hadith book logo

ইখলাস

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

ইখলাসের ফায়েদা:

প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূর্ণ হতে হবে।

১- ব্যক্তি কাজটি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবে।

২- কাজটি কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া।

উপরিউক্ত দু’টি শর্তের কোনো একটি পাওয়া না গেলে কাজটি বিশুদ্ধ ও কবুল হবে না। এ ব্যাপারে কুরআনের দলিল হলো,

﴿فَمَن كَانَ يَرۡجُواْ لِقَآءَ رَبِّهِۦ فَلۡيَعۡمَلۡ عَمَلٗا صَٰلِحٗا وَلَا يُشۡرِكۡ بِعِبَادَةِ رَبِّهِۦٓ أَحَدَۢا ١١٠ ﴾ [ الكهف : ١١٠ ]

“সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে”। [সূরা আল-কাহফ: ১১০]

হাফিয ইবন কাসির রহ. বলেন, “এ দু’টি আমল কবুল হওয়ার শর্ত। তাই আমলটি একমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই হতে হবে এবং তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরি‘আত অনুযায়ী হতে হবে”।

তাই ইখলাসের ফায়েদা হচ্ছে:

১- অহংকার মুক্ত হওয়া। (কুরআনে বর্ণিত তিন ব্যক্তির ঘটনা, ‘ইকরামার ঘটনা ও আসহাবে কাহাফের ঘটনা)।

২- আল্লাহর সাহায্য লাভ। আল্লাহ বলেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُواْ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٤٥ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَنَٰزَعُواْ فَتَفۡشَلُواْ وَتَذۡهَبَ رِيحُكُمۡۖ وَٱصۡبِرُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ٤٦ وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ خَرَجُواْ مِن دِيَٰرِهِم بَطَرٗا وَرِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ بِمَا يَعۡمَلُونَ مُحِيطٞ ٤٧ ﴾ [ الانفال : ٤٥، ٤٧ ]

“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোন দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও। আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পর ঝগড়া করো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের ঘর থেকে অহঙ্কার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বের হয়েছে এবং আল্লাহর রাস্তায় বাধা প্রদান করে, আর তারা যা করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন”। [সূরা আল- আনফাল: ৪৫-৪৭]

৩- শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ বলেন,

﴿ وَلَقَدۡ هَمَّتۡ بِهِۦۖ وَهَمَّ بِهَا لَوۡلَآ أَن رَّءَا بُرۡهَٰنَ رَبِّهِۦۚ كَذَٰلِكَ لِنَصۡرِفَ عَنۡهُ ٱلسُّوٓءَ وَٱلۡفَحۡشَآءَۚ إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُخۡلَصِينَ ٢٤ ﴾ [ يوسف : ٢٤ ]

“আর সে মহিলা তার প্রতি আসক্ত হল, আর সেও তার প্রতি আসক্ত হত, যদি না তার রবের স্পষ্ট প্রমাণ প্রত্যক্ষ করত। এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয় সে আমার খালেস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত”। [সূরা: ইউসুফ: ২৪]

আল্লাহ আরো বলেন,

﴿قَالَ رَبِّ بِمَآ أَغۡوَيۡتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَأُغۡوِيَنَّهُمۡ أَجۡمَعِينَ ٣٩ إِلَّا عِبَادَكَ مِنۡهُمُ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ٤٠ ﴾ [ الحجر : ٣٩، ٤٠ ]

“সে বলল, ‘হে আমার রব, যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই যমীনে আমি তাদের জন্য (পাপকে) শোভিত করব এবং নিশ্চয় তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব’। তাদের মধ্য থেকে আপনার একান্ত বান্দাগণ ছাড়া”। [সূরা: আল-হিজর: ৩৯-৪০]

৪- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘য়াত লাভ করা।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَقَالَ : " لَقَدْ ظَنَنْتُ، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنْ لاَ يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ مَنْ قَالَ : لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ "

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ থেকে বেশি সৌভাগ্যবান হবে আপনার শাফায়াত দ্বারা কোন লোকটি? তখন তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে তোমার আগে কেউ এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না। কারণ হাদীসের ব্যাপারে তোমার চেয়ে অধিক আগ্রহী আর কাউকে আমি দেখিনি। কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত দ্বারা সর্বাধিক সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি হবে যে খালেস অন্তর থেকে বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। [বুখারী, হাদীস নং ৬৫৭০।]

৫- গুনাহ মাফ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যেমন উল্লিখিত হাদীসে বেতাকা, ব্যাভিচারিণী মহিলার কুকুরকে পানি পান করানো ও রাস্তা থেকে এক ব্যক্তির কাঁটা সরিয়ে ফেলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।