hadith book logo

ইখলাস

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

অন্তরের কাজের গুরুত্ব:

আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আতের মতে ঈমান হলো: মৌখিক স্বীকৃতি, আন্তরিক বিশ্বাস ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। বান্দাহর আমলের কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহের কারণে ঈমানের ঘাটতি দেখা দেয়।

ঈমানের পরিচিতির মধ্যে বান্দাহর অন্তরের কাজসমূহের অন্যতম মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ইখলাস। বরং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের চেয়ে অন্তরের কাজ নিশ্চিত ও গুরুত্বপূর্ণ। অন্তরের কাজের দ্বারাই বান্দাহর ঈমান ও কুফুরীর মাঝে পার্থক্য করা হয়। আল্লাহকে সিজদাকারী আর মূর্তিকে সিজদাকারী উভয়েই একই কাজ সম্পাদন করেছে, কিন্তু অন্তরের নিয়্যাতের ভিন্নতার কারণে একজন ঈমানদান আরেকজন কাফির।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. অন্তরের আমলের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “এটা ঈমানের মৌলিক উসুল ও দীনের অন্যতম মূলনীতি। যেমন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠা, তাঁর শুকরিয়া আদায়, তাঁর ফয়সালায় ধৈর্য ধারণ করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছে আশাবাদী হওয়া ও এরূপ অন্যান্য বিষয়সমূহ।

সম্মানিত আলেমগণের ঐক্যমতে উপরোক্ত কাজসমূহ সব সৃষ্টির উপর ফরয। মানুষ এতে তিন শ্রেণির। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী এবং কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। আবার তাদের কেউ কেউ কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী।

নিজের প্রতি যুলুমকারী হলো আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী বা নিষিদ্ধকাজে লিপ্তকারী।

আর মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হলো আল্লাহর ফরয আদেশমান্যকারী ও হারাম বর্জনকারী।

অন্যদিকে কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী দল হলো বান্দাহর উপর ফরযকৃত কাজসমূহ পালনের সাথে সাথে মুস্তাহাব কাজসমূহও পালন করা এবং হারাম কাজ বর্জনের সাথে সাথে মাকরূহ কাজসমূহও বর্জন করা। যদিও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ও কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী ব্যক্তি কখনও কখনও গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় তবে তা তাওবা দ্বারা মাফ হয়ে যায়, কেননা আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীকে পছন্দ করেন, আবার কখনও ভালো কাজের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। আবার কখনও বিপদাপদ বা অন্য কারণে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। [দেখুন, মাজমু‘উল ফাতাওয়া ১০/৫-৬।]

ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, অন্তরের কাজ হলো মূল আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ হলো অনুসারী ও পূর্ণতাদানকারী। নিয়্যাত হলো মানুষের রূহস্বরূপ আর আমল হলো শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ন্যায়। তাই যে ব্যক্তির রূহ চলে যাবে সে মারা যাবে। অতএব, অন্তরের কাজসমূহের আহকাম জানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আহকাম জানার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। [বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়েদ ৩/২৪৪।]

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, অন্তরের নিয়্যাত ব্যতীত প্রকাশ্যকাজ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা অন্তর হলো রাজা, আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হলো সেনাদল। রাজা খারাপ হলে সৈন্যদলও খারাপ হয়ে যায়। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

عَنْ عَامِرٍ، قَالَ : سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " أَلاَ وَإِنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً : إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الجَسَدُ كُلُّهُ، أَلاَ وَهِيَ القَلْبُ "

নু‘মান ইবন বশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে “জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল কলব”। [বুখারী, হাদীস নং ৫২।]