hadith book logo

সঠিক আকীদা-বিশ্বাস ও যা এর পরিপন্থী

লেখকঃ শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

যষ্ঠ নীতি: তাকদীরের ওপর ঈমান

তাকদীরের ওপর ঈমান বলতে নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ের ওপর ঈমান স্থাপনকে বুঝায়:

প্রথমত: এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, অতীতে যা কিছু ছিল এবং বর্তমান বা ভবিষ্যতে যা কিছু হবে তার সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলার জানা আছে। তিনি আপন বান্দাদের যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবহিত। তাদের রিযিক, তাদের মৃত্যুক্ষণ, তাদের দৈনন্দিন কার্যাবলীসহ অন্যান্য সব বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত, কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নেই। তিনি পাক-পবিত্র মহান। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ﴾ [ العنكبوت :62]

“নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তু সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত”। [সূরা আল-‘আনকাবুত, আয়াত: ৬২]

মহা মহীম আল্লাহ আরো বলেন,

﴿لِتَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ وَأَنَّ ٱللَّهَ قَدۡ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عِلۡمَۢا﴾ [ الطلاق : 12]

“যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সবকিছুর ওপর শক্তিমান এবং একথাও জানতে পার যে, আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুতেই পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে”।[সূরা আল-তালাক, আয়াত: ১২]

দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু নির্ধারণ ও সম্পাদন করেছেন সবকিছুই তাঁর লিখা রয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

﴿قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنقُصُ ٱلۡأَرۡضُ مِنۡهُمۡۖ وَعِندَنَا كِتَٰبٌ حَفِيظُۢ﴾ [ق: 4]

“পৃথিবী তাদের দেহ থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা আমার জানা আছে এবং আমার নিকট একটি সংরক্ষক কিতাব রয়েছে”। [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৪]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿وَكُلَّ شَيۡءٍ أَحۡصَيۡنَٰهُ فِيٓ إِمَامٖ مُّبِينٖ﴾ [ يس : 12]

“এবং আমরা প্রতিটি বস্তু একটি স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি”। [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ১২]

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

﴿أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ﴾ [ الحج :70]

“তোমার কি জানা নেই, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তা অবগত আছেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। তা আল্লাহর নিকট অতি সহজ”। [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭০]

তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার কার্যকরী ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই হয় এবং যা ইচ্ছা করেন না তা হয় না। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يَشَآءُ﴾ [ الحج :18]

“আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ১৮]

মহা মহীম আল্লাহ আরো বলেন,

﴿إِنَّمَآ أَمۡرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيۡ‍ًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ﴾ [ يس : 82]

“বস্তুত তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তার কাজ শুধু এই হয় যে, তিনি তাকে বলেন ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়”। [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৮২]

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

﴿وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ﴾ [ التكوير :29]

“আর আসলে তোমদের চাওয়ায় কিছু হয় না, যতক্ষণ না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চান”। [সূরা আত-তাকভীর, আয়াত: ২৯]

চতুর্থত: এই বিশ্বাস রাখা যে, সমগ্র বস্তুজগত আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি। তিনি ব্যতীত না আছে কোনো স্রষ্টা, না আছে কোনো প্রভু-প্রতিপালক।

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ﴾ [ الزمر : 62]

“আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সবকিছুর কর্মবিধায়ক”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬২]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡۚ هَلۡ مِنۡ خَٰلِقٍ غَيۡرُ ٱللَّهِ يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ﴾ [ فاطر :3]

“হে মানবমণ্ডলী, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি‘আমতসমূহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত কি তোমাদের কোনো স্রষ্টা আছে! যে তোমাদিগকে আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব মা‘বুদ নেই। সুতরাং তোমরা কোনো পথে পরিচালিত হচ্ছো”? [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩]

অতএব, তাকদীরের ওপর ঈমান বলতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতে উপরোক্ত চারটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকেই বুঝায়। পক্ষান্তরে বিদ‘আত পন্থীরা এর কোনো কোনোটি অস্বীকার করে থাকে।