১
কুরআনের আলোকে নূহ আলাইহিস সালামের দা‘ওয়াহ কার্যক্রম
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
দা‘ওয়াতের প্রতিক্রিয়া:
নূহ আলাইহিস সালাম স্বজাতিকে সূদীর্ঘ পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহবান করেছিলেন। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কাওমের নিকট হতে তেমন কোন সাড়া পাননি। বরং তারা তাঁর বিরুদ্ধে পথভ্রষ্ট, পাগল, জাদুকর, মিথ্যুক, ঝগড়াটে, প্রভৃতি অপবাদ উত্থাপন করে। এমনকি তাঁকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার হুমকি দেয়। [আল কুরআন, সূরা আল আ’রাফ: ৬০; সূরা হিজর : ৬; সূরা আল ফোরকান : ৮; সূরা ছোয়াদ: ৪; সূরা হুদ: ৩২; সূরা আশ্ শুয়ারা: ১১৬।] এই দীর্ঘ দিনের প্রচার সত্ত্বেও প্রধানত: নিম্ন শ্রেণীর মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক তাঁর দা‘ওয়াত কবুল করে। যাদের সংখ্যা বিভিন্ন বর্ণনায় ছিল দশ,বাহাত্তর অথবা আশি। [ইবন কাছীর, কাছাছুল আম্বিয়া, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৩।] কুরআনের ভাষায় ﴿وَمَآ ءَامَنَ مَعَهُۥٓ إِلَّا قَلِيلٞ ٤٠ ﴾ [ هود : ٤٠ ] অর্থাৎ ‘তাঁর প্রতি অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান এনেছিল’। [আল কুরআন, সূরা হুদ: ৪০।] নূহ আলাইহিস সালাম-এর দা‘ওয়াতকে তারা মূলত: দু’ভাবে প্রত্যাখ্যান করত। প্রথমত: বাচনিক তথা বিভিন্ন বক্তব্য ও আপত্তি উপস্থাপনের মাধ্যম যথা, পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿ فَقَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ مَا نَرَىٰكَ إِلَّا بَشَرٗا مِّثۡلَنَا وَمَا نَرَىٰكَ ٱتَّبَعَكَ إِلَّا ٱلَّذِينَ هُمۡ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ ٱلرَّأۡيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمۡ عَلَيۡنَا مِن فَضۡلِۢ بَلۡ نَظُنُّكُمۡ كَٰذِبِينَ ٢٧ ﴾ [ هود : ٢٧ ]
‘‘তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল: আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না। আর আমাদের মধ্যে যারা দূর্বল ও স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কোন প্রাধান্য দেখিনা বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমরা মনে করি।’’ [আল কুরআন, সূরা হুদ: ২৭।] আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে বুঝা গেল যে,তাদের ধারণা এমন যে,যিনি রাসূল হবেন তিনি মানুষ ব্যতীত ফেরেশ্তা বা অন্য কিছু হবেন এবং সমাজের মোড়লগণ তাঁর সর্বপ্রথম অনুসারী হবে। দ্বিতীয়ত: কার্যগত তথা তাদের বাস্তব অবস্থা পেশ। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম-এর দা‘ওয়াত পেয়ে তারা পলায়ন করত, কানে আঙ্গুল প্রবেশ করে তা শুনা থেকে বিরত থাকত এবং কাপড় দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে রেখে দা‘ওয়াতের প্রতি অবজ্ঞা ও অহংকার প্রদর্শন করত। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿ فَلَمۡ يَزِدۡهُمۡ دُعَآءِيٓ إِلَّا فِرَارٗا ٦ وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوۡتُهُمۡ لِتَغۡفِرَ لَهُمۡ جَعَلُوٓاْ أَصَٰبِعَهُمۡ فِيٓ ءَاذَانِهِمۡ وَٱسۡتَغۡشَوۡاْ ثِيَابَهُمۡ وَأَصَرُّواْ وَٱسۡتَكۡبَرُواْ ٱسۡتِكۡبَارٗا ٧ ﴾ [ نوح : ٦، ٧ ]
‘‘আমার আহবান তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেয়াকে বৃদ্ধি করেছে। আর যখন আমি তাদেরকে ক্ষমার আহবান করতাম,তখন তারা কানে আঙুল প্রবেশ করত। নিজেদের কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে রাখত। নিজেদের আচরণে অনমনীয়তা ও অহংকার প্রদর্শন করত।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ৬-৭।]
﴿ فَقَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ مَا نَرَىٰكَ إِلَّا بَشَرٗا مِّثۡلَنَا وَمَا نَرَىٰكَ ٱتَّبَعَكَ إِلَّا ٱلَّذِينَ هُمۡ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ ٱلرَّأۡيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمۡ عَلَيۡنَا مِن فَضۡلِۢ بَلۡ نَظُنُّكُمۡ كَٰذِبِينَ ٢٧ ﴾ [ هود : ٢٧ ]
‘‘তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল: আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না। আর আমাদের মধ্যে যারা দূর্বল ও স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কোন প্রাধান্য দেখিনা বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমরা মনে করি।’’ [আল কুরআন, সূরা হুদ: ২৭।] আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে বুঝা গেল যে,তাদের ধারণা এমন যে,যিনি রাসূল হবেন তিনি মানুষ ব্যতীত ফেরেশ্তা বা অন্য কিছু হবেন এবং সমাজের মোড়লগণ তাঁর সর্বপ্রথম অনুসারী হবে। দ্বিতীয়ত: কার্যগত তথা তাদের বাস্তব অবস্থা পেশ। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম-এর দা‘ওয়াত পেয়ে তারা পলায়ন করত, কানে আঙ্গুল প্রবেশ করে তা শুনা থেকে বিরত থাকত এবং কাপড় দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে রেখে দা‘ওয়াতের প্রতি অবজ্ঞা ও অহংকার প্রদর্শন করত। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:
﴿ فَلَمۡ يَزِدۡهُمۡ دُعَآءِيٓ إِلَّا فِرَارٗا ٦ وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوۡتُهُمۡ لِتَغۡفِرَ لَهُمۡ جَعَلُوٓاْ أَصَٰبِعَهُمۡ فِيٓ ءَاذَانِهِمۡ وَٱسۡتَغۡشَوۡاْ ثِيَابَهُمۡ وَأَصَرُّواْ وَٱسۡتَكۡبَرُواْ ٱسۡتِكۡبَارٗا ٧ ﴾ [ نوح : ٦، ٧ ]
‘‘আমার আহবান তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেয়াকে বৃদ্ধি করেছে। আর যখন আমি তাদেরকে ক্ষমার আহবান করতাম,তখন তারা কানে আঙুল প্রবেশ করত। নিজেদের কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে রাখত। নিজেদের আচরণে অনমনীয়তা ও অহংকার প্রদর্শন করত।’’ [আল কুরআন, সূরা নূহ: ৬-৭।]