১
সঠিক আকীদা-বিশ্বাস ও যা এর পরিপন্থী
লেখকঃ শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
তৃতীয় নীতি: আসমানী কিতাবসমূহের ওপর ঈমান
এভাবে আল্লাহ তা‘আলার কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এ ঈমান স্থাপন করতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা আপন সত্যের ঘোষণা এবং এর প্রতি আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে তাঁর নবী ও রাসূলগণের ওপর অসংখ্য কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেন,
﴿لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلۡنَا مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلۡقِسۡطِۖ﴾ [ الحديد : 25]
“আমরা আমাদের রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফ ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِۚ﴾ [ البقرة :213]
“প্রথমদিকে মানুষ একই পথের অনুসারী ছিল। অনন্তর আল্লাহ নবীদের প্রেরণ করেন সঠিক পথের অুসারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং বিভ্রান্তদের জন্য ভীতি প্রদর্শণকারী হিসেবে। আর তাদের সাথে নাযিল করেন সত্যের প্রতীকসমূহ এ উদ্দেশ্যে যে, লোকদের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তিনি তার চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেন”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৩]
আর বিশদভাবে আমরা ঐসব কিতাবের ওপর ঈমান স্থাপন করবো যেগুলোর নাম আল্লাহ তা‘আলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন, তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবুর ও কুরআন।
* এগুলোর মধ্যে কুরআনই সর্বোত্তম ও সর্বশেষ কিতাব যা পূর্ববর্তী অপর কিতাবসমূহের সংরক্ষক ও সত্যয়নকারী। সমগ্র উম্মতকে এরই অনুসরণ করতে হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ সুন্নাতসহ এরই ফায়সালা মেনে নিতে হবে। কেননা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র জিন্ন ও ইনসানের প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি এই মহান কিতাব ‘কুরআন শরীফ’ নাযিল করেছেন, যাতে তিনি ইহা দ্বারা লোকদের মধ্যে ফায়সালা করেন। উপরন্তু, আল্লাহ তা‘আলা এই কুরআনকে তাদের অন্তরস্থ যাবতীয় ব্যাধির প্রতিকার, তাদের প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট প্রতিপাদক এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَهَٰذَا كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ مُبَارَكٞ فَٱتَّبِعُوهُ وَٱتَّقُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ﴾ [ الأنعام :155]
“আর, এটি এক মহাকল্যাণময় গ্রন্থ, যা আমরা অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরন কর এবং তাকওয়াপূর্ণ আচরণ-বিধি গ্রহণ কর। তাহলে তোমাদের প্রতি রহমত নাযিল হবে”। [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৫৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ﴾ [ النحل :89]
“আমরা মুসলিমদের জন্য প্রত্যেকটি বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা, পথ নির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ এই কিতাব তোমার কাছে অবতীর্ণ করলাম”। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯]
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فََٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ﴾ [ الأعراف : 158]
“(হে রাসূল) আপনি বলুন, হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি প্রেরিত সেই আল্লাহর রাসূল যিনি যমীন ও আকাশসমূহের একচ্ছত্র মালিক। তিনি ব্যতীত আর কোনো হক্ব মা‘বুদ নেই, তিনিই জীবন-মৃত্যু দান করেন। অতএব, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর নিরক্ষর নবীর প্রতি ঈমান আন, যে আল্লাহ ও তাঁর সকল বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর; যাতে তোমরা সরল সঠিক পথের সন্ধান লাভ করতে পার”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]
﴿لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلۡنَا مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلۡقِسۡطِۖ﴾ [ الحديد : 25]
“আমরা আমাদের রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফ ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِۚ﴾ [ البقرة :213]
“প্রথমদিকে মানুষ একই পথের অনুসারী ছিল। অনন্তর আল্লাহ নবীদের প্রেরণ করেন সঠিক পথের অুসারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং বিভ্রান্তদের জন্য ভীতি প্রদর্শণকারী হিসেবে। আর তাদের সাথে নাযিল করেন সত্যের প্রতীকসমূহ এ উদ্দেশ্যে যে, লোকদের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তিনি তার চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেন”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৩]
আর বিশদভাবে আমরা ঐসব কিতাবের ওপর ঈমান স্থাপন করবো যেগুলোর নাম আল্লাহ তা‘আলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন, তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবুর ও কুরআন।
* এগুলোর মধ্যে কুরআনই সর্বোত্তম ও সর্বশেষ কিতাব যা পূর্ববর্তী অপর কিতাবসমূহের সংরক্ষক ও সত্যয়নকারী। সমগ্র উম্মতকে এরই অনুসরণ করতে হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ সুন্নাতসহ এরই ফায়সালা মেনে নিতে হবে। কেননা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র জিন্ন ও ইনসানের প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি এই মহান কিতাব ‘কুরআন শরীফ’ নাযিল করেছেন, যাতে তিনি ইহা দ্বারা লোকদের মধ্যে ফায়সালা করেন। উপরন্তু, আল্লাহ তা‘আলা এই কুরআনকে তাদের অন্তরস্থ যাবতীয় ব্যাধির প্রতিকার, তাদের প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট প্রতিপাদক এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَهَٰذَا كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ مُبَارَكٞ فَٱتَّبِعُوهُ وَٱتَّقُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ﴾ [ الأنعام :155]
“আর, এটি এক মহাকল্যাণময় গ্রন্থ, যা আমরা অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরন কর এবং তাকওয়াপূর্ণ আচরণ-বিধি গ্রহণ কর। তাহলে তোমাদের প্রতি রহমত নাযিল হবে”। [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৫৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ﴾ [ النحل :89]
“আমরা মুসলিমদের জন্য প্রত্যেকটি বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা, পথ নির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ এই কিতাব তোমার কাছে অবতীর্ণ করলাম”। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯]
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فََٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ﴾ [ الأعراف : 158]
“(হে রাসূল) আপনি বলুন, হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি প্রেরিত সেই আল্লাহর রাসূল যিনি যমীন ও আকাশসমূহের একচ্ছত্র মালিক। তিনি ব্যতীত আর কোনো হক্ব মা‘বুদ নেই, তিনিই জীবন-মৃত্যু দান করেন। অতএব, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর নিরক্ষর নবীর প্রতি ঈমান আন, যে আল্লাহ ও তাঁর সকল বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর; যাতে তোমরা সরল সঠিক পথের সন্ধান লাভ করতে পার”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]