hadith book logo

ইখলাস

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

ইখলাস সম্পর্কে কিছু সতর্কতা:

১- আখেরাতের প্রতিদানের আশা করা: কিছু লোক ইবাদত বন্দেগীতে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের ব্যাপারে এতই বাড়াবাড়ি করেন যে, তারা মনে করেন আল্লাহ সালেহীন বান্দাহদেরকে পরোকালের যে সব প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন সে জন্য ইবাদত করা ইখলাসের পরিপন্থী ও ঘাটতি। যদিও তারা সাওয়াবের নিয়্যাতে ইবাদত করাকে ইবাদত বাতিল হয়ে যায় একথা বলেন না, তবে এভাবে আমল করাকে মাকরূহ বলেছেন। তারা আখেরাতের প্রতিদানের আশায় ইবাদত করাকে ‘মন্দ কর্মচারী’ (আমলকারী) মনে করেন।

একজন বিখ্যাত সূফী বলেছেন, “ইখলাস হলো, আমলের দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতে প্রতিদানের আশা না করা ও কারো কাছে কিছু না চাওয়া”।

রাবি‘আহ আল-‘আদাবীয়াহ (রাবেয়া বসরী) বলেছেন –যদি বর্ণনা সঠিক হয়- “আমি জাহান্নামের ভয়ে বা জান্নাতের আশায় কখনও ইবাদত করিনি। এতে আমি মন্দ আমলকারী হয়ে যেতাম। বরং আমি আল্লাহর ভালোবাসা তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ইবাদত করেছি”।

সুফীদের এসব মত কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী। কেননা আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের গুণ বর্ণনা করতে বলেছেন যে, তারা আল্লাহর ভয়ে ও আশায় ইবাদত করেন।

﴿ إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ ٩٠ ﴾ [ الانبياء : ٩٠ ]

“তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর আমাকে আশা ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট বিনয়ী”। [সূরা আল-আম্বিয়া: ৯০]

আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের গুণ বর্ণনায় বলেন,

﴿ وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ٦٥ ﴾ [ الفرقان : ٦٥ ]

“আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হল অবিচ্ছিন্ন”। [সূরা আল-ফুরকান: ৬৫]

আল্লাহর খলিল ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সম্পর্কে বলেন,

﴿ وَٱجۡعَلۡنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ ٨٥ وَٱغۡفِرۡ لِأَبِيٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ٨٦ وَلَا تُخۡزِنِي يَوۡمَ يُبۡعَثُونَ ٨٧ يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ ٨٨ إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ ٨٩ ﴾ [ الشعراء : ٨٥، ٨٩ ]

“আর আপনি আমাকে সুখময় জান্নাতের ওয়ারিসদের অন্তর্ভুক্ত করুন’। আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল’। আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না’। যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না’। তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে”। [সূরা আশ-শু‘আরা: ৮৫-৮৯]

আল্লাহ সূরা আল-মুতাফফিফীনে জান্নাতের নাজ নিয়ামতের বর্ণনা দেয়ার পরে মানুষকে তা অর্জনে প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত করেছেন,

﴿ وَفِي ذَٰلِكَ فَلۡيَتَنَافَسِ ٱلۡمُتَنَٰفِسُونَ ٢٦ ﴾ [ المطففين : ٢٦ ]

“আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা”। [সূরা আল্-মুতাফফিফীন: ২৬]

তাহলে সাওয়াবের আশা করা যাবে না একথা কিভাবে বলা যায়, অথচ আল্লাহর সমস্ত দীন বান্দাহকে জান্নাত কামনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দাওয়াত দিয়েছে। সব নবী রাসূল, সিদ্দীক, শহীদ, সকলেই জান্নাত কামনা করেছেন এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চেয়েছেন। অতএব, যারা জান্নাতের আশায় ও জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত করে তাকে মন্দ কর্মচারীর সাথে তুলনা করা বা দুর্বল মুরিদ বলা সঠিক নয়। [মাকাসিদুল মুকাল্লিফীন, আশকার, সংকলিত। পৃষ্ঠা ৪০৩।]