসেছে :
﴿ إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٠٦ ﴾ [ الشعراء : ١٠٦ ]
‘‘স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন (নূহের সম্প্রদায়কে) তাদের ভাই নূহ আলাইহিস সালাম বলল, তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’’ [আল কুরআন, সূরা আশ্ শুয়ারা: ১০৬।] এখানে أخ বলে বংশীয় ভাই বুঝানো হয়েছে এবং এর দ্বারা পরস্পরের মঙ্গল কামনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। [আব্দুল করিম যায়দান,আল মুসতাফাদু মিন কাসাসিল কুরআন লিদ্ দা‘ওয়াতি ওয়াদ দু’য়াতি, মুয়স্সাতুর রিসালাত, তা.বি, ১ম খন্ড, পৃ. ১৩১।] সম্প্রদায়ের সর্দার ও মোড়লগণ তাঁর দা‘ওয়াতের জবাবে বলল: আমরা মনে করি যে,আপনি প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছেন। [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৬০।] এহেন পীড়াদায়ক ও মর্মন্তুদ কথার জবাবে নূহ আলাইহিস সালাম উত্তেজিত ও ক্রোধান্বিত হবার পরিবর্তে সাদাসিধে ভাষায় তাদের সন্দেহ নিরসনে প্রবৃত্ত হলেন এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন :
﴿ قَالَ يَٰقَوۡمِ لَيۡسَ بِي ضَلَٰلَةٞ وَلَٰكِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٦١ أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي ﴾ [ الاعراف : ٦١، ٦٢ ]
‘‘হে আমার সম্প্রদায় আমার মধ্যে কোন পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে পয়গম্বর। আমি যা কিছু বলি পালনকর্তার নির্দেশেই বলি এবং আল্লাহ তা‘আলার পয়গামই তোমাদের কাছে পৌঁছাই।’’ [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৬১-৬২।] অনুরূপভাবে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করলে তিনি বিনীত সূরে বলেন:
﴿قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَءَاتَىٰنِي رَحۡمَةٗ مِّنۡ عِندِهِۦ فَعُمِّيَتۡ عَلَيۡكُمۡ أَنُلۡزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمۡ لَهَا كَٰرِهُونَ ٢٨ ﴾ [ هود : ٢٨ ]
‘‘হে আমার কওম! একটু ভেবে দেখ। যদি আমি আমার রবের পক্ষ হতে স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন। তারপরেও যদি তা তোমাদের চোখে না পড়ে তাহলে,আমি কি ইহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিতে পারি?’’ [আল কুরআন, সূরা হুদ: ২৭-২৮।] এমনিভাবে তিনি বিরুদ্ধবাদীদের যাবতীয় সন্দেহের নিরসন করেছেন।
﴿ إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٠٦ ﴾ [ الشعراء : ١٠٦ ]
‘‘স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন (নূহের সম্প্রদায়কে) তাদের ভাই নূহ আলাইহিস সালাম বলল, তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’’ [আল কুরআন, সূরা আশ্ শুয়ারা: ১০৬।] এখানে أخ বলে বংশীয় ভাই বুঝানো হয়েছে এবং এর দ্বারা পরস্পরের মঙ্গল কামনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। [আব্দুল করিম যায়দান,আল মুসতাফাদু মিন কাসাসিল কুরআন লিদ্ দা‘ওয়াতি ওয়াদ দু’য়াতি, মুয়স্সাতুর রিসালাত, তা.বি, ১ম খন্ড, পৃ. ১৩১।] সম্প্রদায়ের সর্দার ও মোড়লগণ তাঁর দা‘ওয়াতের জবাবে বলল: আমরা মনে করি যে,আপনি প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছেন। [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৬০।] এহেন পীড়াদায়ক ও মর্মন্তুদ কথার জবাবে নূহ আলাইহিস সালাম উত্তেজিত ও ক্রোধান্বিত হবার পরিবর্তে সাদাসিধে ভাষায় তাদের সন্দেহ নিরসনে প্রবৃত্ত হলেন এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন :
﴿ قَالَ يَٰقَوۡمِ لَيۡسَ بِي ضَلَٰلَةٞ وَلَٰكِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٦١ أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي ﴾ [ الاعراف : ٦١، ٦٢ ]
‘‘হে আমার সম্প্রদায় আমার মধ্যে কোন পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে পয়গম্বর। আমি যা কিছু বলি পালনকর্তার নির্দেশেই বলি এবং আল্লাহ তা‘আলার পয়গামই তোমাদের কাছে পৌঁছাই।’’ [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৬১-৬২।] অনুরূপভাবে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করলে তিনি বিনীত সূরে বলেন:
﴿قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَءَاتَىٰنِي رَحۡمَةٗ مِّنۡ عِندِهِۦ فَعُمِّيَتۡ عَلَيۡكُمۡ أَنُلۡزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمۡ لَهَا كَٰرِهُونَ ٢٨ ﴾ [ هود : ٢٨ ]
‘‘হে আমার কওম! একটু ভেবে দেখ। যদি আমি আমার রবের পক্ষ হতে স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন। তারপরেও যদি তা তোমাদের চোখে না পড়ে তাহলে,আমি কি ইহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিতে পারি?’’ [আল কুরআন, সূরা হুদ: ২৭-২৮।] এমনিভাবে তিনি বিরুদ্ধবাদীদের যাবতীয় সন্দেহের নিরসন করেছেন।